Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

জীবনসঙ্গী নির্বাচনে মুফতি মেন্‌ক-এর দিকনির্দেশনা

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

জীবনসঙ্গী নির্বাচনে মুফতি মেন্‌ক-এর দিকনির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

জীবনসঙ্গী নির্বাচন মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কিন্তু অনেক সময় সঠিক পাত্র-পাত্রী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু গুরুতর বিষয় নজর এড়িয়ে যায়। সম্প্রতি এক ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় দাঈ মুফতি মেন্‌ককে প্রশ্ন করা হয়েছিল— বিবাহের জন্য পাত্র বা পাত্রী খোঁজার সময় কোন বিষয়গুলোকে সতর্কসংকেত বা ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত?

উত্তরে মুফতি মেন্‌ক বলেন, জীবনসঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে নানাবিধ ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা সতর্কসংকেত থাকে। বিয়ে বা জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের এই ধাপটিতে ভুল সিদ্ধান্ত জীবনকে জটিল করে তুলতে পারে।

প্রধান সতর্কসংকেত বা ‘রেড ফ্ল্যাগ’সমূহ

বিয়ের পর বদভ্যাস ত্যাগের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি

হবু জীবনসঙ্গীর যদি অত্যন্ত বাজে কোনো অভ্যাস বা আসক্তি থাকে এবং সে বলে, ‘চিন্তার কিছু নেই, বিয়ের পর ইনশাআল্লাহ নিজেকে শুধরে নেব’— তবে তা একটি সুস্পষ্ট বিপদের সংকেত। মুফতি মেন্‌ক স্পষ্ট করেন যে, যেকোনো বড় বদভ্যাস বিয়ের আগেই ত্যাগ করা উচিত, বিয়ের পরে নয়। বিয়ের মতো বড় ঘটনার জন্য যার মধ্যে পরিবর্তন আসে না, বিয়ের পর তার পরিবর্তন ঘটবে এমনটা ভাবা ভুল। বাস্তব জীবনে এমনটা খুব কমই ঘটে।

অনলাইন আসক্তি ও আবেগীয় সম্পর্কের জটিলতা

ইন্টারনেট বা অনলাইনের মাধ্যমে সামনাসামনি পরিচয় হওয়ার আগেই আবেগের বশে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া বর্তমান যুগের পাত্র-পাত্রী খোঁজার পদ্ধতির এক মস্ত বড় দুর্বলতা। স্ক্রিনের পেছনের মানুষকে ভার্চুয়ালি খুব মিষ্টি ও প্রশান্তিদায়ক মনে হলেও, বাস্তবে তার জীবনযাত্রা ও জীবনমান সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। এর ফলে বহু পরিবার ভাঙনের মুখে পড়ছে।

ইসলামি দৃষ্টিকোণ ও দাম্পত্যের সামঞ্জস্যতা (কফাআত)

ভার্চ্যুয়াল বা সাময়িক অনুরাগের কারণে আজকাল পাত্র-পাত্রীর পারস্পরিক সামঞ্জস্য বা সমকক্ষতার (কফাআত) বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। অথচ মহানবী (সা.) সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বীনদারির পাশাপাশি সামঞ্জস্যতা ও নৈতিক চরিত্রকে প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন—

জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ভিত্তি

تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لأَرْبَعٍ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ

‘চারটি বিষয় দেখে নারী (বা পুরুষ)-কে বিয়ে করা হয়: তার সম্পদ, বংশমর্যাদা, সৌন্দর্য এবং দ্বীনদারি। সুতরাং তুমি দীনদার পাত্র/পাত্রী অর্জন করে সফল হও, অন্যথায় তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (বুখারি ৫০৯০, মুসলিম ১৪৬৬)

উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব

إِذَا خَطَبَ إِلَيْكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوهُ إِلاَّ تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الأَرْضِ وَفَسَادٌ عَرِيضٌ

‘তোমাদের কাছে যদি এমন কোনো ব্যক্তির বিয়ের প্রস্তাব আসে, যার দ্বীনদারি ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তবে তার সঙ্গে বিয়ে সম্পন্ন কর। যদি তা না কর, তবে পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা ও বড় বিপর্যয় দেখা দেবে।’ (তিরমিজি ১০৮৪, ইবনু মাজাহ ১৯৬৭)

ভুল পথ এড়াতে মুফতি মেন্‌কের পরামর্শ

অনলাইনের পর্দার আড়ালে তৈরি হওয়া আবেগীয় সম্পর্ক অনেক সময় মানুষের বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি ধ্বংস করে দেয়। বাস্তবে সেই মানুষের ঘরে পা রাখার পর দেখা যায়— সেখানে থাকার মতো ন্যূনতম উপযুক্ত পরিবেশ বা সুবিধাটুকুও নেই। তখন উপলব্ধি হয় যে, একজন ভুল মানুষের পেছনেই জীবনের অনেক সময় ও আবেগ অপচয় করা হয়েছে।

তাই পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনলাইন ফ্যান্টাসি থেকে বের হয়ে সশরীরে সাক্ষাৎ ও সামনাসামনি পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদের জীবনযাত্রা, পরিবারের পরিবেশ ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

দাম্পত্য জীবনের স্থায়িত্ব ও সুখ নির্ভর করে সততা, সমকক্ষতা এবং সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর। হবু জীবনসঙ্গীর মধ্যে কোনো বড় ধরনের রেড ফ্ল্যাগ বা নেতিবাচক অভ্যাস লক্ষ্য করলে বিয়ের আগেই সে বিষয়ে স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত খোঁজখবর নেওয়া আবশ্যক। সাময়িক আবেগে ভেসে না গিয়ে ইসলামি মূল্যবোধ ও বাস্তবতার সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই একটি সফল ও শান্তিপূর্ণ পরিবার গঠনের মূল চাবিকাঠি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম