মৃত্যুর আগে আল্লাহর কাছে যে ৭ জিনিস চেয়ে নেবেন
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মৃত্যু মানুষের জীবনের সবচেয়ে নিশ্চিত সত্য। কিন্তু কখন, কোথায় এবং কী অবস্থায় মৃত্যু আসবে—তা একমাত্র মহান আল্লাহই জানেন। একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় কামনা শুধু দীর্ঘ জীবন নয়; বরং এমন মৃত্যু, যার মাধ্যমে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন এবং যা আখিরাতের চিরস্থায়ী সফলতার সূচনা হয়।
তাই একজন ইমানদার বান্দা সবসময় আল্লাহর কাছে হুসনুল খাতিমাহ বা উত্তম পরিণতি কামনা করেন। কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ আমাদের শিখিয়েছে— মৃত্যুর সময়ের চেয়ে মৃত্যুর অবস্থা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই আসুন, আল্লাহর কাছে এমন কিছু বিষয় প্রার্থনা করি, যা আমাদের দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জীবনের জন্য কল্যাণকর। তাহলো—
১. হে আল্লাহ! আমাদের ইমানের ওপর মৃত্যু দান করুন
আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় কর এবং মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) অবস্থায় ছাড়া মৃত্যুবরণ কর না।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১০২)
২. হে আল্লাহ! নেক আমলের মধ্যে আমাদের মৃত্যু দান করুন
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِذَا أَرَادَ اللّٰهُ بِعَبْدٍ خَيْرًا اسْتَعْمَلَهُ
‘আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাঁকে নেক কাজে নিয়োজিত করেন।
সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, কীভাবে?
তিনি বললেন—
يُوَفِّقُهُ لِعَمَلٍ صَالِحٍ قَبْلَ مَوْتِهِ ثُمَّ يَقْبِضُهُ عَلَيْهِ
‘আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন মৃত্যুর আগে তাকে নেক আমলের তৌফিক দেন এবং সেই অবস্থায় তার মৃত্যু দেন।’ (তিরমিজি ২১৪২)
৩. হে আল্লাহ! মৃত্যুর সময় আমাদের মুখে কালিমা দান করুন
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ كَانَ آخِرُ كَلَامِهِ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ
‘যার সর্বশেষ কথা হবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (আবু দাউদ ৩১১৬)
৪. হে আল্লাহ! আমাদেরকে পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু দান করুন
একজন মুমিন সর্বদা পবিত্রতা বজায় রাখার চেষ্টা করবে। যদিও ওজু অবস্থায় মৃত্যু হলে বিশেষ কোনো সহিহ ফজিলত বর্ণিত নেই, তবুও পবিত্রতা ইসলামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ
‘পবিত্রতা ইমানের অর্ধেক।’ (মুসলিম ২২৩)
৫. হে আল্লাহ! যদি কল্যাণ হয়, জুমার দিন বা রাতে মৃত্যু দান করুন
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمُوتُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَوْ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ إِلَّا وَقَاهُ اللّٰهُ فِتْنَةَ الْقَبْرِ
‘যে মুসলিম জুমার দিন বা রাতে মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ তাকে কবরের ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখেন।’ (তিরমিজি ১০৭৪)
৬. হে আল্লাহ! মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তওবার তৌফিক দিন
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِنَّ اللّٰهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ
‘আল্লাহ বান্দার তওবা গ্রহণ করেন, যতক্ষণ না তার প্রাণ কণ্ঠাগত হয়।’ (তিরমিজি ৩৫৩৭)
৭. হে আল্লাহ! আমাদের উত্তম পরিণতি (হুসনুল খাতিমাহ) দান করুন
মুমিনের সর্বোচ্চ প্রার্থনা হওয়া উচিত— আল্লাহ যেন তার জীবন ও মৃত্যুকে কল্যাণময় করে দেন এবং জান্নাতকে তার চূড়ান্ত ঠিকানা বানান। আল্লাহ তাআলা বলেন—
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ
উচ্চারণ: ‘রব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরাও ওয়া তাওয়াফ্ফানা মুসলিমিন।’
অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আমাদের ওপর ধৈর্য বর্ষণ করুন এবং আমাদের মুসলিম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করান।’ (সুরা আল-আরাফ: আয়াত ১২৬)
যে বিষয়গুলো নিশ্চিতভাবে বলা ঠিক নয়
অনেকেই দোয়া করেন—
- মৃত্যু যেন ফজরের সময় হয়।
- মৃত্যু যেন নামাজরত অবস্থায় হয়।
- মৃত্যু যেন রমজানে হয়।
- মৃত্যু যেন জায়নামাজে হয়।
এগুলো কামনা করা দোষের নয়; তবে এগুলোকে উত্তম মৃত্যুর নিশ্চিত আলামত বা বিশেষ সুন্নত হিসেবে প্রচার করা ঠিক নয়। কারণ এ বিষয়ে সহিহ কুরআন বা হাদিসে নির্দিষ্ট কোনো দলিল নেই।
প্রকৃত সফলতা হলো—যে অবস্থায়ই মৃত্যু আসুক, তা যেন ইমান, তাওবা ও নেক আমলের ওপর আসে।
মৃত্যুর সময় আমাদের হাতে নেই; কিন্তু মৃত্যুর প্রস্তুতি আমাদের হাতেই রয়েছে। তাই সময়, স্থান বা বিশেষ পরিস্থিতির চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো—আমাদের ইমান, আমল, তওবা এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক।
আসুন, আমরা প্রতিদিন আল্লাহর কাছে দোয়া করি—
‘হে আল্লাহ! আমাদের ইমানের সঙ্গে জীবন দান করুন, ইমানের ওপর মৃত্যু দান করুন, নেক আমলের তৌফিক দিন, মৃত্যুর সময় আমাদের জিহ্বায় কালিমা জারি রাখুন এবং আমাদের হুসনুল খাতিমাহ নসিব করুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ইমানের সঙ্গে, নেক আমলের ওপর এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনকারী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

