রাশিয়াকে নিয়ে মন্তব্যের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় নেতাদের সংযত থাকতে বলল যুক্তরাষ্ট্র
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৯ এএম
পেন্টাগনের নীতিনির্ধারণবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কলবি। ছবি: গেটি ইমেজেস
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাশিয়াকে নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সামরিক জোট ন্যাটোর কয়েকটি দেশকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। ইউরোপীয় নেতাদের কিছু মন্তব্যের কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
এ বিষয়ে অবগত চার ব্যক্তির বরাতে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তিরা জানান, যেসব দেশকে প্রকাশ্য বক্তব্যে সংযত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে ইউরোপের অন্য দেশগুলোকেও একই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইউক্রেনে চলমান পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত অবসানের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে ইউক্রেনের হামলা বন্ধে কিয়েভের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মিত্রদের মধ্যে ব্যক্তিগত আলোচনা ব্যক্তিগতই থাকে। তাই এসব অভিযোগ নিয়ে আমরা মন্তব্য করব না।’
সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযান ধীরগতির হয়ে পড়ায় মস্কো কোণঠাসা হয়ে ক্রমেই মরিয়া পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে ইউরোপীয় নেতাদের দেওয়া কিছু বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে।
পেন্টাগনের নীতিনির্ধারণবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কলবি এসব বার্তা পৌঁছে দেওয়া মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন। ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি পর্যালোচনার চলমান প্রক্রিয়ায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তবে এ বিষয়ে আর কোন কোন মার্কিন কর্মকর্তা সম্পৃক্ত ছিলেন, তা নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স।
সূত্রগুলোর মধ্যে তিনজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা ও একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের কেউই বলেননি যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পরামর্শ কোনো ধরনের বিরোধপূর্ণ বা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে দেওয়া হয়েছে।
রাশিয়াকে উসকানি দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ
রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী মনোভাবের হুমকি নিয়ে প্রকাশ্যে কীভাবে বক্তব্য দেওয়া হবে, তা নিয়ে ন্যাটোর মধ্যে চলমান মতপার্থক্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এই বার্তায়।
পশ্চিমা কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করেন, মস্কোর হুমকি নিয়ে অতিরিক্ত প্রচার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে। তাদের মতে, ভয় ছড়িয়ে দেওয়া এবং ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা সমর্থন দুর্বল করাই ক্রেমলিনের লক্ষ্য।
অন্যদিকে, আরেক পক্ষের যুক্তি, রাশিয়াকে প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় ত্যাগ ও সম্পদের বিষয়টি জনগণকে বোঝাতে ইউরোপীয় সরকারগুলোর স্বচ্ছ অবস্থান নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার গোপন নাশকতামূলক তৎপরতা বাড়তে থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে রাশিয়া এ ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি রয়টার্সকে জানান, সম্প্রতি বাল্টিক অঞ্চলের এক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে এলব্রিজ কলবি রাশিয়াকে ‘উসকানি দেওয়া’ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। ইউরোপীয় নেতাদের পক্ষ থেকে রাশিয়াকে ‘কোণঠাসা ইঁদুরের মতো’ আখ্যা দেওয়ার বিষয়টিকে তিনি অনুপযুক্ত বক্তব্যের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
তবে কলবি ঠিক কোন বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। সেপ্টেম্বরে এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিখাল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘কোণঠাসা ইঁদুর’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান ক্রমেই স্থবির হয়ে পড়ায় পুতিন ইউরোপে নাশকতামূলক তৎপরতার আশ্রয় নিচ্ছেন।
পেন্টাগনের সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত বার্তা সম্পর্কে আরেক ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আপনাদের সহায়তা করছি। আমেরিকানরা আপনাদের পাশে রয়েছে। শুধু বেশি উচ্চবাচ্য করবেন না। শোরগোল সৃষ্টি করবেন না।’
সম্প্রতি আরেকটি বৈঠকে এস্তোনিয়ার একটি প্রতিনিধিদলকে নিজেদের বক্তব্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘পরিমিত’ থাকার পরামর্শ দেয় পেন্টাগন। বৈঠক সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্যের বিষয়ে পেন্টাগন অভিযোগ তুলেছিল কিনা, তা তিনি জানাননি।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা সাড়া দেয়নি। ন্যাটোও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

