Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

কিডনি রোগীদের ডাবের পানি পানে সতর্কতা

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

কিডনি রোগীদের ডাবের পানি পানে সতর্কতা

Advertisement

গরমে শরীর ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে অনেকেই ডাবের পানি পান করেন। আবার ডায়রিয়া, বমি কিংবা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর দুর্বল ও পানিশূন্য হয়ে পড়লে অনেকের প্রথম পছন্দ হয় খাবার স্যালাইন বা ওআরএস। দেখতে দুটিই উপকারী তরল মনে হলেও শরীরে তাদের ভূমিকা এক নয়। পানিশূন্যতার কারণ ও তীব্রতা অনুযায়ী সঠিক পানীয় বেছে নেওয়া জরুরি।

ডাবের পানিতে প্রাকৃতিকভাবে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরাইড, ভিটামিন সি, অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ নানা পুষ্টি উপাদান রয়েছে। ফলে সুস্থ মানুষের দৈনন্দিন তরলের চাহিদা পূরণে এটি উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে গরমের সময় কিংবা হালকা শরীরচর্চার পর ডাবের পানি শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করতে পারে।

তবে পানিশূন্যতা মোকাবিলায় ডাবের পানি সব ক্ষেত্রে ওআরএসের বিকল্প নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী প্রস্তুত ওআরএসে সোডিয়াম, গ্লুকোজসহ প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইট নির্দিষ্ট অনুপাতে থাকে। ডায়রিয়া, বমি, জ্বর বা অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে গেলে হারানো তরল ও ইলেক্ট্রোলাইট দ্রুত পূরণে এটি বেশি কার্যকর।

কখন ডাবের পানি পান করা যেতে পারে?

সুস্থ মানুষের জন্য ডাবের পানি দৈনন্দিন হাইড্রেশনের একটি ভালো প্রাকৃতিক উৎস হতে পারে। গরমের দিনে, হালকা ব্যায়ামের পর কিংবা ক্ষুধা কম থাকলেও এটি পান করা যায়। এতে থাকা পটাশিয়াম ও অন্যান্য খনিজ শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।

তবে ডাবের পানিতে ওআরএসের তুলনায় সোডিয়ামের পরিমাণ কম। তাই শরীর থেকে যদি প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়, শুধু ডাবের পানি পান করে সেই ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে।

ডায়রিয়া-বমিতে কেন ওআরএস জরুরি?

ডায়রিয়া ও বমির সময় শরীর থেকে দ্রুত পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। ফলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ অবস্থায় ওআরএস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ওআরএসে থাকা গ্লুকোজ ও সোডিয়ামের নির্দিষ্ট অনুপাত অন্ত্রে পানি শোষণে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে শরীরে হারানো পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণ করা যায়। ফুড পয়জনিংয়ের কারণে অতিরিক্ত বমি বা ডায়রিয়া হলেও পানিশূন্যতা প্রতিরোধে ওআরএস ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে পানিশূন্যতা গুরুতর হলে শুধু ঘরোয়া ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ডায়রিয়ায় ডাবের পানি কি ওআরএসের বিকল্প?

ডায়রিয়ার সময় শরীর থেকে যে পরিমাণ পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট বেরিয়ে যায়, ডাবের পানিতে থাকা প্রাকৃতিক খনিজ সবসময় সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারে না। বিশেষ করে সোডিয়ামের ঘাটতি পূরণের ক্ষেত্রে ডাবের পানি ওআরএসের সমতুল্য নয়।

তাই ডায়রিয়া বা বমির সময় পানিশূন্যতা ঠেকাতে ওআরএসকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। প্যাকেটজাত ওআরএস অবশ্যই প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ পরিষ্কার পানিতে মিশিয়ে পান করতে হবে।

কাদের ডাবের পানি পানে সতর্কতা প্রয়োজন?

ডাবের পানিতে পটাশিয়াম থাকায় কিছু মানুষের জন্য অতিরিক্ত পরিমাণে এটি পান করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে কিডনি রোগী, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি এমন মানুষ কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শে পটাশিয়াম গ্রহণ সীমিত রাখতে হয়—এমন ব্যক্তিদের ডাবের পানি পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এ ছাড়া বাজারে পাওয়া প্যাকেটজাত ডাবের পানির পুষ্টিগুণ তাজা ডাবের পানির মতো নাও হতে পারে। তাই প্যাকেটজাত পানীয় কেনার সময় এতে অতিরিক্ত চিনি বা অন্য কোনো উপাদান মেশানো আছে কি না, তা দেখে নেওয়া ভালো।

প্রয়োজন ছাড়া ওআরএস নয়

ডাবের পানি উপকারী হলেও প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পান করা ঠিক নয়। একইভাবে শরীরে পানিশূন্যতা না থাকলে অপ্রয়োজনে বারবার ওআরএস পান করারও দরকার নেই।

কোন পরিস্থিতিতে ডাবের পানি বা ওআরএস প্রয়োজন হবে, তা নির্ভর করে শরীরের অবস্থা এবং পানিশূন্যতার কারণের ওপর। সাধারণভাবে সুস্থ মানুষের দৈনন্দিন হাইড্রেশনের জন্য ডাবের পানি ভালো একটি প্রাকৃতিক পানীয়। অন্যদিকে ডায়রিয়া, বমি বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও লবণ কমে গেলে ওআরএস বেশি কার্যকর।

গুরুতর পানিশূন্যতা, বারবার বমি, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম