Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

অনিয়মিত ঋতুস্রাব দেখা দিলে নামাজ আদায়ের হুকুম কী?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

অনিয়মিত ঋতুস্রাব দেখা দিলে নামাজ আদায়ের হুকুম কী?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

নারীদের শারীরিক গঠন ও হরমোনজনিত কারণে অনেক সময় ঋতুস্রাব অনিয়মিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শরিয়তের বিধান কী এবং নামাজ-রোজা বা ইবাদত কীভাবে পালন করতে হবে— তা নিয়ে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন জাগে। হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য মূলনীতি ও ফতোয়ার আলোকে অনিয়মিত স্রাবের এই জটিল মাসআলাটি খুব সুন্দরভাবে সমাধান করা হয়েছে।

অনিয়মিত স্রাব ও হায়েজ নির্ধারণের মূলনীতি

হানাফি মাজহাবের ফিকহ শাস্ত্র অনুযায়ী, অনিয়মিত বা অনির্দিষ্ট সময়ে কোনো নারীর যোনিপথ দিয়ে লাল, হলুদ কিংবা ঘোলাটে রঙের কোনো স্রাব বা রক্ত দেখা দিলে তা সাধারণত ঋতুস্রাব বা ‘হায়েজ’ হিসেবে ধর্তব্য হবে। তবে শর্ত হলো তা যেন শরিয়ত নির্ধারিত সর্বনিম্ন সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয়। আল্লামা নিজামুদ্দিন রহ. প্রণীত বিখ্যাত ফতোয়ার কিতাব ‘আল-ফাতাওয়া আল-হিনদিয়্যা’-তে উল্লেখ রয়েছে—

الدَّمُ الَّذِي تَرَاهُ الْمَرْأَةُ فِي أَيَّامِ الْحَيْضِ إِنْ كَانَ أَحْمَرَ أَوْ أَصْفَرَ أَوْ أَكْدَرَ فَهُوَ حَيْضٌ

‘ঋতুস্রাবের দিনগুলোতে নারী যে রক্ত দেখতে পায়, তা যদি লাল, হলুদ কিংবা ঘোলাটে হয়, তবে তা হায়েজ বা ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হবে।’ (আল-ফাতাওয়া আল-হিনদিয়্যা: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৬)

আর ঋতুস্রাবের সর্বনিন্ম ও সর্বোচ্চ সময়সীমা কত দিন হবে, সে বিষয়ে প্রখ্যাত ফিকহ গ্রন্থ ‘আল-হিদায়া’-তে বলা হয়েছে—

أَقَلُّ الْحَيْضِ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهَا وَأَكْثَرُهُ عَشَرَةُ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهَا

‘ঋতুস্রাবের সর্বনিন্ম সময়কাল হলো তিন দিন ও তার রাতগুলো এবং এর সর্বোচ্চ সময়কাল হলো দশ দিন ও তার রাতগুলো।’ (আল-হিদায়া: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬১)

স্রাব দেখা দিলে করণীয় ও কার্যপদ্ধতি

এই শরিয়তের মূলনীতির আলোকে অনিয়মিত স্রাব দেখা দিলে নারীদের জন্য পালনীয় করণীয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো—

  • নামাজ স্থগিত রাখা: রক্ত বা লাল-বাদামী স্রাব দেখা দেওয়া মাত্রই নামাজ পড়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে। স্রাবের পরিমাণ সামান্য হওয়া বা প্যাড ব্যবহারের প্রয়োজন না হওয়া মানেই তা হায়েজ নয়—এমন ধারণা ভুল। স্রাব দেখা দিলেই ইবাদত স্থগিত করতে হবে।
  • তিন দিন পূর্ণ হওয়া: যদি এই স্রাব একটানা কমপক্ষে তিন দিন তিন রাত (৭২ ঘণ্টা) বা তার বেশি সময় ধরে চলে এবং সর্বোচ্চ ১০ দিন ১০ রাতের মধ্যে বন্ধ হয়, তবে পুরো সময়টিই ‘হায়েজ’ হিসেবে গণ্য হবে। এই দিনগুলোতে ছুটে যাওয়া নামাজের কোনো কাজা করতে হবে না।
  • তিন দিনের কম সময়ে বন্ধ হলে: স্রাব যদি তিন দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই (৭২ ঘণ্টার কম সময়ে) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে এটি প্রকৃত ‘হায়েজ’ ছিল না; বরং এটি রোগঘটিত রক্তপাত বা ‘ইস্তিহাজা’ ছিল। সে ক্ষেত্রে নামাজ স্থগিত রাখার কারণে যে ওয়াক্তগুলো কাজা হয়েছিল, তা দ্রুত আদায় করে নিতে হবে।

বিশেষ সতর্কতা ও চিকিৎসা

শারীরিক যেকোনো অনিয়ম বা জটিলতার ক্ষেত্রে কেবল ধর্মীয় বিধান জানার পাশাপাশি একজন অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ নারী চিকিৎসকের (গাইনোকোলজিস্ট) পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সাময়িক বিভ্রান্তি এড়াতে নিজের শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা একজন যোগ্য আলেমের কাছে খুলে বলে সুনির্দিষ্ট মাসআলা জেনে নেওয়াও শ্রেয়।

দ্বীন পালনের ক্ষেত্রে ইসলামে কোনো জটিলতা বা কঠোরতা রাখা হয়নি; বরং প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট ও সহজ সমাধান বলে দেওয়া হয়েছে। অনিয়মিত ঋতুস্রাবের মতো জটিল পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে শরিয়তের নির্ধারিত দিন-গণনার নিয়ম মেনে চলা এবং প্রয়োজনে বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়া মুমিন নারীর জন্য সহজ পথ তৈরি করে দেয়। পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক বিধান পালনের মাধ্যমেই নারীরা তাদের ইবাদতের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম