চুল লম্বা ও ঘন করতে চালের পানি কতটা কার্যকর?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চুলের যত্নে চালের পানি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। কেউ এটি চুলে টোনার হিসেবে ব্যবহার করছেন, আবার কেউ সিরাম হিসেবে চুলের পরিচর্যার রুটিনে যুক্ত করছেন। অনেকের দাবি, চালের পানি ব্যবহার করলে চুল দ্রুত লম্বা ও ঘন হয়। তবে এই দাবির পক্ষে কতটা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, চালের পানিতে শ্বেতসার, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং অল্প পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান চুলের পরিচর্যায় কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চালের পানি ব্যবহার করলে চুল দ্রুত লম্বা হবে, ঘনত্ব বাড়বে কিংবা চুল পড়া বন্ধ হবে, এমন দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
চালের পানি চুলে কী প্রভাব ফেলে?
চিকিৎসকরা জানান, চালের পানিতে ইনোসিটল নামের এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। চুলের গোড়া ও চুলের তন্তুর সুরক্ষায় এর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। পরীক্ষাগারে পরিচালিত কিছু গবেষণায় চুলের ক্ষতি কমাতে ইনোসিটলের সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে মাথার ত্বকে চালের পানি ব্যবহার করলে নতুন চুল গজায় বা চুলের ঘনত্ব বাড়ে, এমন প্রমাণ এখনো পর্যাপ্ত নয়।
চালের পানিতে থাকা শ্বেতসার চুলের ওপর সাময়িক একটি আবরণ তৈরি করতে পারে। এতে চুল তুলনামূলক মসৃণ, ঘন ও সহজে আঁচড়ানোর উপযোগী মনে হতে পারে। তবে এটি মূলত চুলের বাহ্যিক সৌন্দর্যের পরিবর্তন। এর অর্থ এই নয় যে চুলের গোড়ার সংখ্যা বেড়েছে বা চুল দ্রুত বাড়ছে।
চুল কতটা লম্বা হবে, তা জিনগত বৈশিষ্ট্য, হরমোন, পুষ্টি, মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য এবং চুল ভেঙে যাওয়ার প্রবণতাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
অতিরিক্ত ব্যবহারে হতে পারে ক্ষতি
চুলে অতিরিক্ত চালের পানি ব্যবহার করলেও সমস্যা হতে পারে। এতে থাকা শ্বেতসার ও প্রোটিনজাতীয় উপাদানের অবশিষ্টাংশ চুলে জমে চুল শক্ত, শুষ্ক বা অগোছালো করে তুলতে পারে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট ধরনের চুলে এ সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া ঘরে তৈরি গাঁজানো চালের পানি সঠিকভাবে প্রস্তুত ও সংরক্ষণ না করলে তাতে জীবাণু জন্মাতে পারে। সংবেদনশীল মাথার ত্বকে এটি ব্যবহারের ফলে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তিও হতে পারে।
চুল পড়লে কী করবেন?
চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিলে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে এর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, হরমোনের পরিবর্তন, পর্যাপ্ত প্রোটিন না খাওয়া, মানসিক চাপ এবং মাথার ত্বকের বিভিন্ন রোগ চুল পড়ার কারণ হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত চিকিৎসার মাধ্যমে চুল পড়ার কারণ শনাক্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

-6added5b71b67.jpg)