‘ভুল’ শুধরাতে দুধ দিয়ে গোসলের রীতি কিভাবে এলো?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
‘ভুল’ শুধরাতে দুধ দিয়ে গোসলের রীতি। ছবি: এআই
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইতিহাস, ধর্মীয় আচার, প্রতীকী অর্থ এবং মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সমাজে ‘ভুল’ শুধরে নিতে দুধ দিয়ে গোসল করার প্রচলন দেখা যায়। যদিও অনেকেই এটিকে আধ্যাত্মিক বা সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধ দিয়ে গোসল করা কোনো সংস্কৃতির বাধ্যতামূলক অংশ নয়। বরং এটি ইতিহাস ও বিশ্বাসভিত্তিক কিছু আচার এবং মানুষের মানসিক অভিব্যক্তির মিশ্র রূপ। সাধারণত নিম্নোক্ত কারণগুলো এর সঙ্গে যুক্ত—
১. ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন সংস্কৃতিতে দুধ দিয়ে অভিষেকের রীতি রয়েছে। সেখানে বিশ্বাস করা হয়, দুধ পবিত্রতা দূর করে এবং নতুন শক্তি বা শুদ্ধতার প্রতীক হিসেবে কাজ করে।
২. প্রাচীন সভ্যতাগুলোতে দুধকে পুনর্জন্ম, সমৃদ্ধি ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। সেই বিশ্বাস থেকেই বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে দুধের ব্যবহার প্রচলিত হয়।
৩. মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘রিচুয়ালাইজড বিহেভিয়ার’। অর্থাৎ, মানুষ যখন জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে চায় বা কোনো অধ্যায় শেষ করতে চায়, তখন তারা প্রতীকী কোনো আচারের মাধ্যমে সেটি প্রকাশ করে। যেমন—চুল কেটে ফেলা, পুরনো জিনিস ভেঙে ফেলা বা দুধ দিয়ে গোসল করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধ দিয়ে গোসল করা মূলত একটি প্রতীকী ও নাটকীয় প্রকাশ, যার মাধ্যমে মানুষ তার অতীত ভুলে নতুন শুরুর বার্তা দিতে চায়। তবে বাস্তবে দুধ দিয়ে গোসল করলে অতীত মুছে যায় না। অতীত থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস, মানসিক দৃঢ়তা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা।

