অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের চিকিৎসায় নবদিগন্ত: নতুন ওষুধ অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
উন্নত পর্যায়ের অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এবার আশার আলো দেখাচ্ছে নতুন একটি ওষুধ। মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) চলতি বছরের ২৬ আগস্ট ‘ড্যারাক্সনরাসিব’ নামে এই নতুন ওষুধের অনুমোদন দিয়েছে। বাজারে এটি ‘রাসনক’ নামে বিক্রি হবে।
অন্তত একটি পূর্ববর্তী থেরাপি গ্রহণ করেছেন বা জটিল কেমোথেরাপির জন্য অনুপযুক্ত এমন মেটাস্ট্যাটিক প্যানক্রিয়াটিক অ্যাডেনোকার্সিনোমা আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের দিনে একবার সেবনের জন্য ওষুধটি অনুমোদন পেয়েছে। এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত অন্যতম প্রধান গবেষক ড. শুভম পান্ত একে ‘গত ৫০ বছরে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় সাফল্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ড্যারাক্সনরাসিব মূলত একটি ‘RAS(ON)’ মল্টিসেলেক্টিভ ইনহিবিটর, যা ক্যানসার কোষ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা অনিয়ন্ত্রিত রাস প্রোটিনকে নিস্তেজ করে কাজ করে। অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ রূপ ‘প্যানক্রিয়াটিক ডাক্টাল অ্যাডেনোকার্সিনোমা’ (পিডিএসি)-তে ৯০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে এই প্রোটিনের মিউটেশন দেখা যায়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই প্রোটিনকে লক্ষ্য করে ওষুধ তৈরি করা চ্যালেঞ্জিং হলেও, এই নতুন ওষুধটি নির্দিষ্ট একটি মিউটেশনের বদলে বিভিন্ন রাস ভ্যারিয়েন্টের সংকেত পাঠানো বন্ধ করতে সক্ষম।
নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত ‘RASolute 302’ পর্ব-৩ ট্রায়ালে ৫০০ জন রোগীর ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, প্রচলিত কেমোথেরাপিতে রোগীদের গড় বেঁচে থাকার মেয়াদ যেখানে ছিল ৬.৭ মাস, সেখানে ড্যারাক্সনরাসিব সেবনে তা বেড়ে ১৩.২ মাসে দাঁড়ায়। এ ছাড়া ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে থাকার গড় সময় ৩.৬ মাস থেকে বেড়ে ৭.২ মাসে পৌঁছানোর পাশাপাশি মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ওষুধটিতে কেমোথেরাপির তুলনায় মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হারও কিছুটা কম পরিলক্ষিত হয়েছে।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে ওষুধটির কিছু সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে; যেমন—র্যাশ, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, মুখে ঘা এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি। ফলে এটি সেবনকালে রোগীদের চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন যে ড্যারাক্সনরাসিব অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের সম্পূর্ণ নিরাময় নয়, বরং এটি রোগীর আয়ু বাড়াতে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এটি বর্তমানে কেবল মার্কিন এফডিএ কর্তৃক অনুমোদিত, তাই বিশ্বের অন্যান্য দেশে রোগীদের ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় ড্রাগ কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
সূত্র: এনডিটিভি লাইফলাইন

