ফিতরার টাকায় মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ০১:১০ এএম
মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাকাত ও ফিতরা হল ওয়াজিব সদকা। জাকাত সারা বছর দেওয়া যায় কিন্তু ফিতরা দিতে হয় ঈদের দু’একদিন আগে থেকে ঈদগাহে যাওয়ার আগ পর্যন্ত। কিন্তু প্রশ্ন হলো— ফিতরার টাকা দিয়ে কি মসজিদ নির্মাণ করা যাবে?
না, জাকাত ও ফিতরা তথা ওয়াজিব সদকা দ্বারা মসজিদ নির্মাণ করা যাবে না। এমনকি মসজিদে এ অর্থ দান করা জায়েজ নেই। মসজিদের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করার জন্য যাকাত ও ফিতরার টাকা দেয়া যাবে না। কারণ, ওয়াজিব সদাকা দেওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা আটটি খাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে সে খাতগুলোর কথা আল্লাহ তাআলা এভাবে তুলে ধরেছেন—
اِنَّمَا الصَّدَقٰتُ لِلۡفُقَرَآءِ وَ الۡمَسٰكِیۡنِ وَ الۡعٰمِلِیۡنَ عَلَیۡهَا وَ الۡمُؤَلَّفَۃِ قُلُوۡبُهُمۡ وَ فِی الرِّقَابِ وَ الۡغٰرِمِیۡنَ وَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ وَ ابۡنِ السَّبِیۡلِ ؕ فَرِیۡضَۃً مِّنَ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیۡمٌ حَكِیۡمٌ
‘নিশ্চয় সদাকা হচ্ছে ফকীর ও মিসকীনদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য; (তা বণ্টন করা যায়) দাস আজাদ করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। (সুরা তাওবা, আয়াত : ৬০)
মসজিদ এই আট খাতের মধ্যে পড়ে না, তাই মসজিদের নির্মাণ বা কোনো কাজে জাকাত-ফিতরার টাকা খরচ করা জায়েজ হবে না।
মনে রাখতে হবে
সদকাতুল ফিতর এমন প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, ঈদুল ফিতরের দিন অর্থাৎ ১ শাওয়াল ভোরে যার কাছে নিজের মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের বাইরে এমন পরিমাণ সম্পদ থাকে, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি। এ ক্ষেত্রে সম্পদ নগদ অর্থ, সোনা, রুপা কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের সম্পদ হতে পারে।
ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য ওই সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। একইভাবে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে এবং তার অধীনস্থ নাবালক সন্তানদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবেন।

