Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

পোস্ট অফিসে টাকা রেখে লভ্যাংশ নেওয়া কি জায়েজ? যা বললেন আহমাদুল্লাহ

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১ এএম

পোস্ট অফিসে টাকা রেখে লভ্যাংশ নেওয়া কি জায়েজ? যা বললেন আহমাদুল্লাহ

Advertisement

বাংলাদেশে সঞ্চয়ের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হলো পোস্ট অফিস সঞ্চয় প্রকল্প ও সঞ্চয়পত্র। নিরাপত্তা ও নির্দিষ্ট হারে মুনাফার নিশ্চয়তার কারণে অসংখ্য মানুষ, বিশেষত অবসরভোগী, প্রবাসী ও মধ্যবিত্ত পরিবার, এখানে টাকা জমা রাখেন। প্রশ্ন হলো, এই ব্যবস্থা থেকে প্রাপ্ত ‘লভ্যাংশ’ বা মুনাফা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ, নাকি এটি সুদ হিসেবে গণ্য হবে এবং হারাম হবে। 

এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে জবাব দিয়েছেন ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।

তিনি বলেন, পোস্ট অফিসে টাকা রাখতে পারেন। কিন্তু মুসকিল হলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানুষ মুনাফ বা সুদের জন্য পোস্ট অফিসে টাকা রাখেন। তাহলে তা অন্য ১০টা সুদের মতো হারাম হবে। আল্লাহুর জমিনে যত হারাম উপার্জন আছে তার মধ্যে ভয়াবহ হারাম হচ্ছে সুদ। কারণ সুদ এমন গুনাহ যার বিরুদ্ধে আল্লাহ যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। যেটা আপন মায়ের সঙ্গে যেনা করার থেকে ভয়াবহ।

ইসলামি অর্থব্যবস্থার একটি মৌলিক নীতি হলো, মুনাফা হালাল হওয়ার জন্য তা ঝুঁকি বহনকারী প্রকৃত ব্যবসা বা অংশীদারত্বমূলক বিনিয়োগ থেকে আসতে হবে, যেমন মুদারাবা কিংবা মুশারাকা পদ্ধতিতে, যেখানে লাভ ও লোকসান উভয়ের সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকে। 

এই মূলনীতিটি ফিকহে হানাফির প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল-হিদায়া এবং পরবর্তী সময়ে রচিত ফাতাওয়ায়ে আলমগিরিতে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে, যেখানে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও ঋণচুক্তির মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টানা হয়েছে। 

ইবনে আবেদীন শামীর বিখ্যাত গ্রন্থ রদ্দুল মুহতারেও একই মূলনীতির ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, ঋণচুক্তিতে কোনো প্রকার শর্তযুক্ত বাড়তি অর্থ গ্রহণ করলে তা সরাসরি রিবাতে পরিণত হয়, তা যত সামান্য পরিমাণেই হোক না কেন।

বিপরীতে, যদি কেউ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকা জমা রাখে এবং পূর্বনির্ধারিত, নিশ্চিত হারে বাড়তি অর্থ ফেরত পায়, আসল টাকার সঙ্গে ব্যবসায়িক ঝুঁকির কোনো প্রকৃত সম্পর্ক না রেখেই, তাহলে অধিকাংশ ফিকহবিদের মতে এটি প্রকৃতপক্ষে ঋণ তথা কর্জ, এবং তার ওপর নির্ধারিত বাড়তি অর্থ হলো সুদ। 

পোস্ট অফিস সঞ্চয়পত্র ও সঞ্চয় হিসাবের কাঠামো এই দ্বিতীয় শ্রেণির মধ্যেই পড়ে। গ্রাহক প্রকৃতপক্ষে সরকারকে টাকা ধার দেন এবং বিনিময়ে নির্দিষ্ট, পূর্বনির্ধারিত হারে মুনাফা পান, যেখানে ব্যবসায়িক লাভ-ক্ষতির কোনো প্রকৃত অংশীদারত্ব থাকে না। 

সুদ সম্পর্কে ইসলামের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর। সুরা বাকারার ২৭৫ থেকে ২৭৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা সুদকে হারাম ঘোষণা করেছেন এবং একে ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি পার্থক্য করে দেখিয়েছেন, ব্যবসা হালাল কিন্তু সুদ হারাম। এমনকি সুদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তার রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধ ঘোষণার মতো কঠোর সতর্কবার্তাও এসেছে এই আয়াতগুলোতে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম