একই দিনে একাধিকবার ওমরাহ করা যাবে কি?
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
এক দিনে একাধিকবার ওমরাহ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইবাদতের মাঝে এমন কিছু আমল রয়েছে, যা মানুষের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে, গুনাহ মোচন করে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ করে দেয়। ওমরাহ তেমনই একটি মহিমান্বিত সুন্নত ইবাদত। সময় ও সুযোগের প্রাচুর্যে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— একই দিনে কি একাধিকবার ওমরাহ পালন করা যাবে? এ বিষয়ে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ওমরাহ একটি সুন্নত আমল। হজের নির্ধারিত পাঁচ দিন ছাড়া বছরের যে কোনো সময় ওমরাহ পালন করা যায়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন—
وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ
‘তোমরা হজ ও ওমরাহ আল্লাহর জন্য পূর্ণ কর।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৯৬)
একই দিনে একাধিক ওমরাহ
একই দিনে একাধিকবার ওমরাহ পালন করা জায়েজ। অনেক মুসল্লি সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার করতে এ আমলটি করে থাকেন। তবে প্রতিবার ওমরাহ সম্পন্ন করার পর ইহরাম থেকে মুক্ত হতে মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা ওয়াজিব।
যদি কেউ প্রথম ওমরাহ শেষে মাথা মুণ্ডিয়ে ফেলেন এবং দ্বিতীয়বার ওমরাহর সময় মাথায় পর্যাপ্ত চুল না থাকে, তাহলে বিধান হলো—মাথার ওপর দিয়ে শুধু ক্ষুর চালিয়ে নিতে হবে। অর্থাৎ, চুল থাকুক বা না থাকুক, নিয়ম পালনের জন্য মাথার ওপর দিয়ে একবার আলতো করে ক্ষুর চালালেই ইহরাম থেকে হালাল হওয়া যাবে।
ফিকহের কিতাবসমূহে, বিশেষ করে কিতাবুল মানাসিক-এ উল্লেখ আছে— যার মাথায় চুল নেই বা কোনো কারণে চুল কাটা সম্ভব নয়, সে মাথার ওপর দিয়ে ক্ষুর চালিয়ে নিলেই যথেষ্ট হবে। এটিই ফকিহদের মতে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি।
বাস্তব চিত্র
প্রতি বছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসলমান পবিত্র মক্কায় ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যান। অনেকেই স্বল্প সময়ে বেশি ইবাদতের সুযোগ গ্রহণ করতে একই দিনে একাধিক ওমরাহ আদায় করেন।
ওমরাহর ফজিলত
ওমরাহর মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ
‘তোমরা হজ ও ওমরাহ একের পর এক আদায় করো। কেননা এ দুটি দারিদ্র্য দূর করে এবং গুনাহ মুছে দেয়, যেমন হাঁপরের আগুন লোহা, সোনা ও রুপার ময়লা দূর করে।’ (তিরমিজি ৮১০)
অন্য এক হাদিসে এসেছে—
الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا
‘এক ওমরাহ থেকে আরেক ওমরাহ পর্যন্ত মধ্যবর্তী গুনাহসমূহের জন্য তা কাফফারা।’ (বুখারি ১৬৮৩, মুসলিম ৩৩৫৫)
ওমরাহর পরিচয় ও সময়
ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় ওমরাহ হলো— নিয়ত করে ইহরাম বাঁধা, কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে সাত চক্করে এক তাওয়াফ করা, সাফা-মারওয়ার মাঝে সাতবার সাঈ করা এবং শেষে মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা।
হজ নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ফরজ হলেও ওমরাহর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। তবে ৮ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ— এই পাঁচ দিনে ওমরাহ পালন করা বিধেয় নয়। এই সময় ছাড়া বছরের যেকোনো দিন ওমরাহ আদায় করা যায়।
ওমরাহ এমন এক ইবাদত, যা বারবার আদায় করার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার ছায়ায় আশ্রয় নিতে পারে। শরিয়তের দৃষ্টিতে একই দিনে একাধিক ওমরাহ করা বৈধ হলেও, প্রতিটি ওমরাহর শর্ত ও আদব যথাযথভাবে পালন করা জরুরি। অতএব, শুধু সংখ্যার দিকে না তাকিয়ে একাগ্রতা, খুশু-খুযু এবং আন্তরিকতার সঙ্গে ওমরাহ আদায় করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহিহভাবে ওমরাহ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

