বিদায়বেলায় কী বলবেন— ‘আল্লাহ হাফেজ’ নাকি ‘সালাম’?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কারও সঙ্গে দেখা হওয়ার পর বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে আমাদের মুখে প্রায়ই ‘আল্লাহ হাফেজ’ বা ‘খোদা হাফেজ’ শব্দটি চলে আসে। কিন্তু কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে—এই শব্দগুলোর সঠিক অর্থ কী? বিদায়ের সময় কেবল এটি বলা কি যথেষ্ট, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো সুন্নতি বিধান? ইসলামি সংস্কৃতির সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা আমাদের এই বিষয়গুলোর সুন্দর সমাধান শিখিয়ে দেয়।
সাক্ষাতে ও বিদায়ে সালামের গুরুত্ব
ইসলামি সংস্কৃতিতে যেকোনো সাক্ষাতের শুরুতে পরস্পরকে সালাম দেওয়া অত্যন্ত তাকিদপূর্ণ একটি সুন্নত। এই সালামের মাধ্যমেই মূলত একে অপরের জন্য আল্লাহর দরবারে শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করা হয়। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) পারস্পরিক ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় করতে সালামের ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—
إِذَا انْتَهَى أَحَدُكُمْ إِلَى الْمَجْلِسِ فَلْيُسَلِّمْ، فَإِنْ بَدَا لَهُ أَنْ يَجْلِسَ فَلْيَجْلِسْ، ثُمَّ إِذَا قَامَ فَلْيُسَلِّمْ، فَلَيْسَتِ الْأُولَى بِأَحَقَّ مِنَ الْآخِرَةِ
‘যখন তোমাদের কেউ কোনো মজলিসে পৌঁছাবে, তখন সে যেন সালাম দেয়। এরপর যদি তার বসার ইচ্ছা হয়, তবে সে যেন বসে। আর যখন সে উঠে চলে যাবে, তখনও যেন সালাম দেয়। কারণ, প্রথম সালাম দ্বিতীয় সালাম অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়।’ (তিরমিজি ২৭০৬)
এই হাদিস থেকে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে, সাক্ষাতের শুরুতে যেমন সালাম দেওয়া সুন্নত, ঠিক তেমনি মজলিস বা স্থান ত্যাগ করার সময়ও সালাম দেওয়া সমানভাবে সুন্নাত।
‘আল্লাহ হাফেজ’ বলার বিধান ও শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি
‘আল্লাহ হাফেজ’ বা ‘খোদা হাফেজ’ ফার্সি ও আরবি শব্দের মিশ্রণে তৈরি একটি বাক্য, যার অর্থ দাঁড়ায়—‘আল্লাহ আপনার হেফাজতকারী হোন’ বা ‘আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করুন’। এটি মূলত একটি সুন্দর কল্যাণকামনা বা দোয়া। বিদায়ের সময় এই দোয়া বলার ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধানগুলো হলো—
- দোয়া হিসেবে জায়েজ: বিদায় নেওয়ার সময় সালামের পাশাপাশি কিংবা আলাদাভাবে কল্যাণ ও হেফাজতের নিয়তে ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলা সম্পূর্ণ জায়েজ। এতে কোনো বাধা নেই।
- সালামের বিকল্প নয়: মনে রাখতে হবে, ‘আল্লাহ হাফেজ’ কোনোভাবেই শরিয়তের নির্ধারিত সালামের বিকল্প হতে পারে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিদের থেকে বিদায়ের সময় কেবল ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলার প্রথা প্রমাণিত নয়; বরং বিদায়ের সুন্নত হলো মুখে সালাম উচ্চারণ করা।
- বিদআত থেকে বাঁচা: সালামের বিধান সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে যদি কেউ কেবল ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলাকেই বিদায়ের মূল ও একমাত্র শরিয়তসম্মত রীতি বা সুন্নত মনে করেন, তবে তা সুন্নতের পরিপন্থি বিদআত হিসেবে গণ্য হবে।
আমাদের করণীয়
আমাদের উচিত বিদায়বেলায় সুন্নতের ওপর আমল করে প্রথমে পূর্ণাঙ্গ সালাম অর্থাৎ ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলা। এরপর অতিরিক্ত দোয়া ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলতে কোনো মানা নেই। তবে সালামের বদলে কেবল ‘আল্লাহ হাফেজ’ বলার সংস্কৃতির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সুন্নাতসম্মত উপায়ে বিদায় নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
ছোট ছোট সুন্নতের ওপর আমল করার মাধ্যমেই একজন মুমিনের জীবন সুন্দর ও বরকতময় হয়ে ওঠে। বিদায়ের সময় সালাম দেওয়া নবীজির এমন এক সুন্নাত, যা মানুষের অন্তরে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বাড়িয়ে দেয়। তাই বিদায়বেলায় ‘আল্লাহ হাফেজ’-এর পাশাপাশি সুন্নাত মোতাবেক সালামের প্রচলন টিকিয়ে রাখাই মুমিনের প্রকৃত সৌন্দর্য।

