Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

আল্লাহর ঘর নির্মাণে বিনিয়োগের ফজিলত কী?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

আল্লাহর ঘর নির্মাণে বিনিয়োগের ফজিলত কী?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

পৃথিবীর বুকে মানুষ কত শত স্বপ্নের বাড়ি বানায়। ইট-কাঠ, চুন-সুরকির মোহময় প্রাসাদ গড়তে ঢেলে দেয় জীবনের সমস্ত সাধ্য ও সঞ্চয়। কিন্তু সময়ের নিষ্ঠুর নিয়মে একদিন সব প্রাসাদই ধ্বংস হয়ে যায়, ধুলোয় মিশে যায় রাজপ্রাসাদের অহংকার। অথচ এমন এক চিরস্থায়ী ও সুশোভিত বাড়ির ঠিকানা রয়েছে, যার সৌন্দর্যের কোনো তুলনা হয় না। সেটি হলো জান্নাতের প্রাসাদ। আর এই জান্নাতে নিজের একখণ্ড নীড় গড়ে তোলার সবচেয়ে সেরা উপায় হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পৃথিবীতে তাঁর একটি ঘর—অর্থাৎ মসজিদ নির্মাণ করা।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি প্রদীপ্ত বাণী আমাদের সেই ভালোবাসার বাতিঘর দেখায়। আল্লাহর ভালোবাসায় নির্মিত সামান্য একটি মসজিদ কীভাবে পরকালের অসীম জীবনে বিশাল এক প্রাসাদের রূপ নেয়, এই সত্যই ইসলাম আমাদের শেখায়।

একটি চিরন্তন প্রতিশ্রুতি

মসজিদ কেবল ইট-পাথরের কোনো দালান নয়; এটি আল্লাহর একত্ববাদের প্রতীক, মুমিনের হৃদয়ের প্রশান্তির আশ্রয়স্থল। যে মানুষ আল্লাহর প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মসজিদ গড়ে তোলে, তার জন্য আখেরাতে রয়েছে এক অনন্য প্রতিদান। হজরত উসমান বিন আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত বিখ্যাত হাদিসটি সেই সুসংবাদই বহন করে—

مَنْ بَنَى مَسْجِدًا يَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللَّهِ بَنَى اللَّهُ لَهُ مِثْلَهُ فِي الْجَنَّةِ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ ঘর তৈরি করে দেবেন।’ (বুখারি ৪৫০, মুসলিম ৫৩৩)

কুরআনের আলোয় মসজিদ নির্মাণ ও তা আবাদ করা

পবিত্র কুরআনেও মসজিদ নির্মাণ ও তা আবাদ করার বিষয়ে বিশেষ মর্যাদা ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাদেরই প্রকৃত ইমানদার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, যারা তাঁর ঘর নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে এগিয়ে আসে। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন—

إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ ۖ فَعَسَىٰ أُولَٰئِكَ أَن يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ

‘নিশ্চয়ই তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে, নামাজ কায়েম করেছে, জাকাত দিয়েছে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করেনি। আশা করা যায়, তারা সৎপথ প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সুরা আত-তওবা: আয়াত ১৮)

সদকায়ে জারিয়ার এক অনন্ত ফোয়ারা

মানুষ মরে যায়, কিন্তু তার নেক আমলের খাতা বন্ধ হয় না যদি সে পৃথিবীতে এমন কিছু রেখে যায় যা দিয়ে মানুষ উপকৃত হয়। আল্লাহর ঘর মসজিদ নির্মাণ তেমনি এক চিরপ্রবহমান দান বা ‘সদকায়ে জারিয়া’। যতদিন সেই মসজিদে সিজদা পড়বে, যতদিন জিকির ও কুরআনের সুর ধ্বনিত হবে, ততদিন সেই মসজিদ নির্মাণকারীর আমলনামায় অবিরত সওয়াব জমা হতে থাকবে। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও স্পষ্ট করে বলেছেন—

إِنَّ مِمَّا يَلْحَقُ الْمُؤْمِنَ مِنْ عَمَلِهِ وَحَسَنَاتِهِ بَعْدَ مَوْتِهِ: عِلْمًا عَلَّمَهُ وَنَشَرَهُ، وَوَلَدًا صَالِحًا تَرَكَهُ، وَمُصْحَفًا وَرَّثَهُ، أَوْ مَسْجِدًا بَنَاهُ...

‘মুমিনের মৃত্যুর পর তার আমল ও নেক কাজের মধ্যে যা তার সঙ্গে গিয়ে যোগ হয় তা হলো— যে জ্ঞান সে শিক্ষা দিয়েছে ও প্রচার করেছে, যে সৎ সন্তান সে রেখে গেছে, যে কুরআন সে মিরাস হিসেবে ছেড়ে গেছে, অথবা যে মসজিদ সে নির্মাণ করে গেছে...।’ (ইবনে মাজাহ ২৪২)

ক্ষুদ্র কিংবা বিশাল—সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর ঘরে অংশ নেওয়ার মাঝেই লুকিয়ে আছে অশেষ কল্যাণ। লোকদেখানো অহংকার নয়, বরং কেবল রবের সন্তুষ্টি অর্জনের একবিন্দু আন্তরিকতাই পাল্টে দিতে পারে পরকালের ভাগ্য।

আসুন, নশ্বর এই পৃথিবীর অসার মিছিলে হারিয়ে না গিয়ে আখেরাতের স্থায়ী ঠিকানার জন্য কিছু সঞ্চয় করি। সামর্থ্য থাকলে এককভাবে, কিংবা বহুজন মিলে তিল তিল করে গড়ে তুলি আল্লাহর ঘর। মাটির এই প্রদীপে জ্বালানো আলোই একদিন আমাদের আলোকোজ্জ্বল করে তুলবে জান্নাতের অনিন্দ্য সুন্দর প্রাসাদে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম