Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

যৌথ পরিবারে কুরবানি নিয়ে বড় ভুল ধারণা! একজন দিলেই কি সবার আদায় হবে?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম

যৌথ পরিবারে কুরবানি নিয়ে বড় ভুল ধারণা! একজন দিলেই কি সবার আদায় হবে?

যৌথ পরিবারের কুরবানি। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

কুরবানি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলোর একটি। কিন্তু যৌথ পরিবারে বসবাসকারী অনেকের মাঝেই একটি প্রচলিত প্রশ্ন রয়েছে— পরিবারের প্রধান ব্যক্তি কুরবানি দিলে কি সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়? কেউ কেউ মনে করেন, এক বাড়িতে থাকলে একটি কুরবানিই যথেষ্ট। অথচ ইসলামি শরিয়তের বিধান এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট। কুরবানি মূলত পরিবারের নয়, বরং সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব হওয়া একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। তাই এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি।

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুসারে, কুরবানি কোনো পরিবারের ওপর ওয়াজিব হয় না; বরং এটি ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব হয়। অর্থাৎ পরিবারের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য— নারী বা পুরুষ— যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাকে আলাদাভাবে কুরবানি করতে হবে। যেমন— নামাজ প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর পৃথকভাবে ফরজ, একজনের নামাজে অন্যজনের দায়িত্ব আদায় হয়ে যায় না; কুরবানির বিষয়টিও ঠিক তেমন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ

‘কোনো ব্যক্তি অন্য কারও বোঝা বহন করবে না।’ (সুরা আন-নাজম: আয়াত ৩৮)

অনেকেই মনে করেন, যৌথ পরিবারে কেবল পরিবারের প্রধান কুরবানি দিলেই সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল-ফাতাওয়াল আলমগীরিয়্যাহ (৫/২৯২)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যৌথ পরিবার হোক কিংবা পৃথক পরিবার— প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর কুরবানি ওয়াজিব।

তবে কুরবানি যার নামেই হোক, যৌথ পরিবারের সবাই মিলে সেই গোশত রান্না করে খেতে পারবেন। এতে শরিয়তের কোনো বাধা নেই।

যৌথ পরিবারে কুরবানির গুরুত্বপূর্ণ বিধান

যৌথ পরিবারে অনেক সময় দুই ভাই বা বাবা-ছেলে মিলে একটি পশু কেনেন। এ ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান জানা জরুরি—

ছোট পশুতে একাধিক শরিক নয়

ছাগল, ভেড়া বা দুম্বার মতো ছোট পশুতে একাধিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানি করা যায় না। তাই দুই ভাই মিলে একটি ছাগল কোরবানি দিলে কারও কুরবানিই শুদ্ধ হবে না।

বড় পশুতে সর্বোচ্চ সাতজন শরিক হতে পারবেন

গরু, মহিষ বা উটের মতো বড় পশুতে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ— যৌথ পরিবারের পাঁচজন সদস্য যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তাহলে তারা পাচজন মিলে একটি গরু কুরবানি দিতে পারবেন। এতে প্রত্যেকের ওয়াজিব কুরবানি আদায় হয়ে যাবে।

এক ভাগে একাধিক ব্যক্তির নাম দেওয়া যাবে না

গরুর এক-সপ্তমাংশ বা একটি ভাগে একাধিক ব্যক্তি শরিক হতে পারবেন না। যদি এক ভাগে দুই ভাইয়ের নাম দেওয়া হয়, তাহলে সেই কুরবানি শুদ্ধ হবে না। এমনকি অন্য শরিকদের কুরবানিও অশুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

কুরবানি কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ وَجَدَ سَعَةً فَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا

‘যার কুরবানির সামর্থ্য রয়েছে, অথচ সে কুরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম ৩৫১৯)

যৌথ পরিবারে বসবাস করলেই কুরবানির দায়িত্ব একজনের ওপর সীমাবদ্ধ হয়ে যায় না। ইসলাম প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে পৃথকভাবে কুরবানির নির্দেশ দিয়েছে। তাই পারিবারিক প্রথা বা প্রচলিত ধারণার পরিবর্তে শরিয়তের সঠিক বিধান জানা এবং সে অনুযায়ী আমল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুদ্ধভাবে কুরবানি আদায়ের মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাকওয়া অর্জন সম্ভব।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম