স্কিনকেয়ার পেজের মডারেটর হিসেবে বেপর্দা ভিডিও ও মিউজিকযুক্ত পোস্ট করার শরয়ি বিধান কী?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইনে বিভিন্ন ব্যবসা ও প্রমোশন একটি জনপ্রিয় ক্যারিয়ার হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ই-কমার্স বা সোশ্যাল মিডিয়া পেজের মাধ্যমে হালাল পণ্যের প্রচার করা শরিয়তের দৃষ্টিতে মোটেও নিষিদ্ধ নয়। তবে সেই প্রচারের পদ্ধতি বা মাধ্যম যদি ইসলামবিরোধী হয়, তবে তা গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া প্রত্যেক মুমিনের ইমানি দায়িত্ব। অনেক ভাই-বোন না বুঝে এমন পেশায় জড়িয়ে পড়েন, যা পরবর্তীতে গুনাহের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে একটি স্কিনকেয়ার পেজে মডারেটর হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে যেখানে বেপর্দা ভিডিও ও মিউজিকযুক্ত কনটেন্ট আপলোড করা বাধ্যতামূলক— সেটির শরয়ী বিধান নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
হালাল প্রসাধনীর প্রচার এবং শরিয়তবিরোধী কনটেন্টের বিধান
হালাল প্রসাধনী সামগ্রী বা পণ্য প্রচার করা মূলগতভাবে জায়েজ। কিন্তু সেই প্রচার যদি অনৈসলামিক বা শরিয়তবিরোধী কনটেন্টের মাধ্যমে করা হয়, তবে তা কোনোভাবেই জায়েজ হবে না। অতএব, পেজে বেপর্দা বা অশালীন দৃশ্যযুক্ত ভিডিও প্রচার করা জায়েজ নয়। একইভাবে বাদ্যযন্ত্রের মিউজিকযুক্ত ভিডিও প্রচার করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা নাজায়েজ। এ প্রসঙ্গে হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—
لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ، يَسْتَحِلُّونَ الحِرَ وَالحَرِيرَ، وَالخَمْرَ وَالمَعَازِفَ
‘আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব হবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।’ (বুখারি ৫৫৯০)
পাপের কাজে সহযোগিতার পরিণতি
শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী, যে কাজ নিজে করা বা দেখা হারাম, সে কাজের প্রচার-প্রসার করা, তা শেয়ার দেওয়া বা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সহযোগিতা করাও জায়েজ নয়। কুরআনে কারিমে আল্লাহ তাআলা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ইরশাদ করেছেন—
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা কর না।’ (সুরা আল-মায়েদাহ: আয়াত ২)
সমাজে বা মুমিনদের মাঝে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এ বিষয়ে সতর্ক করে আল্লাহ তাআলা আরও এরশাদ করেন—
إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
‘যারা পছন্দ করে যে, মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা আন-নুর: আয়াত ১৯)
এছাড়া অন্যকে পাপাচারের দিকে ডাকলে বা সহযোগিতা করলে তার দায়ভারও তাকে বহন করতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন—
مَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ
‘যে ব্যক্তি কোনো ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করে, তার ওপর সে সকল অনুসারীর গুনাহের মতো গুনাহ বর্তাবে।’ (মুসলিম ২৬৭৪)
কাজের শর্ত সাপেক্ষে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি
যেহেতু এই মডারেটরের কাজে নিয়মিত বেপর্দা নারীদের ভিডিও ও মিউজিকযুক্ত কনটেন্ট পোস্ট করা বাধ্যতামূলক, তাই বর্তমান এই শর্তে কাজটি গ্রহণ করা কোনোভাবেই জায়েজ হবে না।
তবে এর একটি বিকল্প ও সংশোধনমূলক পথ রয়েছে। পেজ কর্তৃপক্ষ যদি আপনাকে বেপর্দা নারীদের ছবি বা ভিডিও এবং মিউজিকযুক্ত ভিডিওগুলো থেকে অব্যাহতি দেয় এবং শুধু প্রসাধনীর ছবি, লিখিত তথ্য (Content Writing) কিংবা শরিয়তে নিষিদ্ধ নয় এমন হালাল ও পরিচ্ছন্ন পোস্ট করার অনুমতি দেয়, কেবল তখনই সেই দায়িত্ব পালন করা জায়েজ হবে।
সারকথা হলো, আপনার বর্ণিত পরিস্থিতিতে— যেহেতু নিয়মিত এমন ভিডিও পোস্ট করতে হবে যাতে বেপর্দা নারী ও মিউজিকের উপস্থিতি রয়েছে—তাই এই নির্দিষ্ট শর্তে কাজটি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা আপনার ইমানের হিফাজতের জন্য আবশ্যক। সাময়িক দুনিয়াবি লাভের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালের মুক্তিই মুমিনের কাছে সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সব ধরনের গুনাহ ও পাপের সহযোগিতা থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন।

