প্রস্রাবের সময় যে ৬ ভুল ডেকে আনতে পারে মারাত্মক ক্ষতি
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
প্রতীকী ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রস্রাবের ভুল অভ্যাস ও অযথা ঘনঘন টয়লেটে যাওয়ার প্রবণতা মূত্রাশয় এবং পেলভিক ফ্লোরের (শ্রোণিদেশের পেশি) মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, ভুল কৌশলে প্রস্রাব করার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে নারীদের পেলভিক অর্গান প্রল্যাপ্স (অঙ্গ নেমে আসা) এবং মূত্রনালির সংক্রমণের মতো জটিল সমস্যার কারণ হতে পারে।
সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা পেলভিক ফ্লোরের সুস্থতায় কিছু ক্ষতিকর অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
যেসব অভ্যাস অবিলম্বে পরিহার করা উচিত—
১. প্রস্রাবের সময় কিগেল ব্যায়াম: অনেকে প্রস্রাব থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পেলভিক ফ্লোরের শক্তি পরীক্ষা করেন। তবে গবেষকদের মতে, মূত্রপ্রবাহ বারবার বাধাগ্রস্ত করলে পেলভিক ফ্লোরের স্বাভাবিক শিথিলতা ব্যাহত হয় এবং মূত্রাশয় পুরোপুরি খালি হতে পারে না। ফলে এই ব্যায়াম কেবল মূত্রাশয় সম্পূর্ণ খালি থাকা অবস্থায় করা উচিত।
২. ‘পাওয়ার পিইং’ বা চাপ দিয়ে প্রস্রাব করা: তাড়াহুড়ো করে বা পেটের পেশিতে চাপ দিয়ে দ্রুত প্রস্রাব করার অভ্যাসকে ‘পাওয়ার পিইং’ বলা হয়। দীর্ঘমেয়াদে এভাবে চাপ দেওয়ার ফলে মূত্রাশয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যা পেলভিক অর্গান প্রল্যাপ্সের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
৩. কমোডের ওপর ভেসে থাকা: টয়লেট সিটে পুরোপুরি না বসে কিছুটা ওপর ভেসে প্রস্রাব করলে পেলভিক ফ্লোরের পেশি সংকুচিত হয়ে থাকে। ফলে মূত্রাশয় পুরোপুরি খালি হতে পারে না। তাই টয়লেট সিটে সঠিকভাবে বসে শরীরের পেশি শিথিল রাখা উচিত।
৪. ‘যদি লাগে’ ভেবে আগাম টয়লেটে যাওয়া: মূত্রের কোনো চাপ না থাকা সত্ত্বেও কেবল ‘যদি পরে লাগে’ ভেবে টয়লেটে যাওয়া উচিত নয়। সাধারণত দিনের বেলা প্রতি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পরপর স্বাভাবিক চাপ অনুভব করলেই টয়লেটে যাওয়া উচিত।
৫. পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া: পানিশূন্যতার ফলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, যা মূত্রাশয়ের ভেতরের দেয়ালকে উত্তেজিত ও বিরক্ত করতে পারে।
৬. মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত কোঁথ দেওয়া: কোষ্ঠকাঠিন্য বা খাবারে আশের অভাবে মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দিলে পেটের ভেতরের চাপ অনেক বেড়ে যায়। এটি ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স বা প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার অন্যতম প্রধান কারণ।
কেন সঠিক কৌশল জানা জরুরি?
মাউন্ট সিনাই-এর আইকান স্কুল অব মেডিসিনের ইউরোলজি বিষয়ের অধ্যাপক ডা. অ্যালেক্সিস ই. টি জানান, প্রস্রাবের সময় পেলভিক ফ্লোর পেশির একটি সুনির্দিষ্ট সমন্বয় প্রয়োজন। প্রস্রাব যেন সহজে বেরিয়ে যেতে পারে সেজন্য পেশিগুলোর শিথিল হওয়া প্রয়োজন। তাড়াহুড়ো করা বা চাপ দেওয়ার ভুল অভ্যাসের কারণে এই সমন্বয় নষ্ট হয়, যা থেকে প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা, ঘনঘন প্রস্রাবের বেগ এবং বারবার ইউটিআই হতে পারে।
কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন?
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ইউরোলজিস্ট ডা. ওমর আনিস জানান, সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলতে সমস্যা হলে পেলভিক ফ্লোর থেরাপিস্টের সাহায্য নেওয়া উচিত। বিশেষ করে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন:
- হুটহাট প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা।
- প্রস্রাব শুরু করতে বা মূত্রাশয় পুরোপুরি খালি করতে কষ্ট হওয়া।
- দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা তলপেটে ভারি অনুভূতি।
- পেলভিক অঞ্চলে ব্যথা বা শারীরিক মিলনের সময় অস্বস্তি।
- সন্তান প্রসব-পরবর্তী সময়ে পেলভিক পেশির দুর্বলতা।

