বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্রীকে অন্য পুরুষ দেখতে পারবেন কি, যা জানালেন আহমাদুল্লাহ
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১১ এএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামে বিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় একটি ইবাদত। এটি শুধু দুজন মানুষের মিলন নয়; বরং দুটি পরিবারের মধ্যে ভালোবাসা, দায়িত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার সূচনা। তাই ইসলামে বিবাহকে সহজ, বরকতময় এবং শরিয়াহসম্মতভাবে সম্পন্ন করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে মুসলিম সমাজে বিয়ে উপলক্ষে পাত্রী দেখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কার ও অনাচার রয়েছে। বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্রী কে দেখবে, তা নিয়ে সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি।
এ বিষয়ে একটি ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, বিয়ে করবে একজন, কিন্তু এর পূর্বেই পাত্রী দেখে তার বংশের সমস্ত পুরুষ। অনেক ক্ষেত্রে ছেলে নিজেই পাত্রীকে দেখে না। এক্ষেত্রে উত্তম প্রথা হলো, বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে ছেলে-মেয়ে একে অন্যকে দেখে নেবে। এটা সুন্নাত। এটা করলে কয়েকটি লাভ আছে। প্রথমত, বিয়ের পূর্বে পাত্র-পাত্রী একে অন্যকে দেখলে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয়ত, কোনো দোষ-ত্রুটি থাকলে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়, পরে মনোমালিন্য হয় না।
তিনি বলেন, একটা বিষয় জেনে রাখা ভালো, বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্রীকে শুধু পাত্র দেখতে পারবে, এছাড়া অন্য পুরুষ দেখা হারাম।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, আমাদের দেশে প্রচলিত প্রথার মধ্যে খারাপ প্রথা হলো, মেয়ে দেখতে গিয়ে অন্য পুরুষসহ পাঁচ-সাতজন দেখতে যান। যেমনটা কোরবানির বাজারে গরু-ছাগল দেখতে যাওয়ার মতো। এভাবে পাত্রীকে অপমান করা ইসলাম জায়েজ নাই। এক্ষেত্রে পাত্রীকে শুধুমাত্র পাত্রপক্ষের মা, বোন, ভাবি ও অন্য নারীরা দেখতে পারবেন।
ইসলামে বিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় একটি ইবাদত। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّه“ لَه“ وِجَاءٌ
‘হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যার বিয়ের সামর্থ্য আছে, তার বিয়ে করা উচিত। কেননা বিয়ে চোখকে নিচু রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা যৌবনের খায়েশ কমিয়ে দেয়।’ (বুখারি ৫০৬৫, মুসলিম ১৪০০)

