Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ওজন কমাতে কার্যকর যে নতুন ওষুধ

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:৫২ এএম

টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ওজন কমাতে কার্যকর যে নতুন ওষুধ

ডায়াবেটিস ও স্থূলতা চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে পরীক্ষাধীন ওষুধ ‘জেনাগামটাইড’।

Advertisement

ডায়াবেটিস ও স্থূলতা চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে ডেনমার্কভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নভো নরডিস্ক-এর পরীক্ষাধীন ওষুধ ‘জেনাগামটাইড’। সাম্প্রতিক এক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ওষুধটি শরীরের ওজন গড়ে ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লুইসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিন্সে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের (এডিএ) বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রকাশিত ফেজ-২ ট্রায়ালের ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষকদের মতে, জেনাগামটাইড এমন একটি ওষুধ যা একই অণুর মধ্যে দুটি ভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়াকে একত্র করেছে। এটি একদিকে জিএলপি-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট হিসেবে কাজ করে, অন্যদিকে অ্যামাইলিন রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট হিসেবেও কার্যকর। ফলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ক্ষুধা কমানো ও ওজন হ্রাসে দ্বৈত সুবিধা পাওয়া যায়।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য

৩৬ সপ্তাহব্যাপী গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের গড় এইচবিএ১সি ছিল ৭.৮ শতাংশ। পরীক্ষায় দেখা যায়, সর্বোচ্চ ৪০ মিলিগ্রাম ডোজ গ্রহণকারীদের এইচবিএ১সি মাত্রা সর্বোচ্চ ১.৭১ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে প্লাসেবো গ্রুপে এই হার ছিল মাত্র ০.১৪ শতাংশ।

এছাড়া পরীক্ষায় অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯১.৪ শতাংশ নির্ধারিত গ্লাইসেমিক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

ওজন কমেছে ১৪.৬ শতাংশ

গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের প্রভাব মূল্যায়ন করা। তবে এর পাশাপাশি ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া গেছে।

অংশগ্রহণকারীদের গড় প্রাথমিক ওজন ছিল প্রায় ৯৯ কেজি। গবেষণায় দেখা যায়, ৪০ মিলিগ্রাম ডোজ গ্রহণকারীদের ওজন গড়ে ১৪.৬ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে প্লাসেবো গ্রুপে ওজন কমেছে মাত্র ২.১ শতাংশ।

গবেষকরা আরও জানান, ৩৬ সপ্তাহ শেষে ওজন কমার গতি থেমে যায়নি। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ওষুধটি ব্যবহার করলে ওজন আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।   

কীভাবে কাজ করে জেনাগামটাইড?

আগে ‘অ্যামিক্রেটিন’ নামে পরিচিত জেনাগামটাইড বর্তমানে উন্নয়নাধীন একটি দ্বৈত-কার্যক্ষম বিপাকীয় ওষুধ। প্রচলিত ওজন কমানোর ওষুধ যেমন সেমাগ্লুটাইড (ওজেম্পিক বা ওয়েগোভি) মূলত একটি হরমোন রিসেপ্টরকে লক্ষ্য করে কাজ করে। কিন্তু জেনাগামটাইড একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন বিপাকীয় পথকে সক্রিয় করে।  

জিএলপি-১ রিসেপ্টর সক্রিয় হয়ে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ায়, রক্তে শর্করা কমায় এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। অন্যদিকে অ্যামাইলিন রিসেপ্টর সক্রিয় হয়ে পেট ভরা অনুভূতি দীর্ঘস্থায়ী করে এবং খাদ্য গ্রহণের প্রবণতা কমায়।

ফলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও গ্লুকোজ ব্যবস্থাপনায় আরও শক্তিশালী প্রভাব তৈরি হয়।

নোভো নরডিস্কের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মার্টিন হোলস্ট ল্যাঙ্গে বলেন, গবেষণার ফলাফল প্রমাণ করে যে জেনাগামটাইড টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি স্থূলতা ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।

ফেজ-২ ট্রায়ালে ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর ওষুধটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা আরও বিস্তৃতভাবে মূল্যায়নের জন্য ‘অ্যামেইজ’ নামে ফেজ-৩ কর্মসূচি ইতোমধ্যে শুরু করেছে নোভো নরডিস্ক।

সূত্র- এনডিটিভি

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম