নজর থেকে বাঁচতে কালো সুতা বাঁধা যাবে কি?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বদনজর বা কুদৃষ্টির বিষয়টি সমাজে বেশ পরিচিত একটি বিষয়। বিশেষ করে ছোট্ট শিশুদের ক্ষেত্রে মায়াবী নজর লাগার ভয়ে অনেকেই নানা রকম উপায় অবলম্বন করে থাকেন। কিন্তু ইসলামি শরিয়তে বদনজরের প্রকৃত বাস্তবতা কী এবং এর থেকে সুরক্ষার জন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত— সে বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। চলুন, কুরআন ও হাদিসের ভিত্তিতে বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক।
বদনজরের বাস্তবতা ও মুমিনের বিশ্বাসের ভিত্তি
ইসলাম নজর লাগার বিষয়টিকে অস্বীকার করে না, বরং এর সত্যতা স্বীকার করে। তবে একজন মুমিনের মূল বিশ্বাস হলো, আল্লাহর সুনির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া কোনো সৃষ্টিই কারো কোনো ক্ষতি করতে পারে না। তাই যেকোনো অনিষ্ট বা নজর থেকে বাঁচার জন্য একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে এবং তাঁর কাছেই আশ্রয় চাইতে হবে। হাদিসে পাকে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
اَلْعَيْنُ حَقٌّ
‘বদনজর লাগা সত্য।’ (বুখারি ৫৭৪০)
কালো সুতা ব্যবহারের শরঈ বিধান
অনেকেই নজর থেকে বাঁচার জন্য হাতে, পায়ে বা গলায় কালো সুতা বাঁধেন কিংবা কুরআনের আয়াত পড়ে তাতে ফুঁ দেন। অথচ কালো সুতা বা এ জাতীয় কোনো বস্তু নিজস্ব ক্ষমতায় নজর বা অকল্যাণ থেকে রক্ষা করতে পারে না। এর পক্ষে কুরআন বা নির্ভরযোগ্য হাদিসের কোনো দলিল নেই। হাদিসে পাকে এসেছে—
انْبِذْهَا عَنْكَ، فَإِنَّهَا لَا تَزِيدُكَ إِلَّا وَهْنًا
‘রাসুলুল্লাহ (স.) এক ব্যক্তির হাতে একটি ধাতব বালা দেখে এর কারণ জানতে চেয়েছিলেন। লোকটি জানায়, এটি দুর্বলতার জন্য পরেছে। তখন নবীজি (স.) সেটি খুলে ফেলতে বলেন এবং সতর্ক করেন যে, এটি তার দুর্বলতাই বাড়াবে।’ (মুসনাদ আহমদ ১৯৪৯৯)
কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম ও মাসনুন দোয়া পড়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং রোগ বা নজরের ক্ষেত্রে রুকইয়া করা সম্পূর্ণ শরিয়তসম্মত। কারণ এখানে ভরসা থাকে একমাত্র আল্লাহর ওপর। তবে কুরআন পড়ে সুতায় ফুঁ দিয়ে সেটি সুরক্ষার জন্য শরীরে বাঁধার বিষয়টি সাধারণ রুকইয়ার সঙ্গে এক নয়; এটি মূলত তাবিজ ব্যবহারের আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমদের মতামত অনুসরণ করা উত্তম। মূল কথা হলো, কোনো বস্তুকে রক্ষাকারী মনে করা বা তার ওপর ভরসা করা ইসলামি আকিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নজর থেকে বাঁচার সুন্নাহসম্মত আমল ও দোয়া
নজর ও সব ধরনের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার জন্য রয়েছে সুন্দর ও কার্যকর সুন্নাহসম্মত আমল। রাসুলুল্লাহ (স.) সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। এছাড়া শিশুদের সুরক্ষার জন্যও তিনি বিশেষ দোয়া পড়তেন। হাদিসে পাকে এসেছে—
أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উচ্চারণ: ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শায়ত্বনিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লা-ম্মাতিন।’
অর্থ: ‘আমি আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ বাণীর মাধ্যমে প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং ক্ষতিকর দৃষ্টি থেকে আশ্রয় চাই।’ (বুখারি ৩৩৭১)
কারো সন্তান, সৌন্দর্য, সম্পদ বা সাফল্য দেখে মুগ্ধ হলে তাৎক্ষণিকভাবে তার জন্য বরকতের দোয়া করা উচিত। নিজের কোনো নিয়ামত নিয়ে অহংকার না করে সর্বদা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
নজরের ভয় যেন কখনো মানুষকে কুসংস্কার বা অমূলক আতঙ্কের দিকে ঠেলে না দেয়। কালো সুতা নিজে নজর ঠেকায়— এমন কোনো বিশ্বাসের ইসলামি ভিত্তি নেই। তাই কুসংস্কারের ওপর নির্ভর না করে সুন্নাহসম্মত আমল করা, আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল বা ভরসা রাখা এবং তারই কাছে আশ্রয় চাওয়াই হলো প্রকৃত মুমিনের সঠিক পথ।

