কুরবানির নির্ধারিত সময় কতদিন? জেনে নিন শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ বিধান
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
কুরবানির পশু। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার এক মহান শিক্ষা। এই দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কুরবানি। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে— কুরবানি কি শুধু ঈদের দিনই করতে হবে, নাকি পরবর্তী দিনগুলোতেও করা যাবে? ইসলামি শরিয়ত এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। তাই সঠিক সময়ে ও শরিয়তসম্মতভাবে কুরবানি আদায় করতে হলে কুরবানির নির্ধারিত সময় সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি।
মহান আল্লাহ তাআলা কুরবানির নির্দেশ দিয়ে বলেন—
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
‘অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় কর এবং কুরবানি কর।’ (সুরা আল-কাওসার: আয়াত ২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ ذَبَحَ قَبْلَ الصَّلَاةِ فَإِنَّمَا ذَبَحَ لِنَفْسِهِ، وَمَنْ ذَبَحَ بَعْدَ الصَّلَاةِ فَقَدْ تَمَّ نُسُكُهُ وَأَصَابَ سُنَّةَ الْمُسْلِمِينَ
‘যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের আগে কুরবানি করল, সে নিজের জন্যই পশু জবাই করল। আর যে নামাজের পরে কুরবানি করল, তার কুরবানি সম্পন্ন হলো এবং সে মুসলমানদের সুন্নাহ অনুসরণ করল।’ (বুখারি ৫৫৪৫, মুসলিম ১৯৬১)
কুরবানির সময় কখন শুরু হয়?
হিজরি বছরের জিলহজ মাসের ১০ তারিখ পবিত্র ঈদুল আজহার দিন। এ দিন বিশ্ব মুসলিম ঈদের নামাজ আদায়ের পর কুরবানি করে থাকে। শরিয়তের দৃষ্টিতে ১০ জিলহজ ঈদের নামাজের পর থেকে কুরবানির সময় শুরু হয়।
তবে কুরবানি শুধু ঈদের দিনেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং ১০ জিলহজ থেকে শুরু করে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত কুরবানি করা বৈধ।
ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ফাতাওয়ায়ে আলমগীরি-তে উল্লেখ রয়েছে—
‘১০ জিলহজ ঈদের নামাজের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত কুরবানি করা যাবে। তবে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পর কুরবানি বৈধ নয়।
সফরে থাকলে কুরবানির বিধান
যদি কোনো ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, কিন্তু ১০ ও ১১ জিলহজ সফরে থাকেন এবং ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন, তাহলে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে। এ প্রসঙ্গে ফাতাওয়ায়ে আলমগীরি-তে বলা হয়েছে—
‘যদি কেউ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় এবং ১০ ও ১১ জিলহজ সফরে থাকে, অতঃপর ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে বাড়ি ফিরে আসে, তবে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে।
ঈদের নামাজের আগে কুরবানি কি বৈধ?
বিখ্যাত ফিকহগ্রন্থ কুদুরি-তে এসেছে— ‘ঈদুল আজহার দিন ঈদের নামাজের আগে কুরবানি করা বৈধ নয়। তবে যে স্থানে ঈদের নামাজ বা জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় না কিংবা ব্যবস্থা নেই, সে স্থানে ১০ জিলহজ ফজরের নামাজের পর কুরবানি করা বৈধ হবে।’
অর্থাৎ সাধারণভাবে ঈদের নামাজের আগে কুরবানি গ্রহণযোগ্য নয়। তবে যেসব এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় না, সেখানে ফজরের পর থেকেই কুরবানি করা যেতে পারে।
যারা প্রথম দিনে কুরবানি করতে পারেননি তাদের জন্য সুযোগ
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কুরবানির সময় মোট তিন দিন। তাই কোনো কারণে যদি কেউ ১০ জিলহজ কুরবানি করতে না পারেন, তাহলে তিনি ১১ ও ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত কুরবানি করার সুযোগ পাবেন।
এ সুযোগ ইসলামের সহজতা ও মানবিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।
কুরবানি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই সঠিক সময় ও শরিয়তের বিধান অনুযায়ী কুরবানি আদায় করা অত্যন্ত জরুরি। ঈদের দিন থেকে শুরু করে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কুরবানি করার সুযোগ থাকলেও, উত্তম হলো সময়মতো আন্তরিকতার সঙ্গে এ ইবাদত সম্পন্ন করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শুদ্ধ নিয়তে, সুন্নাহ অনুযায়ী কুরবানি আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

