মসজিদ-মাদরাসার ফান্ডের জমা টাকার জাকাত দিতে হবে কি?
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
ছবি: জেমিনি এআই
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পঞ্চস্তম্ভের একটি হলো জাকাত। এটি কেবল কোনো দান-সদকা নয়, বরং নির্ধারিত নেসাবের মালিক সম্পদশালী মুসলিমদের ওপর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অর্পিত এক আবশ্যিক দায়িত্ব। সঠিক নিয়মে জাকাত আদায়ের মাধ্যমে সম্পদ পবিত্র হয় এবং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু জাকাত কখন ফরজ হয়, কোন সম্পদে দিতে হয় এবং সর্বসাধারণের ব্যবহৃত বা ওয়াক্ফকৃত সম্পদে এর বিধান কী—তা সঠিকভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি।
মসজিদ-মাদরাসার ফান্ডের টাকার জাকাতের বিধান
মসজিদ-মাদরাসার ফান্ডে রক্ষিত অর্থ বা সম্পদ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত মালিকানাধীন নয়; বরং তা মসজিদ-মাদরাসার নির্মাণ, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে ওয়াক্ফকৃত জনগণের সম্পদ। শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের ওপর পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিগত মালিকানা থাকা শর্ত। তাই মসজিদ-মাদরাসার ফান্ডে যত টাকাই গচ্ছিত থাকুক না কেন, তার ওপর কোনো জাকাত আবশ্যক হয় না। কারণ জাকাত এমন সম্পদের ওপর ওয়াজিব হয়, যা কোনো বালেগ, সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন মুসলিম ব্যক্তির মালিকানাধীন।
জাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত ও নেসাব
কোনো প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিমের কাছে যদি শরিয়ত নির্ধারিত সীমা (নেসাব) পরিমাণ বর্ধনশীল সম্পদ থাকে এবং তা হিজরি বর্ষ হিসেবে টানা এক বছর তার পূর্ণ মালিকানায় বজায় থাকে, তবেই তিনি ইসলামের দৃষ্টিতে ধনী হিসেবে গণ্য হবেন এবং তার ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে।
জাকাত মূলত ৪ ধরনের বর্ধনশীল সম্পদের ওপর ওয়াজিব হয়—
- স্বর্ণ
- রৌপ্য
- ব্যবসায়িক পণ্য
- নগদ অর্থ
নেসাবের পরিমাপ ও হিসাব
স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত তোলা (৮৭.৪৫ গ্রাম) এবং রৌপ্যের ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন তোলা (৬১২.৩৫ গ্রাম) হলো নেসাব। নগদ অর্থ বা ব্যবসায়িক পণ্যের ক্ষেত্রে রৌপ্য বা স্বর্ণের নেসাবের বাজারমূল্যের সমপরিমাণ অর্থ থাকলে তা নেসাব ধরে হিসাব করতে হয়।
সম্পদ যেদিন নেসাব পূর্ণ করবে, সেদিন থেকেই জাকাতের বছর গণনা শুরু হবে। বছরান্তে মালিকানায় থাকা মোট বর্ধনশীল সম্পদের ২.৫% বা ১/৪০ অংশ জাকাত হিসেবে আদায় করা ফরজ।
জাকাত ইসলামের বিধান অনুযায়ী একটি নির্ধারিত ইবাদত, যার নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন রয়েছে। কার সম্পদে জাকাত ফরজ আর কোন ফান্ড মুক্ত—তা জানা এবং সঠিকভাবে নিজের জাকাত হিসাব করে আদায় করা প্রতিটি মুসলিমের ইমানি দায়িত্ব। যথাসময়ে সঠিক খাতে জাকাত প্রদানের মাধ্যমেই আমরা আমাদের উপার্জনকে পবিত্র করতে পারি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।

