বারবার ইউরিন ইনফেকশন, যেসব কারণে নারীদের ঝুঁকি বাড়ে
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারীদের মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) একটি পরিচিত স্বাস্থ্যসমস্যা। প্রস্রাবের বেগ ঘন ঘন হওয়া, কিন্তু অল্প পরিমাণ প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাব ঘোলা বা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া এবং প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া—এসব এর সাধারণ লক্ষণ। একবার ইউটিআইয়ে আক্রান্ত হওয়া নারীদের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের ছয় মাসের মধ্যে আবার সংক্রমণ দেখা দেয়।
বারবার এ সংক্রমণ হলে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হতে পারে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এর জন্য নারীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাবকে দায়ী করা ঠিক নয়। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের চিকিৎসাবিষয়ক প্রভাষক ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কল্পনা গুপ্তের মতে, কিছু নারী স্বাভাবিকভাবেই মূত্রনালির সংক্রমণে বেশি আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা নিয়ে জন্মান।
কেন বারবার সংক্রমণ হয়?
মূত্রনালির সংক্রমণের প্রধান কারণ ইশেরিশিয়া কোলাই (ই-কোলাই) নামের ব্যাকটেরিয়া, যা সাধারণত অন্ত্রে বসবাস করে। মলদ্বার থেকে যোনিপথ হয়ে এই ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালিতে প্রবেশ করলে মূত্রথলিতে সংক্রমণ ঘটতে পারে।
মেনোপজের আগে যৌনমিলন এবং স্পার্মিসাইডযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যৌনমিলনের পর মূত্রথলিতে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, স্পার্মিসাইড যোনিপথের উপকারী ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া কমিয়ে দিতে পারে।
মেনোপজের পর যোনিপথে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। পাশাপাশি মূত্রথলির সংকোচনক্ষমতা কমে যাওয়ায় পুরোপুরি প্রস্রাব বের হতে সমস্যা হতে পারে। বংশগত কারণও এতে ভূমিকা রাখে। মা বা বোনের বারবার ইউটিআই হওয়ার ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সাধারণভাবে দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
স্পার্মিসাইডবিহীন বিকল্প জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
শারীরিক সম্পর্কের পর প্রস্রাব করুন।
মেনোপজের পর চিকিৎসকের পরামর্শে যোনিপথে ইস্ট্রোজেন থেরাপি বিবেচনা করুন।
মলত্যাগের পর সামনে থেকে পেছনের দিকে পরিষ্কার করুন।
বারবার সংক্রমণ হলে কী চিকিৎসা?
বারবার ইউটিআই হলে চিকিৎসকের পরামর্শে কম মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে। কারও ক্ষেত্রে ছয় মাস বা তার বেশি সময় প্রতিদিন, কারও ক্ষেত্রে যৌনমিলনের পর এবং কারও ক্ষেত্রে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে ব্যাকটেরিয়ার ওষুধ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা উচিত নয়।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান, শারীরিক সম্পর্কের আগে-পরে প্রস্রাব করা এবং আঁটসাঁট অন্তর্বাস ও জিনস এড়িয়ে চলার মতো অভ্যাসও অনুসরণ করা যেতে পারে। এসব অভ্যাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকলেও ক্ষতিকর নয়।
বারবার সংক্রমণ হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যক্তিভেদে উপযুক্ত প্রতিরোধ ও চিকিৎসার পরিকল্পনা তৈরি করা জরুরি।
সূত্র: হার্ভার্ড হেল্থ পাবলিকেশন্স

