Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

ফেসবুক স্ক্রলে আপত্তিকর দৃশ্য চলে এলে কি অজু ভেঙে যাবে?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২০ পিএম

ফেসবুক স্ক্রলে আপত্তিকর দৃশ্য চলে এলে কি অজু ভেঙে যাবে?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু ফেসবুকের পাতায় স্ক্রল করার সময় প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর ছবি, ভিডিও বা সিনেমা চোখের সামনে চলে আসে। একজন মুমিন ব্যক্তি সর্বদা অজুর পবিত্রতা নিয়ে থাকতে ভালোবাসেন। এমন অবস্থায় হঠাৎ কোনো অশ্লীল বা আপত্তিকর দৃশ্য সামনে চলে এলে মনে ভয় ও সংশয় জাগা স্বাভাবিক যে—অজু কি ভেঙে গেল? পবিত্রতা রক্ষা ও ইমানি সচেতনতার স্বার্থে এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের সঠিক দিকনির্দেশনা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্যে অজুর মূল বিধান

ফেসবুক স্ক্রল করার সময় যদি হঠাৎ কোনো অশ্লীল পোস্ট, কন্টেন্ট বা ছবি ভেসে ওঠে, তবে শুধু তা দেখার কারণে অজু ভাঙবে না। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হঠাৎ কোনো বাজে দৃশ্য চোখে পড়ে যাওয়া অজিবিনাশী বা অজু ভঙ্গের কারণগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে সেই দৃশ্য সামনে আসার পর তা এড়িয়ে না গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে তাকিয়ে থাকা কবিরা গুনাহ। এর ফলে সরাসরি অজু না ভাঙলেও অজুর আত্মিক নূর, বরকত ও সওয়াব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইসলামে দৃষ্টি সংযত রাখার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা সুনির্দিষ্ট নির্দেশ প্রদান করে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—

قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ

‘মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। নিশ্চয়ই তারা যা করে, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।’ (সুরা আন-নূর: আয়াত ৩০)

হঠাৎ চোখ পড়ে যাওয়ার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। হাদিসে পাকে এসেছে, হজরত জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—

 سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نَظَرِ الْفَجْأَةِ فَأَمَرَنِي أَنْ أَصْرِفَ بَصَرِي

‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে হঠাৎ (অনাকাঙ্ক্ষিত) নজর পড়ে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে তাৎক্ষণিক দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।’ (মুসলিম ২১৫৯)

অজু কখন ভাঙবে?

আপত্তিকর কিছু দেখার সময় যদি মনে চরম উত্তেজনা তৈরি হয় এবং সেই উত্তেজনার ফলে শরীর থেকে মজি (এক ধরণের পাতলা পিচ্ছিল তরল পদার্থ) নির্গত হয়, তবেই কেবল অজু ভেঙে যাবে এবং নতুন করে অজু করা ওয়াজিব হবে। কিন্তু যদি শারীরিক এমন কোনো নিঃসরণ না ঘটে, তবে কেবল দেখার কারণে অজু নষ্ট হবে না।

এমন পরিস্থিতিতে একজন মুমিনের করণীয়

  • তাৎক্ষণিক দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া: স্ক্রল করার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য সামনে এলে সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া ফরজ। প্রথম আকস্মিক নজরের জন্য কোনো পাপ লেখা হবে না, কিন্তু পুনরায় চোখ রাখা বা তাকিয়ে থাকা গুনাহের কারণ।
  • তওবা ও ইস্তিগফার পড়া: এমন আপত্তিকর দৃশ্য চোখে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চাওয়া এবং মনে অনুশোচনা আনা উচিত, যা হৃদয়ের কালিমা দূর করতে সাহায্য করে।

প্রযুক্তির নানাবিধ সুবিধার পাশাপাশি এর মাঝে লুকিয়ে রয়েছে বহু ফেতনা ও পাপের পথ। ফেসবুক ব্যবহারে তাই একজন মুমিনকে সর্বদা সতর্ক ও সংযমী হতে হবে। অসাবধানতাবশত ক্ষতিকর কোনো কিছু চোখে পড়ে গেলে অজু না ভাঙলেও আত্মিক পবিত্রতা অক্ষুণ্ণ রাখতে তাৎক্ষণিক দৃষ্টি সংযত করা এবং আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করাই ইমানের আসল দাবি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম