রাত ৯টার পর রাতের খাবারে হৃদস্বাস্থ্যে যেসব প্রভাব পড়ে
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কাজ শেষ করে বাসায় ফিরতে দেরি হওয়া, দীর্ঘ যানজট কিংবা ব্যস্ততার কারণে অনেকেরই রাতের খাবার খেতে দেরি হয়। কেউ কেউ আবার ক্ষুধা লাগার অপেক্ষায় রাতের খাবার খান।
তবে নিয়মিত রাত ৯টার পর খাবার খাওয়ার এই অভ্যাস হৃদস্বাস্থ্যের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে কিনা, তা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে গবেষকদের আগ্রহ বেড়েছে।
গবেষকরা জানান, শুধু কী খাওয়া হচ্ছে তা নয়, কখন খাওয়া হচ্ছে—হৃদস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও সেটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ২০২৩ সালের একটি বড় গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে তারা বলেন, খাবার গ্রহণের সময়ের সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক থাকতে পারে।
গবেষণাটিতে এক লাখের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীদের খাবার গ্রহণের সময় এবং হৃদরোগের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক পর্যবেক্ষণ করা হয়। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গবেষণায় ১ লাখ ৩ হাজার ৩৮৯ জন প্রাপ্তবয়স্ককে গড়ে ৭ দশমিক ২ বছর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এ সময়ে করোনারি হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্ষণস্থায়ী ইস্কেমিক অ্যাটাকসহ মোট ২ হাজার ৩৬টি নতুন হৃদরোগজনিত ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়।
দেরিতে খেলে কী হতে পারে?
চিকিৎসকরা জানান, খাবার গ্রহণের সময় শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত। মানুষের শরীরে ২৪ ঘণ্টার একটি প্রাকৃতিক ছন্দ রয়েছে, যাকে সার্কাডিয়ান রিদম বলা হয়। এটি ঘুম, হরমোন, রক্তচাপ ও বিপাকীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
তাদের মতে, খুব দেরিতে অথবা অনিয়মিত সময়ে খাবার খেলে এই স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এর ফলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, ইনসুলিনের কার্যকারিতা এবং কর্টিসলের মাত্রার মতো বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এসব পরিবর্তন হৃদস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
কখন রাতের খাবার খাবেন?
গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে চিকিৎসকরা বলেন, যাদের রাতের শেষ খাবার রাত ৯টার পর, তাদের মধ্যে মস্তিষ্কের রক্তনালিসংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি রাত ৮টার আগে শেষ খাবার গ্রহণকারীদের তুলনায় বেশি দেখা গেছে।
মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত বা ব্যাহত হলে যে ধরনের রোগ হতে পারে, তার মধ্যে স্ট্রোক, মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজম ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের মতো গুরুতর পরিস্থিতি রয়েছে।
গবেষণায় দেরিতে রাতের খাবার খাওয়ার সঙ্গে দেরিতে ঘুমাতে যাওয়া এবং খাবারের সময়ের অনিয়মের মতো জীবনযাপনগত বিষয়গুলোরও সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেন, রাত ৯টার পর খাবার খেলেই যে হৃদরোগ হবে, এমনটা বলা যায় না। কারণ গবেষণাটি ছিল পর্যবেক্ষণভিত্তিক। ফলে এতে খাবারের সময় ও হৃদরোগের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, কিন্তু সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে রাতের খাবারের সময়ও যতটা সম্ভব নির্দিষ্ট রাখা এবং ঘুমের সময়ের খুব কাছাকাছি ভারী খাবার না খাওয়াই ভালো।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

-6a9ec95482b3d.jpg)