ইসবগুল কি সত্যিই হজমের জন্য উপকারী?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
ইসবগুল কি সত্যিই হজমের জন্য উপকারী? ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসবগুলের ব্যবহার নতুন নয়। প্রাচীনকাল থেকেই উপমহাদেশে কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটের সমস্যা দূর করতে ইসবগুল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রক্রিয়াজাত খাবারের আধিক্য, আঁশের ঘাটতি ও অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে অন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইসবগুল কী?
ইসবগুল ‘প্ল্যান্টাগো ওভাটা’ উদ্ভিদের বীজের বাইরের খোসা থেকে পাওয়া যায়। বীজ খাওয়া গেলেও স্বাস্থ্যগত কারণে সাধারণত বীজের ভুষি বা খোসা (‘সাইলিয়াম হস্ক’) ব্যবহার করা হয়। এটি হালকা রঙের, স্বাদহীন এবং পানিতে মিশলে জেলি-জাতীয় আকার নেয়, যা এর কার্যকারিতার মূল।
পুষ্টিগত বৈশিষ্ট্য
ইসবগুল মূলত দ্রবণীয় আঁশে সমৃদ্ধ। এতে ক্যালোরি, চর্বি, চিনি বা প্রোটিন খুবই কম। ভিটামিন বা খনিজও উল্লেখযোগ্য নয়। তাই এটি পুষ্টিকর খাদ্য নয়, বরং একটি ‘কার্যকরী খাদ্য উপাদান’, যা মূলত হজম ও অন্ত্রের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে।
হজম ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারিতা
কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে: সাইলিয়াম মলের আর্দ্রতা ও পরিমাণ বাড়িয়ে মলত্যাগ সহজ করে।
ডায়রিয়া ও অনিয়মিত মল নিয়ন্ত্রণ: আলগা মল ঘন করতে এবং শক্ত মলকে নরম করতে সহায়ক।
কোলেস্টেরল কমাতে: দ্রবণীয় আঁশ পিত্ত অ্যাসিডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: গ্লুকোজ শোষণ ধীর করে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে উপকারী।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: পানির সঙ্গে মিশে ফুলে থাকার কারণে পেটে দীর্ঘ সময় পূর্ণতার অনুভূতি দেয়, অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়।
ব্যবহার ও সতর্কতা
- পর্যাপ্ত পানি না খেলে ইসবগুল সঠিকভাবে ফুলে উঠবে না, যা পেটে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
- ওষুধ গ্রহণের এক ঘণ্টা আগে বা পরে নেওয়া উচিত, কারণ এটি কিছু ওষুধের শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সিদ্ধান্ত:
ইসবগুল কোনো ‘ম্যাজিক সমাধান’ নয়, বরং আঁশসমৃদ্ধ কার্যকরী উপাদান। সঠিকভাবে ও পরিমিতভাবে গ্রহণ করলে এটি হজম, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। তবে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা বা নিয়মিত ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ইসবগুলকে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

