যে শব্দ শুনলে শয়তান পরাস্ত হয়
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘আল্লাহু আকবার’ কেবল দুটি শব্দের সুবিন্যস্ত একটি বাক্য নয়; এটি মুমিন হৃদয়ের এক অমূল্য সঞ্জীবনী সুধা। এই তাকবিরের ধ্বনিতে মুমিনের ইমানি চেতনা শাণিত হয় এবং মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতের দুয়ার খুলে যায়। মহাবিশ্বের একমাত্র স্রষ্টার অসীম বড়ত্ব ও মহিমা ঘোষণার এই অমিয় সুধা মানব মনে এক স্বর্গীয় প্রশান্তি ও সাহস জুগিয়ে দেয়। আর এ আওয়াজে শয়তান পরাস্ত হয়।
কুরআনের আলোয় আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা
পবিত্র কুরআনের বহু স্থানে মহান আল্লাহ তার বান্দাদের সার্বক্ষণিক তার বড়ত্ব ও মহিমা ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুরা আল-ইসরায় আল্লাহ তাআলা সুনির্দিষ্টভাবে ইরশাদ করেছেন—
وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُن لَّهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُن لَّهُ وَلِيٌّ مِّنَ الذُّلِّ ۖ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا
‘আর বলো, সব প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে তার কোনো শরিক নেই এবং লাঞ্ছনা থেকে বাঁচতে তার কোনো অভিভাবকের প্রয়োজন নেই। সুতরাং তুমি পূর্ণাঙ্গরূপে তার বড়ত্ব ও মহিমা ঘোষণা কর।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত ১১১)
আজান ও ইকামতের তাকবিরে শয়তানের চরম পরাজয়
‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনির অন্যতম অলৌকিক প্রভাব হলো, এটি আল্লাহর চরম শত্রু শয়তানকে একেবারে অসহায় ও দুর্বল করে দেয়। প্রতিদিন মুয়াজ্জিন যখন সুমধুর স্বরে তাকবির ধ্বনি দিয়ে আজান দেয়, তখন শয়তানের হৃদয়ে অসহনীয় বিপর্যয় নেমে আসে। সে এই সুর সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে যায়।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) শয়তানের এই লাঞ্ছনাকর পলায়নের চিত্র অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন—
إِذَا نُودِيَ لِلصَّلاَةِ أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ وَلَهُ ضُرَاطٌ حَتَّى لاَ يَسْمَعَ التَّأْذِينَ، فَإِذَا قُضِيَ النِّدَاءُ أَقْبَلَ، حَتَّى إِذَا ثُوِّبَ بِالصَّلاَةِ أَدْبَرَ، حَتَّى إِذَا قُضِيَ التَّثْوِيبُ أَقْبَلَ، حَتَّى يَخْطُرَ بَيْنَ الْمَرْءِ وَنَفْسِهِ، يَقُولُ: اذْكُرْ كَذَا، اذْكُرْ كَذَا، لِمَا لَمْ يَكُنْ يَذْكُرُ حَتَّى يَظَلَّ الرَّجُلُ لاَ يَدْرِي كَمْ صَلَّى
‘যখন নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন শয়তান সশব্দে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পিছন ফিরে পলায়ন করে, যাতে সে আজানের শব্দ না শোনে। আজান শেষ হলে সে আবার ফিরে আসে। আবার যখন ইকামাত বলা হয়, তখন সে দূরে সরে যায়। ইকামাত শেষ হলে সে পুনরায় ফিরে এসে মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দেয় এবং বলে—‘এটা স্মরণ কর, ওটা স্মরণ কর’— যেসব বিষয় মানুষ হয়তো ভুলেই গিয়েছিল। এভাবে কুমন্ত্রণা দিতে দিতে একপর্যায়ে লোকটি কত রাকাত নামাজ আদায় করেছে, তাও ভুলে যায়।’ (বুখারি ৬০৮, মুসলিম ৩৮৯)
কুমন্ত্রণার বিরুদ্ধে ‘আল্লাহু আকবার’-এর দুর্গ
হাদিসের এই স্পষ্ট বিবরণ প্রমাণ করে যে, আল্লাহর মহান নাম এবং আজান ও ইকামতে উচ্চারিত ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি শয়তানকে কতটা কোণঠাসা করে ফেলে। এই পবিত্র ধ্বনি বন্ধ হলেই শয়তান আবার ফিরে এসে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, বিস্মৃত বিষয় মনে করিয়ে দিয়ে ইবাদতে মনোযোগ বিনষ্ট করতে চায়। কিন্তু ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি হলো মুমিনের জন্য এমন এক আত্মরক্ষা ও ইমানি শক্তি, যার সামনে শয়তানের যাবতীয় চক্রান্ত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।
আজানের এই সুর কেবল শয়তানকেই দূরে তাড়ায় না; বরং সমগ্র পরিবেশকে পবিত্র করে তোলে, অন্তরে হেদায়েতের আলো বিচ্ছুরিত করে এবং গাফেল হৃদয়গুলোকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে। যেসব জনপদ বা সমাজে নিয়মিত আজানের সুমধুর তাকবির ধ্বনিত হয়, সেখানে শয়তানি শক্তির প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই অকার্যকর হয়ে পড়ে।
সংক্ষিপ্ত এই দুটি শব্দ ‘আল্লাহু আকবার’ প্রতিটি মুমিনের দৈনন্দিন জীবনের এক বিরাট সুসংবাদ ও চালিকাশক্তি। সর্বাবস্থায় তাকবির পাঠের অভ্যাস মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয়, আত্মবিশ্বাস, অন্তহীন প্রশান্তি ও তাওয়াক্কুল তৈরি করে। জীবনের সব ভয়-ভীতি, হতাশা ও শয়তানের সূক্ষ্ম কুমন্ত্রণা দূর করে মনকে একমুখী করে তোলার জন্য ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনির কোনো বিকল্প নেই। মহান আল্লাহ আমাদের জবান ও অন্তরকে তারই বড়ত্ব ও তাকবিরের আলোয় সর্বদা উদ্ভাসিত রাখুন। আমিন।

