তীব্র গরমে মানবসেবার আহ্বান জানালেন মসজিদে নববির ইমাম
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
পবিত্র মসজিদে নববির ইমাম শায়খ সালেহ আল-বুদাইর। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রকৃতির প্রতিকূলতা শুধু মানুষের ধৈর্যেরই পরীক্ষা নয়, বরং মানবিকতা ও সহমর্মিতারও এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষণ। তীব্র দাবদাহ, অসহনীয় গরম কিংবা পানির সংকটের সময় সমাজের অসহায় ও দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের অন্যতম মহান শিক্ষা। ঠিক এমনই এক মানবিক বার্তা দিয়েছেন মদিনার পবিত্র মসজিদে নববির ইমাম শায়খ সালেহ আল-বুদাইর। জুমার খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহকে স্মরণ করিয়ে দেন— অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘব করা, তৃষ্ণার্তদের জন্য পানির ব্যবস্থা করা এবং সৃষ্টির প্রতি দয়া প্রদর্শন করাও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
তীব্র গরমে মানবিক সহমর্মিতার আহ্বান
তীব্র দাবদাহ ও চরম গরমের মধ্যে সবার প্রতি বিশেষ সহানুভূতি প্রদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন মদিনার মসজিদে নববীর ইমাম শায়খ সালেহ আল-বুদাইর। একই সঙ্গে গ্রীষ্মের তাপদাহের প্রভাব থেকে মানুষকে স্বস্তি দিতে পারস্পরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) মসজিদে নববীতে প্রদত্ত জুমার খুতবায় তিনি এসব কথা বলেন।
দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ
খুতবায় শায়খ সালেহ আল-বুদাইর বিশেষভাবে দরিদ্র, শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষের কষ্টের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমের সময় যাদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই, তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া প্রতিটি সক্ষম মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।
তিনি আরও আহ্বান জানান, মানুষ ও পশুপাখি—উভয়ের সুবিধার্থে গণপরিসর, রাস্তাঘাট, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জনসমাগমস্থলে সহজলভ্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে। তার মতে, এমন উদ্যোগ শুধু মানবসেবাই নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনেরও একটি উত্তম মাধ্যম।
এর আগের খুতবায় ছিল সন্তানদের ইমানি শিক্ষার আহ্বান
এর আগে ২৪ জুলাই জুমার খুতবায় মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আবদুল-মুহসিন আল-কাসিম সন্তানদের নৈতিক ও ইমানি শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি সন্তানদের আল্লাহ তাআলার অর্পিত একটি মহান আমানত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শৈশব থেকেই তাদের হৃদয়ে ইমানের বীজ বপন করতে হবে। পাশাপাশি নামাজের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং কুরআন বুঝে পড়ার শিক্ষা দেওয়ার জন্য পিতা-মাতার প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান তিনি।
সুন্দর চরিত্র ও সুন্নাহভিত্তিক লালনের ওপর গুরুত্ব
খুতবায় শায়খ আল-কাসিম সন্তানদের সঙ্গে সদয় আচরণ, তাদের মেধা ও প্রতিভার যথাযথ বিকাশ এবং সুন্নাহর আলোকে তাদের লালন-পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, সন্তানদের সফলতা শুধু দুনিয়াবি শিক্ষা বা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাদের ইমান, উত্তম চরিত্র ও নৈতিকতা গঠনের দায়িত্বও পিতা-মাতার ওপর অর্পিত হয়েছে। তাই তাদের জন্য নিয়মিত দোয়া করা এবং ইসলামের আদর্শে গড়ে তোলার সর্বাত্মক চেষ্টা করা প্রত্যেক অভিভাবকের কর্তব্য।
খুতবার শেষাংশে তিনি বলেন, সুসন্তান গড়ে তোলা মা-বাবার যৌথ দায়িত্ব। এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে তা ইহকাল ও পরকাল—উভয় জীবনেই কল্যাণ, বরকত ও সফলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মসজিদে নববির দুই জুমার খুতবার আলোচনায় ইসলামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে— একদিকে মানবতার সেবা, অন্যদিকে পরিবার ও আগামী প্রজন্মকে ইমান ও নৈতিকতায় গড়ে তোলার দায়িত্ব। প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণার্ত মানুষের জন্য এক গ্লাস পানি পৌঁছে দেওয়া যেমন একটি মহৎ ইবাদত, তেমনি সন্তানের হৃদয়ে আল্লাহর ভালোবাসা ও ইসলামের শিক্ষা রোপণ করাও একটি চলমান সদকায়ে জারিয়া।
আজকের বিশ্বে যখন একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ছে, অন্যদিকে নৈতিক অবক্ষয়ও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন মসজিদে নববির এই দুই খুতবার শিক্ষা আমাদের জন্য সময়োপযোগী ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সব ক্ষেত্রেই যদি আমরা সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ এবং ইসলামের আদর্শকে বাস্তবে ধারণ করি, তবে একটি আরও মানবিক, কল্যাণময় ও আল্লাহভীরু সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, ইনশাআল্লাহ।

