প্রতিবন্ধী সন্তানকে অন্যদের চেয়ে বেশি সম্পদ দেওয়া যাবে কি?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রশ্ন
এক প্রশ্নকারী জানতে চান, আমরা ৪ ভাই ১ বোন। আমি সবার ছোট। আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী। এজন্য আমার বাবা আমাকে ৩২ শতাংশ জমি দেন। বাকি ৩ ভাই আমাকে জমি দেওয়ার জন্য আমার বাবা-মাকে কোনো ভরণপোষণের টাকা দেয় না এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। আমাকে যে জমি দিয়েছে, এতে কি আব্বার গুনাহ হবে?
উত্তর
নারায়ণগঞ্জের দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম জানান, সন্তানরা মা-বাবার জীবদ্দশায় তাদের সম্পদের উত্তরাধিকারী বা হকদার হয় না। মা-বাবা তাদের মালিকানাধীন সম্পদ জীবদ্দশায় যে কোনো বৈধ কাজে ব্যয়, দান-সদকা বা হস্তান্তর করার পূর্ণ অধিকার রাখেন।
অনুরূপভাবে, কোনো সন্তানের বিশেষ প্রয়োজন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, অন্যদের তুলনায় মা-বাবার প্রতি বেশি আনুগত্য প্রদর্শন, তাদের দেখভাল করা বা অন্য কোনো বাস্তবিক কারণ বিবেচনায় তাকে অন্য সন্তানদের তুলনায় বেশি সম্পদ দেওয়াও বৈধ। তবে অন্য সন্তানদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ক্ষতি না করার উদ্দেশ্য থাকতে হবে।
সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনায় আপনার বাবা আপনাকে ৩২ শতাংশ জমি দিয়ে থাকলে, এতে তার কোনো গুনাহ হবে না। বরং আপনার প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এ ধরনের ব্যবস্থা করা যুক্তিসঙ্গত।
এ জমি দেওয়ার কারণে অন্য ভাইদের পক্ষ থেকে মা-বাবাকে বাধা দেওয়া, ভরণপোষণ বন্ধ করে দেওয়া কিংবা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। বিশেষত মা-বাবাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও গুরুতর গুনাহের কাজ। তাদের কোনো সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলেও সন্তানের জন্য মা-বাবার প্রতি সম্মান, সদাচরণ ও প্রয়োজনীয় ভরণপোষণ বজায় রাখা অপরিহার্য।
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَقَضٰی رَبُّکَ اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّاۤ اِیَّاہُ وَبِالۡوَالِدَیۡنِ اِحۡسَانًا ؕ اِمَّا یَبۡلُغَنَّ عِنۡدَکَ الۡکِبَرَ اَحَدُہُمَاۤ اَوۡ کِلٰہُمَا فَلَا تَقُلۡ لَّہُمَاۤ اُفٍّ وَّلَا تَنۡہَرۡہُمَا وَقُلۡ لَّہُمَا قَوۡلًا کَرِیۡمًا
وَاخۡفِضۡ لَہُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحۡمَۃِ وَقُلۡ رَّبِّ ارۡحَمۡہُمَا کَمَا رَبَّیٰنِیۡ صَغِیۡرًا ؕ
তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না, পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো, পিতা-মাতার কোনো একজন কিংবা উভয়ে যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে উফ্ পর্যন্ত বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো।
এবং তাদের প্রতি মমতাপূর্ণ আচরণের সঙ্গে তাদের সামনে নিজেকে বিনয়াবনত করো এবং দু‘আ করো, হে আমার প্রতিপালক! তারা যেভাবে আমার শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছে, তেমনি আপনিও তাদের প্রতি রহমতের আচরণ করুন।
-সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত ২৩-২৪
حاشية ابن عابدين = رد المحتار (5/ 696):
«وفي الخانية لا بأس بتفضيل بعض الأولاد في المحبة لأنها عمل القلب، وكذا في العطايا إن لم يقصد به الإضرار، وإن قصده فسوى بينهم يعطي البنت كالابن عند الثاني وعليه الفتوى ولو وهب في صحته كل المال للولد جاز وأثم»
والله اعلم بالصواب

