Logo
Logo
×
   

ইসলাম ও জীবন

কারও নাম পরিবর্তন করলে কি নতুন আকিকা দিতে হয়?

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

কারও নাম পরিবর্তন করলে কি নতুন আকিকা দিতে হয়?

ছবি: সংগৃহীত

নাম মানুষের ব্যক্তিত্ব ও পরিচয়ের প্রধান বাহন। একটি সুন্দর ও অর্থবহ নাম সন্তানের ভবিষ্যৎ জীবন এবং তার ধর্মীয় পরিচয় গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে। অনেক সময় নবজাতকের নাম রাখার পর নানা ভুল ধারণা বা সামাজিক প্রথার কারণে তা পরিবর্তন করার প্রয়োজন দেখা দেয়। ঠিক তেমনই একটি প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে— নাম পরিবর্তন করলে কি সদ্যজাতের জন্য পুনরায় আকিকা দিতে হবে? ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে আকিকা এবং নাম রাখার বিধান দুটি স্বতন্ত্র বিষয়। এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকায় অনেক সময় সাধারণ মানুষ অপ্রয়োজনীয় দ্বিধা ও জটিলতার শিকার হন।

নাম পরিবর্তনের ইসলামি বিধান ও শরয়ি মানদণ্ড

কারও নামের অর্থের মধ্যে যদি এমন কোনো বিষয় থাকে যা সরাসরি ইসলামি আকিদা, বিশ্বাস বা তাওহিদের পরিপন্থী, কিংবা যা শিরক বা কুসংস্কারের ইঙ্গিত দেয়, তবে সেই নাম পরিবর্তন করা শরিয়তে আবশ্যক। প্রিয়নবী (সা.) এমন বহু ব্যক্তির নাম পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন, যেগুলোর অর্থ ইসলামি বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।

পক্ষান্তরে, কোনো নাম যদি আরবি ভাষার না হয়ে বাংলা বা অন্য কোনো ভাষার শব্দ হয়, কিন্তু তার অর্থের মধ্যে শরিয়তবিরোধী কোনো বিষয় বা মন্দ কিছু না থাকে এবং তা ইসলামের মৌলিক মূল্যবোধের পরিপন্থী না হয়, তবে সেই নাম রাখায় কোনো ইসলামি নিষেধাজ্ঞা নেই। যেমন—‘পুণ্য’ নামটি বিভিন্ন সমাজে প্রচলিত থাকলেও এর শাব্দিক অর্থে কোনো পাপাচার বা কুফরির লেশমাত্র নেই। তাই অর্থ ভালো হলে নিছক অন্য সংস্কৃতির সঙ্গে মিল থাকার অজুহাতে সেই নাম পরিবর্তন করা আবশ্যক নয়।

হাদিসে পাকে এসেছে, উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) মন্দ বা অর্থহীন নাম পরিবর্তন করে সুন্দর ও অর্থবোধক নাম রাখতেন—

أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُغَيِّرُ الِاسْمَ الْقَبِيحَ

‘নবী কারিম (সা.) মন্দ বা অসুলভ নাম পরিবর্তন করে দিতেন।’ (তিরমিজি ২৮৩৯)

নাম পরিবর্তনের কারণে কি নতুন আকিকা দিতে হবে?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো— যদি কোনো কারণে কারও নাম পরিবর্তন করা হয়, তবে কি নতুন করে আকিকা দিতে হবে? এর সরাসরি উত্তর হলো— না, নাম পরিবর্তনের কারণে পুনরায় আকিকা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

শরিয়তের দৃষ্টিতে আকিকা এবং নাম রাখা দুটি সম্পূর্ণ স্বাধীন আমল ও সুন্নাত। আকিকার সঙ্গে নাম পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ কোনো সম্পর্ক নেই। ইসলামি শরিয়তে শিশুর জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা একটি অত্যন্ত মুস্তাহাব সুন্নাত। সপ্তম দিনে করা সম্ভব না হলে চৌদ্দতম দিনে, একুশতম দিনে কিংবা পরবর্তীতে যেকোনো সময় সাধ্যমতো আকিকা আদায় করা যায়। অনুরূপভাবে, নাম রাখার ক্ষেত্রেও ইসলাম নির্দিষ্ট কোনো দিন বা কঠোর নিয়ম আরোপ করেনি; জন্মের সপ্তম দিনে বা তার আগেও নাম রাখা জায়েজ আছে। তাই নাম পরিবর্তন করা হলে আকিকা বাতিল হয় না এবং নতুন করে আকিকা দেওয়ারও কোনো শরিয়তসম্মত ভিত্তি নেই।

নাম পরিবর্তনের সামাজিক প্রথা বনাম ধর্মীয় বাস্তবতা

আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একটি প্রচলিত সামাজিক সংস্কৃতি দেখা যায় যে, কারো নাম পরিবর্তন করা হলে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দাওয়াত করে খাওয়ানো হয়। এটি মূলত একটি সামাজিক প্রথা বা সংস্কৃতি মাত্র, যার উদ্দেশ্য হলো নতুন নামটি সবার মাঝে পরিচিত করে তোলা এবং প্রচার করা। কেউ যদি আনন্দের সঙ্গে বা উৎসবমুখর পরিবেশে এই প্রথা পালন করতে চায়, তবে তা নিষিদ্ধ নয়। তবে একে কোনো ফরজ, ওয়াজিব বা অপরিহার্য ধর্মীয় বিধান মনে করা সম্পূর্ণ ভুল। শরিয়তের দৃষ্টিতে নাম পরিবর্তনের জন্য নতুন করে পশু জবাই করে আকিকা করা জরুরি নয়।

সন্তানের একটি অর্থবহ, সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ নাম নির্বাচন করা প্রত্যেক অভিভাবকের দায়িত্ব। যদি কোনো নামের অর্থ ভালো হয় এবং তা শরিয়তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তবে তা পরিবর্তনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আর যদি কোনো কারণে নাম পরিবর্তন করতেই হয়, তবে তা শরিয়তসম্মত পন্থায় করা যেতে পারে। তবে নাম পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়াটির সঙ্গে আকিকার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ইসলামি বিধানকে পরিচ্ছন্নভাবে মেনে চলা এবং কুসংস্কার বা মনগড়া প্রথা থেকে মুক্ত থাকাই একজন মুমিনের প্রকৃত সৌন্দর্য।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম