ধূমপান না করলেও নারীদের হতে পারে ফুসফুসের ক্যানসার, নেপথ্যে কী?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফুসফুসের ক্যানসার মানেই ধূমপায়ী পুরুষ—এমন ধারণা দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কখনো ধূমপান করেননি এমন নারীদের মধ্যেও বাড়ছে এই রোগের প্রকোপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণ, পরোক্ষ ধূমপান, জিনগত বৈশিষ্ট্যসহ বিভিন্ন কারণে নারীরা ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন।
নারীদের মধ্যে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্য ল্যানসেট রেসপিরেটরি মেডিসিন সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে নারী ছিলেন প্রায় ৯ লাখ ৮ হাজার। নারীদের ক্ষেত্রে অ্যাডেনোকার্সিনোমা ছিল সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ধরন। মোট আক্রান্ত নারীদের প্রায় ৬০ শতাংশের এই ক্যানসার ধরা পড়ে। গবেষণায় বায়ুদূষণের সঙ্গে নারীদের ফুসফুসের ক্যানসারের উল্লেখযোগ্য সম্পর্কও পাওয়া গেছে।
ভারতের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ২০২২ সালে প্রকাশিত ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, নারীদের ফুসফুসের ক্যানসারের প্রায় ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল অ্যাডেনোকার্সিনোমা।
চিকিৎসকদের মতে, বাতাসে থাকা অতিসূক্ষ্ম কণা বিশেষ করে পিএম ২.৫ ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। যানবাহনের ধোঁয়া, কলকারখানার দূষণ, নির্মাণকাজের ধুলা এবং ঘরে কাঠ বা অন্যান্য জ্বালানি পোড়ানোর ধোঁয়া দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া পরোক্ষ ধূমপান, রেডন গ্যাস, অ্যাসবেস্টস ও আর্সেনিকের সংস্পর্শ, পারিবারিক ইতিহাস এবং জিনগত বৈশিষ্ট্যও ঝুঁকির কারণ।
যেসব উপসর্গ অবহেলা নয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় কাশি, শ্বাসকষ্ট বা বুকে সংক্রমণকে মৌসুমি অ্যালার্জি কিংবা হাঁপানি ভেবে উপেক্ষা করা হয়। ফলে রোগ শনাক্তে দেরি হতে পারে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে কাশি, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, কাশির সঙ্গে রক্ত পড়া, ক্রমবর্ধমান শ্বাসকষ্ট কিংবা বারবার বুকে সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ফুসফুসের ক্যানসারের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি এবং টার্গেটেড থেরাপি দেওয়া হয়। ইজিএফআর মিউটেশন ও এএলকে পরিবর্তন শনাক্তে মলিকিউলার পরীক্ষা ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসা নির্ধারণে সাহায্য করে।
তবে উপসর্গহীন, কখনো ধূমপান করেননি এমন সব নারীর নিয়মিত সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেওয়া হয় না। ঝুঁকি বিবেচনায় চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঘরের বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কখনো ধূমপান না করার অর্থ ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি একেবারে না থাকা নয়। তাই সচেতনতা ও সময়মতো রোগ নির্ণয়ই পারে জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

