ফেসবুক অ্যাড চালিয়ে উপার্জন গ্রহণ, শরিয়তের বিধান কী?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এক প্রশ্নকারী জানতে চান, আমি যদি ফেসবুকে অ্যাড রান করাই, অর্থাৎ আমি যদি অ্যাডগুলো বানাই এবং ফেসবুকে যেসব উদ্যোক্তা আছেন, তাদের প্রোডাক্টের অ্যাড রান করি, হারাম কিছু নয়, হালাল জিনিসের অ্যাড করাই, তাহলে কি এটা হালাল হবে? বিদেশি ডলার দিয়ে আমার কার্ডের মাধ্যমে যে আমি করব, এটা কি হালাল হবে?
উত্তরে মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুফতি মুহাম্মাদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজমেন্ট মূলত একটি সার্ভিস—আপনি বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। এটা হালাল হওয়ার জন্য সাধারণত যেসব শর্ত থাকা দরকার:
যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের অ্যাড করছেন, সেটা নিজে হালাল হতে হবে। যেমন বৈধ ব্যবসার পণ্য, পোশাক, বই, মোবাইল, শিক্ষা, হালাল খাবার ইত্যাদির বিজ্ঞাপন চালানো জায়েয।
তবে মদ, জুয়া, পর্নোগ্রাফি, সুদভিত্তিক কার্যক্রম বা অন্য কোনো হারাম বিষয়ের বিজ্ঞাপন প্রচার করা জায়েয হবে না।
অ্যাডের কনটেন্টে মিথ্যা দাবি, প্রতারণা বা অতিরঞ্জিত তথ্য থাকা যাবে না।
অ্যাড কনটেন্ট নিজেই শরিয়াহসম্মত হতে হবে। যেমন বেপর্দা ছবি, অশ্লীলতা ইত্যাদি এড়িয়ে চলা।
চুক্তি ও পারিশ্রমিক স্পষ্ট হতে হবে। কাজ এবং পেমেন্ট নিয়ে অস্পষ্টতা থাকা যাবে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
অর্থ : তোমরা গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।
(সূরা আল-মায়িদাহ: ২)
আর পেমেন্টের ক্ষেত্রে কার্ড ব্যবহারের ব্যাপারে কথা হলো, আপনি যদি ডেবিট কার্ড ব্যবহার করেন (নিজের টাকা থেকে সরাসরি পেমেন্ট), এটা সাধারণত কোনো সমস্যা নয়। এটা শুধু বৈধ লেনদেনের মাধ্যম। কারেন্সি এক্সচেঞ্জ ব্যাংক বা কার্ড প্রোভাইডার হ্যান্ডেল করে, যা সাধারণভাবে একটি সার্ভিস চার্জ হিসেবে দেখা হয়।
আর যদি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে এ-সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সংযুক্ত মাসআলাটি দেখুন।
ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটায় নির্দিষ্ট মেয়াদের ভিতর দেনা পরিশোধ করলে সুদ লাগে না। এ হিসেবে ক্রেডিট কার্ড এর ব্যবহার জায়েজ আছে। কিন্তু নির্দিষ্ট মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার পর সুদের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে বাধ্য। বিধায় কার্ডের পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে মেয়াদ অতিবাহিত করা জায়েয হবে না।
এই কার্ড নিয়ে বিস্তর আলোচনা পর্যালোচনা হয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে বর্তমান যুগের ফকিদের উত্থাপিত প্রবন্ধ ও সিদ্ধান্তবলীর আলোকে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা কিছু শর্ত সাপেক্ষে জায়েয। শর্তগুলো হল-
১. ক্রেডিট কার্ডের সকল বিল ‘মিনিমাম ডিও’ তারিখের মধ্যে অবশ্যই পরিশোধ করে দিতে হবে। কোন টাকা বাকি রাখা যাবে না।
২. কার্ডের মাধ্যমে কোন ক্যাশ অ্যাডভান্স নেয়া যাবে না। কারণ নগদ টাকা উত্তোলনের অর্থই হল ব্যাংক কর্তৃক সুদ আরোপিত হওয়া।
৩. ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কখনো কোনভাবেই এমন কারবারে অংশগ্রহণ করা যাবে না, যা সুদের অন্তর্ভুক্ত। যদি কার্ড ইস্যুকারী কর্তৃক নতুন কোন সুযোগ-সুবিধার কথা ঘোষিত হয়- যা মাসআলার দিক থেকে সন্দেহজনক, তবে অবশ্যই সে ব্যাপারে বিজ্ঞ কোন মুফতী থেকে মাসআলা জেনে নিয়ে সে অনুযায়ী আমল করতে হবে।
উপরোক্ত শর্তগুলো পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে ক্রেডিট কার্ড নেয়া ও তা ব্যবহার করার অবকাশ শরীয়তে রয়েছে।

