Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

কুকুরের লালা কাপড়ে লাগলে কতবার ধুয়ে নিতে হবে?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

কুকুরের লালা কাপড়ে লাগলে কতবার ধুয়ে নিতে হবে?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

বিশ্ব সৃষ্টির এক বিস্ময়কর প্রাণী হলো কুকুর। মানুষের প্রয়োজনে পাহারাদারী ও শিকারের কাজে এর জুড়ি মেলা ভার। তবে শরতের শিশিরের মতো এর লালার পবিত্রতা বা অপবিত্রতা এবং শৌখিনভাবে কুকুর পোষার বিধান নিয়ে প্রায়ই নানা জিজ্ঞাসা তৈরি হয়। চলুন, হাদিস ও ফিকহের আলোকে এই বিষয়গুলোর বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

কুকুরের লালার বিধান ও পবিত্রতা অর্জনের তরিকা

কুকুরের লালা নাপাক। কুকুরের লালা যদি কাপড়ে লাগে, তাহলে অন্যান্য নাপাকির মতোই তিনবার ধুয়ে ওই কাপড় পাক করতে হবে। হাদিসের উদ্ধৃতি, হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّی اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيُهْرِقْهُ وَلْيَغْسِلْهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ

‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কুকুর যদি কোনো পাত্রে মুখ দেয়, তাহলে সেই পাত্রের জিনিস ফেলে দিয়ে তিনবার ধুয়ে নাও।’ (দারাকুতনি ১৯৬)

এ বিষয়ে তাবেয়িগণের আমল ও বর্ণনা থেকেও স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। আসার বা বর্ণনার উদ্ধৃতি, হজরত মনসুর (রহ.) থেকে বর্ণিত, ইবরাহিম নাখঈ (রহ.) বলেছেন—

 إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي الإِنَاءِ غَسَلَهُ حَتَّی يَنْقِيَهُ

‘কোনো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে পাত্রটি এ পরিমাণ ধুয়ে নেবে, যাতে তা পরিপূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যায়।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ১৮৪৩)

শৌখিন ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কুকুর পোষার শরঈ বিধান

ইসলামে বিনা প্রয়োজনে শখ করে কুকুর পোষা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে নির্দিষ্ট ও বাস্তব প্রয়োজন থাকলে কুকুর পোষার অনুমতি রয়েছে; যেমন— বাড়িঘর পাহারা দেওয়া, ক্ষেত-খামার রক্ষা করা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধান, অপরাধের উৎস অনুসন্ধান করা, অপরাধী চিহ্নিত করা এবং শিকার করা ইত্যাদি। হাদিসের উদ্ধৃতি—

مَنِ اتَّخَذَ كَلْبًا، إِلَّا كَلْبَ صَيْدٍ، أَوْ مَاشِيَةٍ، أَوْ زَرْعٍ، فَإِنَّهُ يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِهِ كُلَّ يَوْمٍ قِيرَاطَانِ

‘রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদি পশু অথবা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর পোষে, ওই ব্যক্তির প্রতিদিন দুই কিরাত পরিমাণ নেকি হ্রাস পায়।’ (মুসলিম ১৫৭৫)

এই হাদিস এবং আরও কিছু হাদিসে সওয়াবের পরিমাণ বোঝাতে ‘কিরাত’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এই হাদিসের ব্যাখ্যায় প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম নববি (রহ.) লিখেছেন, ‘কিরাত’ হলো একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ, যা কেবল আল্লাহ তাআলা জানেন।’ অর্থাৎ বিনা প্রয়োজনে কুকুর পুষলে মানুষের আমলনামা থেকে আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী কিছু পরিমাণ সওয়াব কমে যেতে পারে।

প্রাণীর প্রতি দয়া ও করুণার ইসলামি শিক্ষা

নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে অন্য সব জীবজন্তুর মতোই কুকুরের প্রতি দয়া করা, কুকুরকে খাবার-পানি দেওয়া এবং কোনো বিপদে পড়লে তাকে উদ্ধার করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। কুকুরটি যদি কোনো বিপদজনক বা ক্ষতিকর প্রাণী হয়ে না ওঠে, তবে তাকে বিনা কারণে কষ্ট দেওয়া বা হত্যা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এটি কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।

প্রাণীর প্রতি এমন সদয় আচরণের কারণে অতীতে অনেক মানুষ আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমার পরোয়ানা লাভ করেছেন। হাদিসের উদ্ধৃতি—

بَيْنَمَا كَلْبٌ يُطِيفُ بِرَكِيَّةٍ كَادَ يَقْتُلُهُ الْعَطَشُ، إِذْ رَأَتْهُ بَغِيٌّ مِنْ بَغَايَا بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَنَزَعَتْ مُوقَهَا فَسَقَتْهُ بِهِ، فَغُفِرَ لَهَا بِذَلِكَ

‘রাসুল (সা.) বলেন, একবার একটি তৃষ্ণার্ত কুকুর কূপের পাশে ঘোরাঘুরি করছিল। তৃষ্ণায় তার প্রাণ বের হওয়ার উপক্রম হয়। বনি ইসরাইলের এক ব্যভিচারী নারী তা দেখতে পেয়ে নিজের পায়ের মোজা খুলে মোজায় পানি ভরে কুকুরটিকে পানি পান করায়। এই সৎকাজের উসিলায় তার আগের সব পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (বুখারি ৩৪৬৭)

ইসলাম ভারসাম্যপূর্ণ ও শৃঙ্খলিত জীবনের পথ দেখায়। একদিকে যেমন নাপাকির ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বিনা প্রয়োজনে কুকুর পোষার মতো শরয়ি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা আমাদের ইমানের দাবি, অন্যদিকে তেমনি আল্লাহর অন্য সৃষ্টির প্রতি মায়া-দয়া প্রদর্শন করাও মানবতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। পরিচ্ছন্নতা ও পশুপাখির প্রতি দয়ার এই সুষম সমন্বয়ের মাধ্যমেই একজন মুমিন তার জীবনকে সুন্দর ও সফল করে তুলতে পারেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম