চুলের যত্নে কোন তেল কতটা উপকারী?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চুলের শুষ্কতা, ভেঙে যাওয়া, চুল পড়া কিংবা টাক পড়ার সমস্যা কমাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিভিন্ন ধরনের তেল ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মাথার ত্বকে তেল লাগালে চুল দ্রুত বাড়ে—এমন দাবির পক্ষে এখনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
চুলের বৃদ্ধি শুরু হয় মাথার ত্বকের ভেতরে থাকা হেয়ার ফলিকল বা চুলের গোড়া থেকে। চুল কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করে বংশগত বৈশিষ্ট্য, হরমোন, পুষ্টি এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের মতো বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।
তেল সরাসরি চুলের গোড়াকে দ্রুত বাড়তে সাহায্য না করলেও চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে, ঘর্ষণ কমাতে এবং চুল ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
চুলের জন্য কোন তেল বেশি উপকারী?
বিভিন্ন তেলের উপকারিতা ভিন্ন। বিশেষ করে শুষ্ক, রুক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত চুলের যত্নে কিছু তেল বেশ কার্যকর হতে পারে।
নারকেল তেল
গবেষণায় দেখা গেছে, নারকেল তেল চুল থেকে প্রোটিনের ক্ষয় কমাতে এবং চুল ভেঙে যাওয়া রোধ করতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে শুষ্ক ও ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য এটি উপকারী।
আর্গান অয়েল
আর্গান অয়েল চুলের শুষ্কতা, রুক্ষতা ও জট কমাতে সাহায্য করে। ফলে চুল তুলনামূলক নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখায়।
বাদাম তেল
বাদাম তেল চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং সহজে চুল আঁচড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে এই তেলের কার্যকারিতার পক্ষে এখনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
রোজমেরি অয়েল
কিছু প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, রোজমেরি অয়েল চুল পড়ার সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল সরাসরি মাথার ত্বকে ব্যবহার না করে নারকেল বা অন্য কোনো বাহক তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিত।
ক্যাস্টর অয়েল বা রেড়ির তেল
অনেকের ধারণা, ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করলে চুল ঘন ও লম্বা হয়। তবে সরাসরি চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে এই তেলের কার্যকারিতার পক্ষে এখনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সপ্তাহে কতবার চুলে তেল ব্যবহার করবেন?
চুলে তেল ব্যবহারের নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। কারণ, সবার চুলের ধরন ও মাথার ত্বকের অবস্থা এক নয়।
তবে সাধারণভাবে সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন চুল ধোয়ার আগে তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
সারা রাত চুলে তেল লাগিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। আবার প্রতিদিন তেল ব্যবহার করাও জরুরি নয়। কিছু দিন তেল ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে চুল ধুলেও কোনো সমস্যা নেই।
তেল কি চুলকে তাপের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে?
হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার ও কার্লিং আয়রনের অতিরিক্ত ব্যবহার চুল শুষ্ক ও দুর্বল করে দিতে পারে। এতে চুল সহজেই ভেঙে যায়।
তেল চুল নরম রাখতে এবং ঘর্ষণ কমাতে সাহায্য করলেও অতিরিক্ত তাপের ক্ষতি থেকে পুরোপুরি রক্ষা করতে পারে না।
এ জন্য বিশেষজ্ঞরা হিট প্রোটেকশন বা তাপ থেকে চুল সুরক্ষার উপযোগী পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার না করা এবং ভেজা চুল সাবধানে আঁচড়ানো উচিত।
চুল পড়া ও চুল ভেঙে যাওয়া এক বিষয় নয়
চুল পড়া এবং চুল ভেঙে যাওয়াকে বিশেষজ্ঞরা দুটি আলাদা সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করেন। কারণ, এ দুটির কারণও ভিন্ন হতে পারে।
অতিরিক্ত তাপ দিয়ে চুল সাজানো, রাসায়নিক প্রসাধনী ব্যবহার এবং জোরে চুল আঁচড়ানোর কারণে চুল ভেঙে যেতে পারে।
অন্যদিকে, বংশগত বৈশিষ্ট্য, হরমোনের পরিবর্তন, অসুস্থতা, মানসিক চাপ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা পুষ্টির ঘাটতির কারণে চুল পড়তে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়লে, হঠাৎ অতিরিক্ত চুল ঝরতে শুরু করলে কিংবা মাথার ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব বা প্রদাহ দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এ ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে শুধু চুলে তেল ব্যবহার করে মূল কারণ দূর করা সম্ভব নয়।
সুস্থ চুলের জন্য কিছু পরামর্শ
চুল ভালো রাখতে সুষম খাবার খাওয়া জরুরি। প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকা উচিত।
পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং চুলের প্রতি যত্নশীল আচরণও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চুলের যত্নে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদানের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, চুলের কোমলতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখতে এবং চুল ভেঙে যাওয়া কমাতে তেল উপকারী হতে পারে। তবে কোনো তেলই দ্রুত চুল গজানো বা চুলের বৃদ্ধি বাড়ানোর নিশ্চিত সমাধান নয়। চুলের সঠিক যত্নের পাশাপাশি প্রয়োজন সমস্যার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা।
সূত্র: সামা টিভি
