Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখার অভ্যাস হৃদযন্ত্রের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম

ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখার অভ্যাস হৃদযন্ত্রের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ

ফাইল ছবি

Advertisement

ঘুম থেকে ওঠার পরই মোবাইল ফোন হাতে নেওয়া অনেকেরই নিত্যদিনের অভ্যাস। চোখ খোলার সঙ্গে সঙ্গে ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নোটিফিকেশন, সংবাদ কিংবা অফিসের বার্তা দেখা হয়। তবে আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ এই অভ্যাস শরীরে স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদে হৃদস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা।

ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখা হৃদযন্ত্রের জন্য সরাসরি ক্ষতিকর কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সমস্যাটি ফোন নিজে নয়; বরং দিনের প্রথম কয়েক মিনিটে ফোনের মাধ্যমে শরীর কী ধরনের উদ্দীপনার মুখোমুখি হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ঘুম থেকে ওঠার সময় শরীর স্বাভাবিকভাবে ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়। এ সময় কর্টিসল, হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ‘মর্নিং সার্জ’ বলা হয়, যা শরীরের সার্কাডিয়ান রিদমের অংশ। সকাল ৬টা থেকে ১০টার মধ্যে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো হৃদরোগজনিত ঘটনা বেশি ঘটার অন্যতম কারণ হিসেবেও এই সময়ের শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনকে বিবেচনা করা হয়।

চিকিৎসকদের মতে, ঘুম থেকে উঠেই কাজের ই-মেইল, উদ্বেগজনক খবর, অসংখ্য নোটিফিকেশন কিংবা সকাল ৯টার অনলাইন মিটিংয়ের রিমাইন্ডার দেখলে স্নায়ুতন্ত্র দ্রুত ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ অবস্থায় চলে যেতে পারে। এতে অ্যাড্রেনালিন হঠাৎ বেড়ে গিয়ে হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়, রক্তনালি সংকুচিত হয় এবং রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।

তবে একদিন এমন অভ্যাস করলেই বড় ধরনের ক্ষতি হবে, এমন নয়। কিন্তু প্রতিদিন সকাল যদি মানসিক চাপ দিয়ে শুরু হয়, দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব জমতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ উচ্চ রক্তচাপ, ঘুমের মান খারাপ হওয়া, ইনসুলিন প্রতিরোধ এবং রক্তনালির অভ্যন্তরীণ আবরণের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।

হৃদ্স্বাস্থ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পর্যাপ্ত ঘুম। রাতে দীর্ঘ সময় ফোন স্ক্রল করার পর সকালে ঘুম থেকে উঠেই আবার ফোন ব্যবহার করলে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। অপর্যাপ্ত ঘুম হার্ট অ্যাটাক, হৃদস্পন্দনের অনিয়ম এবং বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

চিকিৎসকরা বলেন, তরুণদের মধ্যেও উদ্বেগ, বুক ধড়ফড় ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা বাড়ছে। অনেকের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে কম ঘুম এবং ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই চলতে থাকা ডিজিটাল মানসিক চাপের যোগসূত্র রয়েছে।

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে ফোন পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট ফোন ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। এ সময় পানি পান করা, শরীরকে ধীরে ধীরে জাগতে দেওয়া এবং কিছুটা হাঁটাচলা করা যেতে পারে। পাশাপাশি ওই সময় সংবাদ ও অফিসের বার্তা এড়িয়ে চলা এবং প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত কাজের অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন তারা।

ফোন শোবার ঘরের বাইরে চার্জে রাখা কিংবা সকালে ফোনের গ্রেস্কেল মোড চালু করলেও এর আকর্ষণ কমানো সম্ভব।

চিকিৎসকদের মতে, সকালে ফোন দেখলেই পরদিন হার্ট অ্যাটাক হবে—বিষয়টি এমন নয়। তবে প্রতিদিনের সকাল যদি উদ্বেগ ও মানসিক চাপ দিয়ে শুরু হয় এবং স্বাস্থ্যকর কোনো রুটিন না থাকে, দীর্ঘমেয়াদে সেই অভ্যাস হৃদস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম