করজে হাসানার টাকা বিকাশে পাঠালে ক্যাশ আউট চার্জ কে বহন করবেন?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
করযে হাসানা বা সুদমুক্ত ঋণের টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ক্যাশ আউট চার্জ কে বহন করবে—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে কেউ যদি ১০ হাজার টাকা করয হিসেবে চেয়ে তা বিকাশের মাধ্যমে পাঠাতে বলে, তাহলে করযদাতা ১০ হাজার টাকা পাঠানোর পর গ্রহীতা ক্যাশ আউট করে হাতে পুরো টাকা না পাওয়ার বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে—এ নিয়ে রয়েছে সংশয়।
এ বিষয়ে প্রদত্ত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কারও কাছে করযে হাসানা চান এবং সরাসরি, অন্য কারও মাধ্যমে কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে না নিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর অনুরোধ করেন, তাহলে করযদাতা যত টাকা পাঠিয়েছেন, করযগ্রহীতাকে ঠিক তত টাকাই ফেরত দিতে হবে। টাকা ক্যাশ আউট করার সময় যে খরচ হবে, তা করযগ্রহীতাকেই বহন করতে হবে।
অর্থাৎ, কেউ যদি ১০ হাজার টাকা করয হিসেবে চান এবং করযদাতা তাকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা পাঠান, এরপর ক্যাশ আউটের সময় নির্ধারিত চার্জ কেটে তার হাতে কম টাকা থাকে, তাহলে সেই চার্জ করযদাতার ওপর বর্তাবে না। পরবর্তীতে করযগ্রহীতাকে করযদাতার পাঠানো পুরো ১০ হাজার টাকাই ফেরত দিতে হবে।
তবে করয ফেরত দেওয়ার সময় পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। করযগ্রহীতা যদি নিজ উদ্যোগে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা ফেরত দিতে চান, অথচ করযদাতা এভাবে টাকা নিতে না চান এবং সরাসরি টাকা গ্রহণ করতে চান, তাহলে করযগ্রহীতাকেই এমনভাবে টাকা পরিশোধ করতে হবে, যাতে করযদাতা তার পুরো পাওনা বুঝে পান। সেক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের প্রেরণ-সংক্রান্ত খরচ বা ক্যাশ আউট চার্জ থাকলে তা প্রেরণকারীকে বহন করতে হবে।
অন্যদিকে, করযদাতা যদি নিজেই করযের টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফেরত পাঠাতে বলেন, তাহলে করযগ্রহীতা পূর্বে যত টাকা পেয়েছিলেন, তত টাকাই ফেরত পাঠালে যথেষ্ট হবে। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্যাশ আউট চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
والأصل: أن مونة الرد على من وقع القبض له.
—আলমুহীতুল বুরহানী ১১/৩১৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৩৭২; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়া, পৃ. ২৪৯; আলমাআয়িরুশ শরইয়্যা, পৃ. ৫২৩
উচ্চারণ:
ওয়াল-আসলু: আন্না মুঊনাতার-রাদ্দি ‘আলা মান ওয়াকা‘াল-কাবদু লাহু।
বাংলা অর্থ
“মূলনীতি হলো, কোনো বস্তু বা অর্থ ফেরত দেওয়ার খরচ তার ওপর বর্তাবে, যার জন্য গ্রহণ করা হয়েছিল।”
সুতরাং, মূল বিষয় হলো—করযদাতা কত টাকা পাঠিয়েছেন এবং করয ফেরতের পদ্ধতি কার পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়েছে। করযগ্রহীতার দায়িত্ব হলো করযদাতার প্রাপ্য পুরো অর্থ যথাযথভাবে পরিশোধ করা।

-6aa8c554cdfd8.jpg)