আত্মীয়তার বন্ধন ঠিক রাখলে মিলবে যেসব পুরস্কার
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলাম কেবল ইবাদত-বন্দেগির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গঠনে পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের সঙ্গে সদাচরণ করা ইসলামের সামাজিক শিক্ষার অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। স্বজনদের হক আদায় ও সুসম্পর্ক রক্ষায় পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
স্বজনদের হক ও সদাচারের নির্দেশ
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ আত্মীয়-স্বজনের প্রাপ্য অধিকার আদায়ের সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেছেন—
وَآتِ ذَا الْقُرْبَىٰ حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا
‘আর তোমরা নিকটাত্মীয়, মিসকিন ও মুসাফিরদের হক আদায় কর এবং কোনোভাবেই অপব্যয় কর না।’ (সুরা বনি ইসরাঈল: আয়াত ২৬)
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা বান্দার ঈমানের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন—
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ
‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’ (বুখারি ৬১৩৬)
আত্মীয়তা রক্ষার অশেষ পুরস্কার ও সামাজিক সুফল
কুরআন ও হাদিসের আলোকে আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় রাখার একাধিক দুনিয়াবি ও পরকালীন সুফলের কথা জানা যায়—
রিজিক ও আয়ু বৃদ্ধি
স্বজনদের সঙ্গে আন্তরিক হৃদ্যতা বজায় রাখলে আল্লাহ তাআলা বান্দার জীবন ও জীবিকায় বরকত দান করেন। হাদিসে পাকে এসেছে—
مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ، وَأَنْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ
‘যে ব্যক্তি নিজের রিজিক বৃদ্ধি হওয়া এবং আয়ু দীর্ঘ হওয়া পছন্দ করে, সে যেন তার আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে।’ (বুখারি ৫৯৮৬, ৫৬৩৯)
দ্রুত সওয়াব লাভ
অন্যান্য নফল আমলের তুলনায় আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার প্রতিদান খুব দ্রুত অর্জিত হয়। হজরত জাবের (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اتَّقُوا اللَّهَ وَصِلُوا الأَرْحَامَ، فَإِنَّهُ لَيْسَ مِنْ عَمَلٍ أَعْجَلَ ثَوَابًا مِنْ صِلَةِ الرَّحِمِ»
‘তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা কর; কেননা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার চেয়ে দ্রুত সওয়াব লাভ হয়— এমন কোনো আমল নেই।’ (মাজমাউজ জাওয়াইদ ৫/১২৫)
বিপদ ও অপমৃত্যু থেকে রক্ষা
সদকা ও আত্মীয়তার সুসম্পর্ক মানুষকে নানা অশুভ পরিস্থিতি থেকে হেফাজত করে। হাদিসে পাকে এসেছে—
إِنَّ الصَّدَقَةَ وَصِلَةَ الرَّحِمِ يَزِيدُ اللَّهُ بِهِمَا فِي الْعُمُرِ، وَيَدْفَعُ بِهِمَا مِيتَةَ السُّوءِ، وَيَدْفَعُ بِهِمَا الْمَكْرُوهَ وَالْمَحْذُورَ
‘নিশ্চয়ই সদকা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করলে আল্লাহ আয়ু বৃদ্ধি করেন, অপমৃত্যু থেকে রক্ষা করেন এবং অপ্রীতিকর ও আশঙ্কাজনক বিষয়াদি থেকে বাঁচিয়ে রাখেন।’ (মুসনাদে আবু ইয়ালা ৪৪০৪, মুস্তাদরাকে হাকেম ৪/১৬০)
পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি
স্বজনদের খোঁজখবর রাখা ও বংশীয় সম্পর্ক বজায় রাখা নিজেদের মধ্যে প্রীতি ও সোহার্দ্য গড়ে তোলে।
تَعَلَّمُوا مِنْ أَنْسَابِكُمْ مَا تَصِلُونَ بِهِ أَرْحَامَكُمْ، فَإِنَّ صِلَةَ الرَّحِمِ مَحَبَّةٌ فِي الأَهْلِ، مَثْرَاةٌ فِي الْمَالِ، مَنْسَأَةٌ فِي الأَثَرِ
‘তোমরা তোমাদের বংশ পরিচয় সম্পর্কে জ্ঞান রাখো, যাতে তোমরা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করতে পারো। কারণ আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা নিকটজনদের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টির মাধ্যম, ধন-সম্পদ বৃদ্ধি কারক এবং আয়ু দীর্ঘকারী।’ (তিরমিজি ১৯৭৯)
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা কেবল একটি সামাজিক শিষ্টাচার নয়, বরং এটি দ্বীন ও দুনিয়া উভয় জগতে সফলতা অর্জনের অন্যতম চাবিকাঠি। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার হিংসা-বিদ্বেষ ও অহংকার ভুলে নিকটাত্মীয়দের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি মুসলিমের নৈতিক দায়িত্ব। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আত্মীয়তার হক আদায় করে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

