দেরিতে শনাক্ত হলে এই ক্যানসার শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রস্রাবে রক্ত দেখা দেওয়া, বারবার প্রস্রাবের চাপ অনুভব করা কিংবা প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, এসব উপসর্গকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু কখনো কখনো এগুলো হতে পারে মূত্রথলির ক্যানসারের সংকেত। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তবে দেরিতে শনাক্ত হলে ক্যানসার আশপাশের টিস্যু ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পুরুষদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি হলেও নারীরাও আক্রান্ত হতে পারেন।
মূত্রথলির ক্যানসার কী?
কিডনি থেকে আসা প্রস্রাব সাময়িকভাবে জমা রাখে মূত্রথলি। পরে প্রস্রাবের মাধ্যমে তা শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। মূত্রথলির কোষে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটলে এবং সেগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেলে ক্যানসার তৈরি হতে পারে।
মূত্রথলির ভেতরের আবরণে থাকা কোষ থেকে সাধারণত এ রোগের উৎপত্তি হয়। এর মধ্যে ইউরোথেলিয়াল কারসিনোমা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমা, অ্যাডেনোকারসিনোমা, স্মল সেল কারসিনোমা ও সারকোমার মতো বিরল ধরনও রয়েছে। ক্যানসার কতটা ছড়িয়েছে, তার ওপর রোগের জটিলতা ও চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ভর করে।
যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন
মূত্রথলির ক্যানসারের অন্যতম প্রধান লক্ষণ প্রস্রাবে রক্ত দেখা দেওয়া। কখনো প্রস্রাবের রং গোলাপি, লাল বা বাদামি হতে পারে। আবার রক্তের উপস্থিতি খালি চোখে বোঝা না গেলেও পরীক্ষায় ধরা পড়তে পারে।
এ ছাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের ধারা থেমে থেমে আসা এবং প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। রোগ অগ্রসর হলে কোমর বা পিঠে ব্যথা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, পা ফুলে যাওয়া, হাড়ে ব্যথা কিংবা প্রস্রাব করতে অসুবিধার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
তবে এসব লক্ষণ থাকলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। মূত্রনালির সংক্রমণসহ বিভিন্ন রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। তারপরও প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিলে বা সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
মূত্রথলির ক্যানসারের সুনির্দিষ্ট কারণ পুরোপুরি জানা না গেলেও ধূমপানকে অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ধূমপানের ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রস্রাবের মাধ্যমে মূত্রথলিতে পৌঁছে কোষের ক্ষতি করতে পারে।
এ ছাড়া বয়স বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট শিল্পকারখানার রাসায়নিক পদার্থের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ, মূত্রথলিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং পরিবারে রোগটির ইতিহাস ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ৫৫ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়। নারীদের তুলনায় পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বেশি।
কীভাবে শনাক্ত ও চিকিৎসা করা হয়?
রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ ও চিকিৎসার ইতিহাস পর্যালোচনা করেন। প্রস্রাব পরীক্ষা, সিস্টোস্কোপি, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করতে সহায়তা নেওয়া হয়। প্রয়োজনে বায়োপসির জন্য টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
ক্যানসারের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি, রেডিওথেরাপি কিংবা বিসিজি থেরাপি দেওয়া হতে পারে। চিকিৎসার পরও রোগটি ফিরে আসার আশঙ্কা থাকায় নিয়মিত ফলোআপ প্রয়োজন।
ঝুঁকি কমাতে করণীয়
ধূমপান ত্যাগ করা, কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে এসব পদক্ষেপ ক্যানসার পুরোপুরি প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দেয় না।
আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, মূত্রথলির ক্যানসার মূত্রথলিতেই সীমাবদ্ধ থাকা অবস্থায় শনাক্ত হলে পাঁচ বছর বেঁচে থাকার হার প্রায় ৯৫ শতাংশ। দূরবর্তী অঙ্গে ছড়িয়ে পড়লে এ হার প্রায় ১৫ শতাংশে নেমে আসে। তাই প্রস্রাবে রক্ত কিংবা প্রস্রাবের অভ্যাসে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে

-6addec06a4e3b.jpg)