Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

গালিগালাজ করলে কি অজু ভেঙে যায়?

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

গালিগালাজ করলে কি অজু ভেঙে যায়?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

পবিত্রতা অর্জন মুমিনের জীবনের এক অনুপম সৌন্দর্য। আত্মাকে স্নিগ্ধ রাখা এবং প্রভুর দরবারে সিজদানত হওয়ার প্রাথমিক চাবিকাঠি হলো অজু। কেবল নামাজ বা কুরআন তিলাওয়াতই নয়, সার্বক্ষণিক অজু অবস্থায় থাকার আত্মিক ও মানসিক ফজিলত অপরিসীম। এটি মনকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখে। পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবেসে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন—

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তওবাকারী এবং পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২২২)

গালি দিলে কি অজু ভেঙে যায়? ফিকহি বিধান

দৈনন্দিন জীবনে রাগ কিংবা অসাবধানতাবশত অজুর পর মুখ থেকে অশালীন বাক্য বা গালি বের হয়ে গেলে অনেকের মনেই এই সংশয় জাগে যে অজু ভেঙে গেল কি না।

ফিকহি বিধান অনুযায়ী, অজু করার পর কাউকে গালি দিলে সরাসরি অজু ভেঙে যায় না। অজু ভেঙে যাওয়ার নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক কারণ রয়েছে। যেহেতু গালি দেওয়া বা অশালীন কথা বলা অজু ভঙ্গের কারণগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই অজুর পর গালি দিলে অজু নষ্ট হবে না। তবে গালি দেওয়ার কারণে অজুর আধ্যাত্মিক নুর ও পবিত্রতার মাহাত্ম্য বা বরকত কমে যায়। এ জন্য বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ হলো— এমন পরিস্থিতি ঘটলে নতুন করে আবার অজু করে নেওয়া উত্তম।

ইসলামে গালি দেওয়া ও কষ্ট দেওয়ার ভয়াবহতা

অজু না ভাঙলেও কাউকে গালি দেওয়া ইসলামে একটি অত্যন্ত গর্হিত ও কবিরা গুনাহের কাজ। কোনো যৌক্তিক বা অযৌক্তিক কারণেই ইসলামে অন্যকে গালি দেওয়ার বিন্দুমাত্র অনুমতি নেই। এমনকি ঠাট্টা-মশকরা কিংবা হাসি-কৌতুকের ছলেও কাউকে গালি দেওয়া বা গালিগালাজ করা কঠোরভাবে নিন্দনীয়।

কাউকে গালি দেওয়া বা মুখে কষ্ট দেওয়ার ভয়াবহতা সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন—

وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًا

‘যারা বিনা অপরাধে ইমানদার পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে।’ (সুরা আল-আহজাব: আয়াত ৫৮)

অজু শুধু শারীরিক পরিচ্ছন্নতার মাধ্যম নয়, এটি মুমিনের আত্মিক উৎকর্ষ সাধনেরও একটি বড় উপায়। তাই বাহ্যিক পবিত্রতা রক্ষার পাশাপাশি মুখের ভাষাকেও সংযত রাখতে হবে। সব ধরনের অশ্লীলতা ও গালিগালাজ থেকে দূরে থেকে নিজেদের জীবনকে ইবাদত ও সুন্দরের আলোয় আলোকিত করাই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

নারী-পুরুষের পর্দার ধরন কি এক, নাকি ভিন্নতা আছে?

নারী-পুরুষের পর্দার ধরন কি এক, নাকি ভিন্নতা আছে?

রাস্তায় চলার পথে মুমিনের শিষ্টাচার কী?: রাসুলুল্লাহর (সা.) সুন্নাহ ও দিকনির্দেশনা

রাস্তায় চলার পথে মুমিনের শিষ্টাচার কী?: রাসুলুল্লাহর (সা.) সুন্নাহ ও দিকনির্দেশনা

চুপ থাকা কি সব সময় মহৎ গুণ, নাকি কথা বলাও জরুরি

চুপ থাকা কি সব সময় মহৎ গুণ, নাকি কথা বলাও জরুরি

মেহেদি দিয়ে চুল-দাড়ি কালো করার শরয়ি বিধান কী?

মেহেদি দিয়ে চুল-দাড়ি কালো করার শরয়ি বিধান কী?

যে ৫ ক্ষেত্রে মানুষের দোষ গোপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

যে ৫ ক্ষেত্রে মানুষের দোষ গোপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

ল্যাবরেটরিতে তৈরি কৃত্রিম গোশত খাওয়া কি হালাল?

ল্যাবরেটরিতে তৈরি কৃত্রিম গোশত খাওয়া কি হালাল?

আরও পড়ুন

নারী-পুরুষের পর্দার ধরন কি এক, নাকি ভিন্নতা আছে?

নারী-পুরুষের পর্দার ধরন কি এক, নাকি ভিন্নতা আছে?

গালিগালাজ করলে কি অজু ভেঙে যায়?

গালিগালাজ করলে কি অজু ভেঙে যায়?

রাস্তায় চলার পথে মুমিনের শিষ্টাচার কী?: রাসুলুল্লাহর (সা.) সুন্নাহ ও দিকনির্দেশনা

রাস্তায় চলার পথে মুমিনের শিষ্টাচার কী?: রাসুলুল্লাহর (সা.) সুন্নাহ ও দিকনির্দেশনা

চুপ থাকা কি সব সময় মহৎ গুণ, নাকি কথা বলাও জরুরি

চুপ থাকা কি সব সময় মহৎ গুণ, নাকি কথা বলাও জরুরি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম