Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ কি ইসলামে জায়েজ?

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ কি ইসলামে জায়েজ?

ফাইল ছবি

Advertisement

জন্মনিয়ন্ত্রণের স্থায়ী পদ্ধতি শরিয়তে জায়েজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। 

তিনি বলেন, লাইগেশনের মতো স্থায়ী পদ্ধতির মাধ্যমে চিরতরে সন্তান নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হারাম। তবে বিশেষ প্রয়োজনের কারণে অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, কনডম ব্যবহার, পিল সেবন কিংবা তিন মাস, ছয় মাস, এক বছর বা দুই বছরের মতো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যকর আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি শর্তসাপেক্ষে জায়েজ হতে পারে।

তার ভাষ্য, কোনো দম্পতির ঘরে একটি সন্তান রয়েছে এবং এখন আরেকটি সন্তান হলে দুজনের জন্যই তা লালন-পালনে কষ্টকর হয়ে যাবে, অথবা এমন কোনো পারিবারিক ও সামাজিক পরিস্থিতি রয়েছে যেখানে সন্তান নেওয়া এই মুহূর্তে উপযোগী নয়—এ ধরনের কারণে অস্থায়ীভাবে জন্মবিরতি দেওয়া যেতে পারে। একইভাবে স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা এমন হলে যে এখন সন্তান নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ বা কষ্টকর হতে পারে, সে কারণেও অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

তবে শুধু আর্থিক সংকটের আশঙ্কায় সন্তান না নেওয়াকে তিনি জায়েজ মনে করেননি। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আমাদের আয় কম, আরেকটি সন্তান হলে তাকে খাওয়াব কী—এ চিন্তায় জন্মনিয়ন্ত্রণ করা হারাম। 

এ প্রসঙ্গে কুরআনের আয়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘লা তাকতুলু আওলাদাকুম খাশিয়াতা ইমলাক’—অভাবের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না। ‘নাহনু নারজুকুহুম ওয়া ইয়াকুম’—আমি তাদের এবং তোমাদের রিজিক দেব।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, বর্তমানে সমাজে ‘ছোট সংসার, সুখী সংসার’—এই ধারণা ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়েছে। ছেলে হোক বা মেয়ে, এক-দুই সন্তান থাকলেই পরিবার বেশি সুখী হবে—এমন ধারণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানুষ কোনো পরিবারের বোঝা নয়, বরং সম্পদ।

তার বক্তব্য, বিশেষ প্রয়োজনে সাময়িক জন্মবিরতি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন জন্মনিয়ন্ত্রণের ফলে যদি কোনো দেশে জন্মহার অনেক কমে যায়, তখন জনসংখ্যা সংকট তৈরি হতে পারে। চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জন্মহার বাড়ানোর জন্য নানা ধরনের সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, অনেক উন্নত দেশ সন্তান জন্মের পর পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। কারণ এসব দেশে মানুষের অভাব দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন জন্মনিয়ন্ত্রণের কারণে মানুষের সন্তান নেওয়ার প্রবণতা কমে যাওয়া মানবসভ্যতার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শারীরিক অসুস্থতা, সামাজিক বা পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ করা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু শুধু সন্তানকে কীভাবে খাওয়াবেন—এই আশঙ্কায় জন্মনিয়ন্ত্রণ করা উচিত নয়।

ইসলামি এ স্কলার বলেন, জন্মনিয়ন্ত্রণের স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করা শরিয়তসম্মত নয়। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া স্থায়ীভাবে সন্তান নেওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

পুরুষদের জন্যও আসছে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, পুরুষত্বে প্রভাব না পড়ার দাবি

গবেষণা পুরুষদের জন্যও আসছে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, পুরুষত্বে প্রভাব না পড়ার দাবি

জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খেলে কি সত্যি ওজন বাড়ে? যা বলছে গবেষণা

জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খেলে কি সত্যি ওজন বাড়ে? যা বলছে গবেষণা

জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যবহার কমায় দেশজুড়ে প্রচারাভিযানে নামছে সরকার

জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যবহার কমায় দেশজুড়ে প্রচারাভিযানে নামছে সরকার

সরকারি কর্মীদের জন্য ডেটিং অ্যাপ চালু করল সিঙ্গাপুর

সরকারি কর্মীদের জন্য ডেটিং অ্যাপ চালু করল সিঙ্গাপুর

প্রসবের কতদিন পর গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে?

প্রসবের কতদিন পর গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে?

ইসলামে অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ: বিধান, শর্ত ও শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী?

ইসলামে অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ: বিধান, শর্ত ও শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী?

আরও পড়ুন

যে নামাজ পড়ে আল্লাহকে ভালোবাসার প্রমাণ দেখাতে হয়

যে নামাজ পড়ে আল্লাহকে ভালোবাসার প্রমাণ দেখাতে হয়

কথা-কাজে কষ্ট পেলেও কি গুনাহ মাফ হয়?

কথা-কাজে কষ্ট পেলেও কি গুনাহ মাফ হয়?

স্ত্রীকে না জানিয়ে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করা কি জায়েজ?

স্ত্রীকে না জানিয়ে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করা কি জায়েজ?

বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে ইসলামের ৩ নির্দেশনা

বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে ইসলামের ৩ নির্দেশনা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম