ইচ্ছাকৃত রোজা ভঙ্গের শরঈ বিধান কী?
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
রোজা ভঙ্গের বিধান। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রমজান মাসের রোজা ইসলামের একটি মৌলিক ফরজ বিধান। শরীয়তসম্মত ওজর (অপারগতা) ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গ করা ফরজ লঙ্ঘনের শামিল এবং ইসলামের অন্যতম ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি যদি বিনা কারণে রমজানের রোজা ভেঙে ফেলে, তবে তার ওপর কাফফারা ও কাজার বিধান প্রযোজ্য হয়। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলা একটি রোজার যে মর্যাদা ও ফজিলত নষ্ট হয়, তা পরবর্তীতে যত রোজাই রাখা হোক না কেন—পূর্ণভাবে ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব নয়। হাদিসে পাকে এসেছে—
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—
مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ رُخْصَةٍ وَلَا مَرَضٍ لَمْ يَقْضِ عَنْهُ صَوْمُ الدَّهْرِ وَإِنْ صَامَهُ
‘যে ব্যক্তি কোনো ওজর বা অসুস্থতা ছাড়া রমজানের একটি রোজা পরিত্যাগ করবে— সে যদি ওই রোজার পরিবর্তে সারা জীবন রোজা রাখে, তবুও ওই এক রোজার ক্ষতিপূরণ হবে না।’ (তিরমিজি ৭২৩)
ওজর থাকলে রোজা না রাখার বিধান
ইসলামে সহজতা রয়েছে। তাই অসুস্থতা ও সফরকালীন অবস্থায় রোজা না রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে নারীদের ঋতুস্রাব ও সন্তান প্রসব-পরবর্তী স্রাব (নিফাস) অবস্থায় রোজা রাখা নিষিদ্ধ। তবে এসব ক্ষেত্রে রোজা না রাখলেও পরবর্তী সময়ে ছুটে যাওয়া রোজাগুলো কাজা করে নেওয়া আবশ্যক। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
أَيَّامًا مَعْدُودَاتٍ ۚ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ
‘নির্দিষ্ট কয়েক দিন (অর্থাৎ রমজান মাসে) রোজা রাখতে হবে। তবে তোমাদের কেউ অসুস্থ হলে অথবা সফরে থাকলে, সে অন্য সময়ে (ছুটে যাওয়া) দিনগুলো পূর্ণ করে নেবে।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৪)
কাজা রোজা ভেঙে ফেললে করণীয়
রমজানের ছুটে যাওয়া রোজাগুলো যথাসম্ভব দ্রুত কাজা করে নেওয়াই উত্তম। কেউ যদি কাজা রোজা পালনের দিন সেই রোজা ভেঙে ফেলে, তাহলে ওই দিনের রোজার কাজা পুনরায় আদায় করা তার ওপর আবশ্যক। আর যদি কোনো শরীয়তসম্মত ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে কাজা রোজা ভেঙে ফেলে, তবে কাজা আদায়ের পাশাপাশি এই গুনাহের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে খাঁটি তওবা করাও অপরিহার্য।
রমজানের রোজা শুধু একটি ইবাদত নয়; এটি ইমানি দায়বদ্ধতার প্রতীক। বিনা ওজরে রোজা ভঙ্গ করা মারাত্মক গুনাহ এবং এর ক্ষতি পূর্ণভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া রোজা ভঙ্গ করা থেকে বেঁচে থাকা এবং কোনো কারণে রোজা ছুটে গেলে তা দ্রুত কাজা করে নেওয়ার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সচেতন হওয়াই একজন মুমিনের দায়িত্ব।
