|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড এ দাবদাহে আমাদের সবার জীবন হয়ে পড়ছে অতিষ্ঠ। এই গরমে সুস্থ থাকার জন্য সবাই নানান ধরনের উপায় বের করার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকেই প্র্রচণ্ড গরম সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আর অতিরিক্ত গরমের কারণে শরীরে দেখা দিচ্ছে নানা রকম সমস্যা। এতে দেখা দিচ্ছে সূর্যের কড়া চাহনিতে শরীরে পানিশূন্যতা। শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যাওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য। সেই সঙ্গে অস্বাভাবিক এ গরমে হতে পারে হিটস্ট্রোকের মতো মারাত্মক সমস্যাও।
তাই তীব্র গরমে সুস্থ ও সতেজ থাকতে আপনার শরীরে পানিশূন্যতা রোধ করা ভীষণ জরুরি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি, ডাবের পানি ও ফলের শরবত পান করা উচিত। এড়িয়ে চলুন রোদ। সেই সঙ্গে হালকা রঙের সুতির পোশাক পরুন এবং বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
গরমে সুস্থ থাকার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম নিচে দেওয়া হলো—
১. পানিশূন্যতা ও লবণ ঘাটতি
পানিশূন্যতা ও লবণের ঘাটতি মেটাতে না পারলেও দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করুন। কারণ ঘামের কারণে শরীর থেকে যে খনিজ লবণ বের হয়ে যায়, তার ঘাটতি পূরণে লেবুর শরবত, ওরস্যালাইন কিংবা ডাবের পানি পান করুন। চা কিংবা কফি যথাসম্ভব কম পান করুন। কারণ এগুলো আপনার শরীরকে পানিশূন্য করে ফেলে।
২. খাদ্যাভ্যাস ও হজম
খাদ্যাভ্যাস ও হজম ঠিক রাখতে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত বা বাইরের খোলা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। আপনার খাদ্যতালিকায় রাখুন তরমুজ, শসা, টমেটো ও পাকা কলা, যা শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা ও আর্দ্র রাখে। হজমশক্তি ভালো রাখতে টকদই এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে তকমা দানা বা বেলের শরবত খেতে পারেন।
৩. পোশাক ও সতর্কতা
গরমের সময় আরামদায়ক হালকা ও ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন। দুপুরের কড়া রোদ (দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা) এড়িয়ে চলুন। বাইরে বের হওয়ার সময় ছাতা, রোদচশমা (সানগ্লাস) এবং সুতির টুপি ব্যবহার করুন।
৪. শারীরিক পরিচ্ছন্নতা
গরমে ঘামাচি বা ত্বকের নানা সমস্যা এড়াতে নিয়মিত গোসল করুন। অতিরিক্ত ঘেমে গেলে ত্বক মুছে ফেলুন এবং সম্ভব হলে দিনে দুবার গোসল করুন।
৫. হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে
হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে প্রচণ্ড গরমে একটানা ভারি পরিশ্রম করা থেকে বিরত থাকুন। হঠাৎ করে রোদ থেকে এসে এসির ঠান্ডা বাতাসে না বসে কিছুক্ষণ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বিশ্রাম নিন।
এসব নিয়ম মেনে চললে নিজে যেমন সুস্থ থাকা যায়, ঠিক তেমনি পরিবারের অন্য সদস্যদেরও সুস্থ রাখা সম্ভব।
