জমিতে ধান কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের মুখে, যেভাবে বেঁচে ফিরলেন বৃদ্ধা
Advertisement
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম
হাসপাতালে বাসন্তী রায়। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একা ধান কাটতে যাওয়া এক বৃদ্ধার ওপর আচমকা চড়াও হয়েছিল একটি চিতাবাঘ। কিন্তু ভয় পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার বদলে হাতের ধান কাটার কাঁচি নিয়েই হিংস্র প্রাণীটির মুখোমুখি রুখে দাঁড়ান তিনি। কয়েক মিনিটের সেই অসম লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় চিতাবাঘটি।
রোববার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ব্লকের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতঙ্ক। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই বৃদ্ধাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আক্রান্ত ওই নারীর নাম বাসন্তী রায় (৬০)। ধূপগুড়ির মরাঘাট রেঞ্জের ঝাড়আলতা-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গারঘুটা এলাকায় তার বাড়ি। পাশেই খুট্টিমারি জঙ্গল। চাষাবাদ করেই মূলত জীবনযাপন করেন তিনি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন সকালে নিজেদের জমিতে একাই ধান কাটতে গিয়েছিলেন বাসন্তী। ধান কাটার একপর্যায়ে হঠাৎ তার ঠিক পেছনে এসে হাজির হয় একটি চিতাবাঘ। অসাবধানতাবশত মুখ ফেরাতেই চোখের সামনে সাক্ষাৎ মৃত্যুকে দেখতে পান তিনি।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই বন্য প্রাণীটি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বৃদ্ধা। কিন্তু অসম্ভবের সামনেও মনোবল হারাননি তিনি। আত্মরক্ষার্থে সে সময় তার একমাত্র ভরসা ছিল হাতের ধান কাটার কাঁচিটি। শক্ত হাতে সেই কাঁচি নিয়েই চিতাবাঘটির বিরুদ্ধে পালটা লড়াই শুরু করেন বাসন্তী। কয়েক মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে কাঁচির একের পর এক আঘাতে জর্জরিত হয়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটে চিতাবাঘটি। বৃদ্ধার সাহসিকতার মুখে পড়ে বাঘটি দ্রুত জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়।
এদিকে বাসন্তীর চিত্কারে আশপাশের জমি থেকে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
চিকিৎসকরা জানান, চিতাবাঘের থাবা ও কামড়ে বাসন্তীর বুক, কোমর এবং পায়ে গভীর ক্ষত হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে মরাঘাট রেঞ্জের সোনাখালি বিট অফিসের বনকর্মীরা হাসপাতালে গিয়ে আহত বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বাসন্তী বলেন, ‘হঠাৎ করেই ও আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কামড়ে ধরে। বুকে প্রচণ্ড আঘাত পাই। নখের আঁচড়ে কোমর আর পায়েও মারাত্মক জখম হয়, রক্তপাত শুরু হয়েছিল। তখন বাঁচার আর কোনো উপায় না দেখে হাতের কাঁচিটা দিয়েই পালটা আঘাত করতে শুরু করি। কিছুক্ষণ লড়াইয়ের পর বাঘটি নিজেই দৌড়ে পালিয়ে যায়।
