ব্রাজিলে ভয়াবহ ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, বিদ্যুৎহীন ৮২ হাজারের বেশি মানুষ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
মারিঙ্গা শহরে মধ্যরাত থেকে সকাল ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শহরটিতে ৩৯ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলীয় মারিঙ্গা শহরে শক্তিশালী ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ভোরে দেশটির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এ ঝড়ে উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি। এতে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মারিঙ্গা পোস্টের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু।
প্যারানা পরিবেশ প্রযুক্তি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (সিমেপার) জানিয়েছে, ঝড়ের সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮১ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। এ ছাড়া মধ্যরাত থেকে সকাল ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শহরটিতে ৩৯ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
প্যারানা এনার্জি কোম্পানি কোপেলের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন ৮২ হাজার ২০০টির বেশি গ্রাহক। এতে মারিঙ্গা শহরের প্রায় ৩৪ শতাংশ এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ঝড়ের আঘাতে উপড়ে পড়া গাছ সড়কে পড়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। এসব গাছের আঘাতে পার্ক করা গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি একটি গির্জার দেয়ালেও গাছ আছড়ে পড়ে।
এ ছাড়া বেশ কয়েকটি ভবন, বাড়ির ছাদ, ট্রাফিক সিগন্যাল ও একটি গ্যাস স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে শহরের ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ও রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মারিঙ্গার মেয়র সিলভিও বারোস জরুরি জনদুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের দ্রুত সহায়তা এবং জরুরি কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে পৌরসভার অবকাঠামো ও নগর রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মাঠে নামানো হয়েছে। তারা সড়ক থেকে উপড়ে পড়া গাছ সরানো, যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছেন।
এদিকে ঝড়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। উপড়ে পড়া গাছ ও ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুতের তার থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কারণ এসব তার থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুধু মারিঙ্গা নয়, প্যারানা রাজ্যের আরও কয়েকটি পৌরসভায় ঝড়ের প্রভাব পড়েছে। এসব এলাকায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু

-6ae2c099d2d0f.jpg)
