পেট খারাপের পর সুস্থ হতে যে ৩ খাবার উপকারী
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পেটের সমস্যায় কমবেশি সবাইকেই কখনো না কখনো ভুগতে হয়। পেটের অস্বস্তি কমে এলে এবং ধীরে ধীরে ক্ষুধা ফিরে আসতে শুরু করলে কী খাওয়া উচিত, তা নিয়ে অনেকেরই দ্বিধা থাকে। কারণ এ সময় ভুল কোনো খাবার খেলে আবারও পেটের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা এ পর্যায়ে সহজপাচ্য ও আরামদায়ক কিছু খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন।
সেদ্ধ আপেল বা নাশপাতি
পেটের সমস্যা থেকে সেরে ওঠার সময়ে সেদ্ধ আপেল বা নাশপাতি খেতে পারেন। ফল কেটে পানিতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট সেদ্ধ করে নরম করে নিতে হবে। এরপর চাইলে গরম বা ঠান্ডা—দুইভাবেই খাওয়া যায়।
আপেল ও নাশপাতিতে থাকা পেকটিন বা দ্রবণীয় ফাইবার হজমতন্ত্রকে স্বস্তি দিতে এবং ধীরে ধীরে ক্ষুধা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি এসব ফলে থাকা পলিফেনল ও প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদও শরীর ও মনকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
দই ও বাটারমিল্ক
তালিকার দ্বিতীয় খাবার হলো দই ও বাটারমিল্ক। এতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং পেটের অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি কিংবা হজমের সাধারণ সমস্যায় এগুলো উপকারী হতে পারে।
পেট খারাপের পাশাপাশি যদি মনমরা ভাব, সামান্য মাথাব্যথা কিংবা সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ থাকে, তাহলে দই বা বাটারমিল্কে অল্প লবণ মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ভাত
সেরে ওঠার সময়ে সবচেয়ে পরিচিত ও সহজ খাবার হতে পারে ভাত। সামান্য লবণ ও গোলমরিচ দিয়ে ভাত সেদ্ধ করে রাইস স্যুপ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। চাইলে সাধারণ ডাল-ভাত, খিচুড়ি কিংবা সামান্য লবণ ও অল্প ঘি দিয়ে ভাতও খেতে পারেন।
এসব খাবার তুলনামূলকভাবে হালকা ও সহজপাচ্য হওয়ায় পেট স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সময়ে আরাম দিতে পারে।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
পেটের সমস্যা থেকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত কিছু খাবার থেকে দূরে থাকা ভালো। বিশেষ করে প্যাকেটজাত ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে কোল্ড ড্রিংকস, চিপস, চকোলেট, প্যাকেটজাত জুস, এনার্জি ড্রিংকস ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়।
এ ছাড়া প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় পনির, ডিম, অন্যান্য আমিষ খাবার এবং কাঁচা সালাদ না খাওয়াই ভালো। পেট পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত সহজ, হালকা ও সাধারণ খাবার বেছে নিলে অস্বস্তি কমানোর পাশাপাশি দ্রুত স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরতে সহায়তা করতে পারে।

