Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

মাজারসংলগ্ন মসজিদে নামাজ আদায় করা যাবে কি?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম

মাজারসংলগ্ন মসজিদে নামাজ আদায় করা যাবে কি?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

একটি মসজিদের একই সীমানার পেছনে একটি মাজার রয়েছে। মসজিদের সভাপতি ওই মাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। মসজিদের সহকারী ইমাম একজন হাফেজ। তার মতে, বর্তমান ইমামের কুরআন তিলাওয়াতে উচ্চারণগত ভুল রয়েছে; ফলে তাঁর পেছনে নামাজ সহিহ হবে না।

অন্যদিকে, আমার পরিবার থেকে আমাকে ওই মসজিদেই নামাজ আদায় করার জন্য অনেক চাপ দেওয়া হয়। বিশেষ করে আমার মা বিভিন্ন বিষয়ে আমাকে কঠোর ভাষায় কথা বলেন এবং কখনো কখনো বদদুআও করেন। এতে আমিও কখনো কখনো তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে ফেলি। তাঁকে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেও সফল হচ্ছি না। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী?

মসজিদের প্রাঙ্গণে বা সীমানার ভেতর মাজার থাকা কিংবা এর পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে মাজারের সম্পৃক্ততা থাকলেই কেবল সেখানে নামাজ আদায় নাজায়েজ হয়ে যায় না। মূলত মসজিদের ইমামের আকীদা, আমল এবং কুরআন তিলাওয়াতের সঠিকতার ওপরই নামাজের শুদ্ধতা নির্ভর করে। পারিপার্শ্বিক চাপে বা পরিবারের বাধ্যবাধকতায় মাজারওয়ালা বা মাজারসংলগ্ন কোনো মসজিদে নামাজ পড়তে হলে কিছু সুনির্দিষ্ট ফিকহি বিধান ও সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।

মসজিদের মাজার ও ইমামের অবস্থা ভেদে নামাজের বিধানসমূহ

মাজার থাকার কারণে নামাজে বিঘ্ন নয়

শুধু মসজিদের সীমানার মধ্যে মাজার থাকা বা মসজিদের সভাপতি মাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়াই নামাজ না হওয়ার কারণ নয়। এ ক্ষেত্রে মূলত ইমামের আকিদা ও আমলের প্রকৃত অবস্থাই প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

বিদআতি বা ভুল আকিদার ইমামের পেছনে নামাজ

ইমাম যদি এমন কোনো কুফরি পর্যায়ের আকিদা বা প্রকাশ্য বিদআতে লিপ্ত না হন, তবে কোনো সহিহ আকিদার ইমাম না পাওয়া গেলে এমন বিদআতি ইমামের পেছনে নামাজ আদায় মাকরূহে তাহরিমির সঙ্গে জায়েজ হবে। তবে ইমামের আকিদায় যদি প্রকাশ্য কুফরি বা শিরকি বিশ্বাস থাকে, তাহলে তার পেছনে নামাজ আদায় করা কোনোভাবেই জায়েজ হবে না।

কুরআন তিলাওয়াতে মারাত্মক ভুল

ইমামের কুরআন তিলাওয়াতে যদি এমন মারাত্মক লহন বা ভুল থাকে, যার কারণে নামাজ ফাসেদ হয়ে যায় বা সহিহ হয় না, তবে যিনি নিজে শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারেন, তার জন্য এমন ইমামের পেছনে নামাজ আদায় করা সহিহ হবে না।

জামাত রক্ষার্থে সতর্কতা ও ইতিকাফ

যদি শুদ্ধ তিলাওয়াতকারী ইমামের পেছনে জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়ার সুযোগ না থাকে এবং একা নামাজ পড়লে জামাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে ওই ইমামের পেছনে নামাজ আদায় করে পরবর্তীতে সেই ওয়াক্তের নামাজ সতর্কতামূলক পুনরায় পড়ে নেওয়ার অবকাশ রয়েছে। এতে একদিকে জামাতের ফজিলত অর্জিত হবে, অন্যদিকে নিজের মনের আশঙ্কাও দূর হবে।

পরিবারের সন্তুষ্টি ও সতর্কতা

বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবারের পক্ষ থেকে ওই মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য যদি তীব্র চাপ থাকে এবং ইমামের তিলাওয়াত বা আকিদা নিয়ে মনে সংশয় থাকে, তবে সম্ভব হলে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করে পরবর্তীতে তা কুশলতার সঙ্গে পুনরায় পড়ে নেওয়া যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন মায়ের বা পরিবারের অপ্রিয়ভাজন হওয়া বা বদদুআ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব, তেমনি নিজের ইবাদতের শুদ্ধতাও নিশ্চিত হয়।

পরিশেষে, দ্বীনি মাসআলা পালনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি বা ছাড়াছাড়ি কোনোটিই কাম্য নয়। পারিপার্শ্বিক বাধ্যবাধকতা ও পারিবারিক শান্তি বজায় রেখে ইবাদতের সঠিক মানদণ্ড রক্ষা করাই একজন মুমিনের প্রজ্ঞার পরিচয়। সংশয়পূর্ণ পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক নামাজ দোহরে নেওয়া মুত্তাকিগণের সুন্নতেরই অংশ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম