‘গাছের মগডাল থেকে নামুন’, রাজনৈতিক দলগুলোকে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৪ এএম
ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলের সাম্প্রতিক নির্বাচনে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দলগুলোর নেতাদের অনড় অবস্থান থেকে সরে এসে বাস্তবতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। নতুন নির্বাচন এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতায় পৌঁছানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১ নভেম্বর) ইসরাইলের প্রথম প্রেসিডেন্ট হাইম ভাইসম্যানের স্মরণে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে হারজগ বলেন, নির্বাচনের ফলাফল এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য। তাই নির্বাচনী প্রচারের সময় নেওয়া কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে পরবর্তী সরকার গঠনের পথ খুঁজতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আগামী বুধবার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল আমার কাছে হস্তান্তর করবেন। এরপর প্রেসিডেন্টের বাসভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করব। সব দল ও জোটের জন্য প্রেসিডেন্টের বাসভবনের দরজা খোলা থাকবে।’
হারজগ আরও বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হয়েছে। ফলাফল একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য, এটাই বাস্তবতা। তাই সব নেতাকে বলছি, গাছের মগডালে ওঠা বন্ধ করুন, বাস্তবতার মুখোমুখি হোন। আমরা তাদের সেই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে সহায়তা করার চেষ্টা করব।’
নির্বাচনী প্রচারের সময় রাজনৈতিক নেতারা অনেক উঁচু অবস্থান নেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে খোলা মন নিয়ে আলোচনা ও সৃজনশীল সমাধানের পথ খোঁজার, যাতে আবার নির্বাচন আয়োজন করতে না হয়।
প্রেসিডেন্টের বাসভবন থেকে জানানো হয়েছে, আগামী বুধবার ২৬তম নেসেটে নির্বাচিত দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবেন হারজগ। এসব আলোচনার পর সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে একজন আইনপ্রণেতাকে মনোনীত করবেন তিনি।
প্রেসিডেন্টের বাসভবনের মহাপরিচালক আইয়াল শভিকি জানান, নির্বাচিত সব দলের প্রধানকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সমঝোতার মানসিকতা নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
শভিকি বলেন, প্রেসিডেন্ট আশা করছেন, প্রতিনিধিরা খোলা মন নিয়ে আলোচনায় আসবেন, একে অপরের কথা শুনবেন এবং নতুন নির্বাচন এড়ানোর জন্য সমাধান খুঁজবেন। আলোচনা হবে মর্যাদাপূর্ণ, সম্মানজনক ও ফলপ্রসূ— এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
ইসরায়েলের চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদিপ্রধান দলগুলো পেয়েছে ৪৮টি আসন। ফলে কোনো পক্ষেরই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।
ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্বাধীন যৌথ তালিকা ও রা’আম পার্টি পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন। ফলে নতুন সরকার গঠনে তাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা ৬৭। তবে ইয়াশার, বি’ইয়াচাদ ও ইসরাইল বেইতেনু আগেই জানিয়েছে, তারা আরব ও অ-ইহুদিবাদী দলগুলোর সঙ্গে কোনো জোট সরকারে অংশ নেবে না।
যৌথ তালিকার আইনপ্রণেতা আহমদ তিবি শনিবার চ্যানেল ১২-কে জানিয়েছেন, তাদের দল নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদিবাদী দলগুলোর কোনো একজন নেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করবে। এ ক্ষেত্রে গাদি আইজেনকটই সম্ভাব্য পছন্দ। বিকল্প সরকার গঠিত হলে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
রা’আম পার্টিও আইজেনকটের পক্ষে সুপারিশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যান এখনো প্রকাশ্যে চূড়ান্ত অবস্থান জানাননি।
এদিকে ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান যৌথ তালিকার নেতা ইউসেফ জাবারিন ও আহমদ তিবির সঙ্গে জোট আলোচনা নিয়ে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে হিব্রু ভাষার কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। এর আগে তিনি রা’আমের প্রধান মানসুর আব্বাসের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদিপ্রধান দলগুলোর মধ্যে গোলানই একমাত্র নেতা, যিনি প্রকাশ্যে আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করে সরকার গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে রা’আমকে নিয়ে জোট সরকার গঠনের আগ্রহ দেখিয়েছেন তিনি।
এদিকে দক্ষিণ ইসরাইলের দিমোনা শহরের মেয়র বেনি বিটন দাবি করেছেন, নেতানিয়াহু জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করতে চান। এ জন্য বিরোধী পক্ষের আস্থার সংকট কাটাতে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হারজগ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সম্ভাব্য চুক্তির নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
রোববার কান রেশেত বেত রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিটন বলেন, ‘আমি সরাসরি জানাচ্ছি, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঐক্য চান। এটি কোনো রাজনৈতিক কৌশল বা নির্বাচনী প্রচারের অংশ নয়; তিনি নিশ্চিত হয়েই এ কথা বলছেন।
বিটন জানান, শনিবার হারজগের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তার মতে, প্রেসিডেন্ট হারজগ ও ট্রাম্প একসঙ্গে কাজ করলে নেতানিয়াহুর ওপর বিরোধী দলগুলোর অনাস্থা কাটানো সম্ভব হতে পারে। অতীতে ঐক্যের সরকারে অংশীদারদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ রয়েছে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে।
তবে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আলোচনায় জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের বিষয়টি সরাসরি উঠেছিল কি না, তা তিনি জানেন না বলে স্বীকার করেন।

