Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

দুই গরুতে ৮-১০ জন শরিক হলে কি কুরবানি হবে? জানুন শরিয়তের স্পষ্ট বিধান

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

দুই গরুতে ৮-১০ জন শরিক হলে কি কুরবানি হবে? জানুন শরিয়তের স্পষ্ট বিধান

দুই গরুতে কয়েকজনের কুরবানি। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

কুরবানি মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে অনেক পরিবার, আত্মীয়স্বজন কিংবা বন্ধু মিলে গরু কুরবানি করেন। তবে কুরবানিতে শরিক হওয়ার নিয়ম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকায় অনেক সময় ভুল পদ্ধতিতে কুরবানি আদায় করা হয়। বিশেষ করে কয়েকজন মিলে দুই গরু কুরবানি করে পরে সমানভাবে গোশত ভাগ করার প্রচলন অনেক এলাকায় দেখা যায়। প্রশ্ন হলো—এভাবে কুরবানি করলে শরিয়তের দৃষ্টিতে কুরবানি শুদ্ধ হবে কি?

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, বড় পশু যেমন গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারেন। তাই যদি দুই গরুতে চারজন, পাঁচজন বা সর্বোচ্চ সাতজন ব্যক্তি শরিক হন এবং প্রত্যেকে উভয় গরুতে অংশীদার থাকেন, তাহলে তাদের কুরবানি শুদ্ধ হবে।

কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন শরিকের সংখ্যা সাতজনের বেশি হয়ে যায়। যেমন—আটজন, নয়জন বা দশজন ব্যক্তি যদি দুই গরুতে একসঙ্গে শরিক হন এবং প্রত্যেকে উভয় গরুতে অংশীদার থাকেন, তাহলে কারও কুরবানি শুদ্ধ হবে না। কারণ শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, একটি গরুতে একজনের অংশ এক-সপ্তমাংশের কম হওয়া বৈধ নয়। আর এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকের অংশ এক-সপ্তমাংশের নিচে নেমে যায়।

এ ক্ষেত্রে করণীয় কী?

যদি শরিকের সংখ্যা সাতজনের বেশি হয়, তাহলে প্রত্যেক গরুর শরিক আলাদা করে নির্ধারণ করতে হবে। যেমন—

> আটজন হলে প্রতি গরুতে চারজন করে শরিক হতে হবে।

> দশজন হলে প্রতি গরুতে পাঁচজন করে শরিক হতে হবে।

অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যক্তি নির্দিষ্ট একটি গরুতেই শরিক হবেন। এরপর সেই গরুর মূল্যের ভিত্তিতে প্রত্যেকের অংশের টাকা নির্ধারণ করতে হবে। এতে সবার কুরবানি সহিহভাবে আদায় হবে।

কুরবানি— আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মহান ইবাদত

কুরবানি কেবল পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং এটি তাকওয়া, আনুগত্য ও আত্মত্যাগের প্রতীক। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নামাজের সঙ্গে কুরবানির নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

‘সুতরাং আপনি আপনার রবের উদ্দেশে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন।’ (সুরা আল-কাওসার: আয়াত ২)

আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُم مِّن شَعَائِرِ اللَّهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ... لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ

‘আর কুরবানির উটকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছি; এতে তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে... আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশত বা রক্ত; বরং তার কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা আল-হজ: আয়াত ৩৬-৩৭)

এই আয়াতগুলো স্পষ্ট করে যে, কুরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাকওয়া বৃদ্ধি করা।

কার ওপর কুরবানি ওয়াজিব?

হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে যাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বাদে সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা কিংবা এর সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব। সুতরাং কুরবানি আদায়ের ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান সঠিকভাবে জানা ও মানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইবাদত তখনই কবুলযোগ্য হয়, যখন তা সঠিক নিয়মে আদায় করা হয়।

কুরবানি শুধু সামাজিক প্রথা নয়; এটি মহান আল্লাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই কুরবানিতে শরিক হওয়ার ক্ষেত্রেও শরিয়তের নির্ধারিত সীমা ও বিধান মেনে চলা জরুরি। অজ্ঞতা বা প্রচলিত রীতির কারণে যেন ইবাদত নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। সঠিক নিয়মে কুরবানি আদায়ের মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাকওয়া অর্জন সম্ভব।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম