Logo
Logo
×
   

লাইফ স্টাইল

ওজন কমাতে ডায়েটের বিকল্প হতে পারে এই ৬ অভ্যাস

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৪ পিএম

ওজন কমাতে ডায়েটের বিকল্প হতে পারে এই ৬ অভ্যাস

ফাইল ছবি

ওজন কমানোর চেষ্টা অনেকের কাছেই ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে। নিয়ম মেনে চেষ্টা করার পরও যখন ওজন কমে না, তখন অনেকের মাঝেই হতাশা তৈরি হয়। দ্রুত ওজন কমানোর নানা ডায়েট, সাপ্লিমেন্ট ও অনলাইন চ্যালেঞ্জের ভিড়ে অনেকেই এক পদ্ধতি থেকে আরেক পদ্ধতিতে ছুটতে থাকেন। 

তবে দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর ডায়েট বা কঠিন ব্যায়ামের চেয়ে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা এবং তা নিয়মিত মেনে চলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

যে ৬ অভ্যাসে কমবে ওজন

প্রতিদিন হাঁটুন

হাঁটা শরীরচর্চার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায়গুলোর একটি। প্রতিদিন আলাদা করে ব্যায়ামের সময় বের করতে না পারলেও দৈনন্দিন কাজের মধ্য দিয়ে হাঁটার পরিমাণ বাড়ানো যায়। যেমন অল্প দূরত্বে গাড়ি ব্যবহার না করে হাঁটা, বাজার করতে হাঁটা কিংবা বাড়ির ভেতর বেশি চলাফেরা করা।

ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রতিদিন ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার পা হাঁটার লক্ষ্য রাখা যেতে পারে। তবে শুরুতেই এই সংখ্যা অর্জন করতে হবে এমন নয়। ধীরে ধীরে হাঁটার পরিমাণ বাড়িয়ে তা দিনের বিভিন্ন সময়ে ভাগ করে নেওয়া যায়।

প্রতি সপ্তাহে ব্যায়াম করুন

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে নিয়মিত শরীরচর্চা গুরুত্বপূর্ণ। একদিন খুব কঠিন ব্যায়াম করে বাকি সপ্তাহ নিষ্ক্রিয় থাকার চেয়ে নিয়মিত ব্যায়াম করা বেশি কার্যকর। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এবং দুই থেকে তিন দিন সহনশীলতা বাড়ানোর ব্যায়াম করা যেতে পারে। প্রতিদিন অত্যন্ত কঠিন ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই; ধারাবাহিকতাই মূল বিষয়।

প্রোটিন ও সবজি বাড়ান

পেশি গঠন ও ধরে রাখতে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে এটি। অন্যদিকে, সবজিতে থাকা ফাইবার হজমশক্তি ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ফিটনেস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, প্রতিটি খাবারে কোনো না কোনো প্রোটিন ও সবজি রাখা উচিত। খাবারের বড় অংশ এই দুই ধরনের উপাদান দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করা যেতে পারে।

স্টার্চ, ভাজা ও মিষ্টি খাবার কমান

ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মিষ্টি, বেশি চর্বিযুক্ত ও স্টার্চসমৃদ্ধ খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে পছন্দের খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমাণ ও খাওয়ার ফ্রিকুয়েন্সি কমানোই বেশি বাস্তবসম্মত। তাদের মতে, প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া এবং অতিরিক্ত তেল, চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার কমানো উচিত।

অতিরিক্ত খাবেন না

স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়তে পারে। তাই খাবারের ধরন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কতটা খাওয়া হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কী খাচ্ছেন তা মূলত স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে, আর কতটা খাচ্ছেন তা শরীরের ওজন, আকার ও গঠনের ওপর প্রভাব ফেলে।

পর্যাপ্ত ঘুমকে গুরুত্ব দিন

ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ঘুমকে অনেক সময় উপেক্ষা করা হয়। অথচ পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের পুনরুদ্ধার, শক্তি ও দৈনন্দিন রুটিন ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের ঘাটতি হলে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া, ব্যায়াম করা এবং নিয়ম মেনে চলা কঠিন হয়ে যেতে পারে। প্রতিদিন অন্তত ছয় ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। সম্ভব হলে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।

ওজন কমানোর জন্য শুধু খাবার বা ব্যায়াম নয়, পর্যাপ্ত ঘুমসহ এসব অভ্যাস নিয়মিত মেনে চলাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম