আখলাকের অবনতি থেকে বাঁচতে নবীজির (সা.) শেখানো দোয়া
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একজন মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার চেহারা, সম্পদ কিংবা সামাজিক অবস্থানে নয়; বরং তার চরিত্র, শালীনতা ও উত্তম আখলাকে। ইসলাম মানুষের বাহ্যিক আমলের পাশাপাশি অন্তরের পবিত্রতা ও চরিত্রের বিশুদ্ধতার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ চরিত্র নষ্ট হলে ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজ—সবকিছুই ধীরে ধীরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই অশ্লীলতা ও কুপ্রবৃত্তি থেকে বাঁচতে নবীজি (সা.) একটি শক্তিশালী দোয়া শিখিয়েছেন। কী সেই দোয়া?
চারিত্রিক স্খলন তথা অশ্লীলতা ও কুপ্রবৃত্তি থেকে বাঁচতে নবীজির (সা.) শেখানো দোয়া— হজরত কুতবাহ ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত এই দোয়া করতেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الْأَخْلَاقِ وَالْأَعْمَالِ وَالْأَهْوَاءِ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাকি ওয়াল আ‘মালি ওয়াল আহওয়ায়ি।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চরিত্র, অসৎ কর্ম এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (তিরমিজি ৩৫৯১, মুসনাদ আহমাদ ১৬৩৩৮)
ইসলাম অশ্লীলতা ও কদর্যতা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়
ইসলাম পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা, শালীনতা এবং সুস্থ রুচির ধর্ম। তাই ইসলামে সব ধরনের অশ্লীল, অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও নির্লজ্জ কাজ এবং কথাবার্তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যভিচার, নগ্নতা, সমকামিতা, মাহরাম আত্মীয়কে বিয়ে করা, অপবাদ দেওয়া, গালাগালি করা, কটু কথা বলা এবং সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেয়—এমন সব আচরণ ইসলামে হারাম ও নিন্দনীয়।
কুরআনের নির্দেশ
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ
‘বলুন, আমার রব তো হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন সব অশ্লীল কাজ, পাপ, অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন, আল্লাহর সঙ্গে এমন কিছুকে শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি নাজিল করেননি এবং আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলা যা তোমরা জানো না।’ (সুরা আল-আরাফ: আয়াত ৩৩)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَيَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ ۚ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচার এবং আত্মীয়স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন। আর তিনি অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।’ (সুরা আন-নাহল: আয়াত ৯০)
অশ্লীলতা আল্লাহর অপছন্দনীয়
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
لَا أَحَدَ أَغْيَرُ مِنَ اللَّهِ، وَلِذَلِكَ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ
‘আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন আর কেউ নেই। এ কারণেই তিনি সব ধরনের অশ্লীলতাকে হারাম করেছেন।’ (বুখারি ৫২২০, মুসলিম ২৭৬০)
নিজেকে পবিত্র রাখার চেষ্টা করুন
একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো সব ধরনের অশ্লীলতা, কুরুচিপূর্ণ আচরণ এবং গুনাহ থেকে নিজেকে দূরে রাখা। শুধু বাহ্যিক আমল নয়, নিজের চিন্তা, দৃষ্টি, ভাষা এবং চরিত্রকেও পবিত্র রাখার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য আত্মসংযম, সৎ সঙ্গ, নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, আল্লাহর জিকির এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়াগুলো নিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো মানুষই নিজের নফস ও শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকতে পারে না।
চরিত্র একজন মুমিনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। ঈমানের সৌন্দর্য তখনই পরিপূর্ণতা লাভ করে, যখন তা উত্তম আখলাক, শালীনতা এবং পবিত্র জীবনযাপনের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তাই অশ্লীলতা ও কুপ্রবৃত্তির এ যুগে আমাদের প্রত্যেকের উচিত আল্লাহর কাছে বেশি বেশি আশ্রয় প্রার্থনা করা, নিজের চরিত্রকে হিফাজত করা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এই দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তরকে পবিত্র রাখুন, আমাদের চরিত্রকে সুন্দর করুন, সব ধরনের অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও কুপ্রবৃত্তি থেকে হেফাজত করুন এবং উত্তম আখলাকের অধিকারী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।

