মা-বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহারে দুনিয়া ও আখিরাতে যে ভয়ানক পরিণতি
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৪ এএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এক প্রশ্নকারী বলেন, আমার এক ভাই তার মাকে মারধর করে, এখন আমার করণীয় কী?
উত্তরে ঢাকা বিমানবন্দরের জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের বলেন, আপনার ভাই যা করছেন, তা কেবল সামাজিক অপরাধই নয়, বরং ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি একটি চরম ধিক্কারজনক এবং জাহান্নামে যাওয়ার মতো জঘন্য কাজ।
ইসলামের মূলনীতি হলো অন্যায় দেখলে তা বাধা দেওয়া। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ
তোমাদের মধ্যে কেউ কোনো অন্যায় হতে দেখলে সে যেন তা হাত দিয়ে (শক্তি প্রয়োগ করে) বাধা দেয়। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে যেন মুখ দিয়ে (প্রতিবাদ করে) বাধা দেয়। আর যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে যেন অন্তর দিয়ে ঘৃণা করে (এবং তা দূর করার পরিকল্পনা করে) আর এটি ঈমানের দুর্বলতম স্তর। (সহীহ মুসলিম: ৪৯)
আপনার পদক্ষেপগুলো হওয়া উচিত
সরাসরি বাধা দেওয়া। ভাই যখন মাকে মারতে উদ্যত হবে, তখন তাকে শারীরিকভাবে প্রতিহত করা আপনার ওপর ওয়াজিব (আবশ্যক)। মাকে রক্ষা করা আপনার ঈমানি দায়িত্ব। ভাইকে ভয় পাবেন না, কারণ আপনি সত্যের পথে আছেন।
পারিবারিক ও সামাজিক চাপ প্রয়োগ করা
পরিবারের বড়দের, আত্মীয়-স্বজনদের বা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান। তাকে সামাজিকভাবে বয়কট বা চাপের মুখে রাখা প্রয়োজন।
পরামর্শ ও ভয় দেখানো
তাকে নির্জনে ডেকে আল্লাহর আজাব এবং মা-বাবার অবাধ্যতার ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে হাদিসের বাণী শোনান।
যদি তার সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং মায়ের জীবন ঝুঁকির মুখে থাকে, তবে তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া বা থানায় জানানো ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েজ। কারণ ‘মজলুমকে’ (মাকে) রক্ষা করা ‘জালেমের’ (ভাইয়ের) ওপর দয়া করার চেয়ে অগ্রাধিকার পায়।
মনে রাখবেন, ইসলামে শিরকের পরেই সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো মা-বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا
তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো। (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৩) এই আয়াতে আল্লাহ নিজের ইবাদতের পরেই মা-বাবার হকের কথা বলেছেন।
তাদেরকে উফ শব্দটিও বলা নিষেধ। আল্লাহ বলেন, তাদের (মা-বাবার) সঙ্গে ‘উফ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না। (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৩) যেখানে ‘উফ’ বলা হারাম, সেখানে মাকে গায়ে হাত তোলা কত বড় জঘন্য কাজ, তা চিন্তার বাইরে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
ثَلَاثَةٌ قَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِمُ الْجَنَّةَ: مُدْمِنُ الْخَمْرِ، وَالْعَاقُّ، وَالدَّيُّوثُ
তিন ব্যক্তির জন্য আল্লাহ জান্নাত হারাম করেছেন; নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি, মা-বাবার অবাধ্য সন্তান এবং দাইউস। (মুসনাদে আহমাদ: ৫৩৭২)।
অধিকাংশ গুনাহের শাস্তি আল্লাহ কিয়ামতের জন্য তুলে রাখেন, কিন্তু মা-বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই দিয়ে দেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
مَا مِنْ ذَنْبٍ أَجْدَرُ أَنْ يُعَجِّلَ اللَّهُ لِصَاحِبِهِ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا مَعَ مَا يَدَّخِرُ لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْبَغْىِ وَقَطِيعَةِ الرَّحِمِ.
আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আখিরাতে শাস্তি সংরক্ষিত রাখার সাথে সাথে দুনিয়াতেও আল্লাহ তাআলা কর্তৃক শীঘ্রই শাস্তি প্রদানের জন্য ব্যভিচার ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো আর কোনো গুনাহ নাই।
জামে' তিরমিযী
হাদীস নংঃ ২৫১১
আন্তর্জাতিক নং: ২৫১১
অন্য একটি হাদিসে এসেছে, মা-বাবার অবাধ্য সন্তান জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না, যদিও সেই সুঘ্রাণ হাজার বছরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।

